‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অনুষ্কা শর্মার প্রযোজনার ছবি ‘‌বুলবুল’‌ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা তুঙ্গে। নেটফ্লিক্স- এ এখন এই ছবিটিই এক নম্বর ট্রেন্ডিং। উনিশ শতকের বাংলার জমিদারি ও বাংলার সেই লোকায়ত ভূতের গল্প নিয়ে টানটান বসিয়ে রেখেছে দর্শককে। পদে পদে সত্যজিৎ, রবীন্দ্রনাথের ‘‌চারুলতা’‌, ‘‌চোখের বালি’‌, ‘‌মণিহারা’‌ বা ‘‌পথের পাঁচালী’‌- এর ছায়ায় নারীবাদী ছবি বানালেন পরিচালক অন্বিতা দত্ত গুপ্তান।  
আর সেই ছবিতে আমাদেরই এক বঙ্গসন্তান শুভাশিস ঘোষ বড় বড় তারকাদের সঙ্গে সমান তালে পা মিলিয়ে অভিনয় করেছেন। শুনে নিই তাঁর কাছে তাঁর অভিজ্ঞতা।

 

 

●‌ ‘‌বুলবুল’‌ এখন নেটফ্লিক্সে ট্রেন্ডিং। সেই ছবিটার একজন অংশ হয়ে তোমার কী মনে হয় ট্রেন্ডিং হওয়ার মতো কী আছে ছবিটাতে?‌
যখন আমি একজন দর্শক হয়ে ছবিটা দেখলাম, তখন যেন আরও নতুন করে আমার কাছে ছবিটার নতুনত্বগুলো ধরা পড়ছিল। এক, যেভাবে গল্পটা বলা হয়েছে তা একজন দর্শককে মগ্ন করে দেওয়ার মতো। সেই ছোটবেলা থেকে আমাদের দাদু ঠাকুমার কাছে বসে ভূতের গল্প শোনার মতো অনেকটা। দুই, যেভাবে বাঙালিয়ানার ছোটখাটো মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে, কোনও হিন্দি ছবিতে সেটা হয় না। তিন, সিদ্ধার্থদার ক্যামেরার কাজ অসামান্য। আর চার, আমি বলব, এত ভাল গ্রাফিক্সের কাজ ভারতের কম ছবিতেই দেখা যায়। আমার ধারণা এই ‌কয়েকটা বিষয় ‘‌বুলবুল’‌- এর জন্য যাকে বলে ক্লিক করে গিয়েছে। আর তাই হয়ত এত চর্চা হচ্ছে চারদিকে।

● তোমার অভিনয় জীবনে এই ছবিটার গুরুত্ব সবথেকে বেশি কেন? সেটা কি কেবল ব্যানারের জন্যই?‌
‌আমি এর আগেও বড় ব্যানারের ছবিতে অভিনয় করেছি, কলকাতা ইন্ডাস্ট্রিতেও। আবার মুম্বইতেও। কিন্তু এই ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে আমার অ্যাড্রিনালিন রাশ হয়েছে তার একমাত্র কারণ আমার চরিত্রটা। যেভাবে উনিশ শতকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে একটা রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছে তাও আবার হররের মাধ্যমে, সেটা আমার কাছে ভীষণ নতুন। হ্যাঁ ব্যানার তো খুব গুরুত্বপূর্ণ বটেই। কিন্তু ছবির বিষয়বস্তু এবং আমার চরিত্রের শেডটাকে মাথায় রাখলে সেটাকেই আমি গুরুত্ব দেব বেশি। যে গল্পগুলো আমি ছোটবেলায় শুনে এসেছি, সেটার মধ্যে দাঁড়িয়ে অভিনয় করার অভিজ্ঞতাই আলাদা। তার সঙ্গে বাদবাকি কলাকুশলীদের অভিনয়ের প্রশংসা তো করতেই হবে।

● ব্রিটিশ রাজের কোতোয়াল, এরকম চরিত্র সমকালীন ছবির পর্দায় খুব একটা দেখা যায় না। তোমার কাছে এই চরিত্রটি অভিনয় করার জন্য উদাহরণ কী ছিল?‌
অভিনয় করার জন্য উদাহরণস্বরূপ একটা চরিত্র মাথায় থাকলে তো সুবিধাই হয়। কিন্তু হুবহু সেরকম পাওয়াটাও মুশকিল। যাকে দেখে আমি হোমওয়ার্ক করতে পারব। আমি নিজেই খানিক পড়াশোনা করেছি। তখনকার মানুষ কীভাবে চলাফেরা করত, কথা বলত। সবথেকে বড় কথা পরিচালকের অবদান এখানে অনেকটাই। তবে হ্যাঁ দুটো ছবির কথা আমি বলব, যেগুলো আমার মাথায় ঘোরাফেরা করেছে। সুভাষচন্দ্র বোসের জীবনী নিয়ে একটি ছবি 'সুভাষচন্দ্র' ও বিকাশ রায়ের একটি ছবি 'বিয়াল্লিশ'। এই ছবি দু'টোয় আমি চরিত্রদের চালচলন আত্মস্থ করার চেষ্টা করেছি।

● এরকম একটি শক্তিশালী নারীবাদী ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে তোমার কোনও উপলব্ধি হয়েছে?‌
একজন দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকেই বলব, সত্যি একজন মহিলাকে সমাজের বা নিত্যনৈমিত্তিক পরিবারের কাঠামোতে কতকিছু সহ্য করে নিতে হয় তা আমরা ভাবতেও পারি না। তার ওপরে এখানে বিত্তশালী এক পরিবারের কথা বলা হচ্ছে। ছবিটির একটি সংলাপে অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যায়, ‘‌একটা বড় বাড়ির অন্দরমহলে এমন অনেক কিছুই ঘটে, যা বাইরে বলতে নেই।’‌ তাঁদের সঙ্গে হয়ে চলা সব অপরাধকেই চেপে রাখতে হয় মহিলাদের।

● এই ছবিটার অফার তোমার কাছে কীভাবে এসেছিল?‌ 
এই উত্তরটা দিতে হলে আমায় একটি ফ্ল্যাশব্যাকে যেতে হবে। কলকাতায় রূপকলা কেন্দ্র ফিল্ম ইন্সটিটিউটে প্রথম অভিনয় করা। তারপর টুকটাক থিয়েটার চর্চা। কাজের অফার আসে কলকাতার বড় ব্যানারে। ‘‌তিন পাত্তি’‌, ‘‌নবাব’‌ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করি। তারপর মাত্র চার হাজার টাকা নিয়ে এক বন্ধুর ভরসায় মুম্বই শহরে পাড়ি দিই। বন্ধুর হাতটা কাঁধে ছিল সবসময়। তারপর হঠাৎই ‘‌অল ইন্ডিয়া বাকচোদ’‌- এর একটি ভিডিওতে সুযোগ পেয়ে যাই। অভিষেক ব্যানার্জির তাঁর ‘‌কাস্টিং বে’‌ সংস্থায় কাস্টিংয়ের কাজ দেন আমায়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে অভিনয়ের লক্ষে পা বাড়ানো। ‘‌কমান্ডো ৩’‌, ‘‌অর্জুন পাটিয়ালা’‌ এবং এই ‘‌বুলবুল’‌ ছবিতে কাজ করার সুযোগ পাই।

● এত বড় ব্যানারের ছবিতে অভিনয় করার সময়ে কোনও ঠোক্কর খেতে হয়েছে কি?‌
এখানে আমি একটা কথাই বলব, চরিত্র ও নায়কের দূরত্ব ও গুরুত্ব বড় ব্যানারে একটু বেশিই চোখে পড়ে।

● তোমার মতো আরও কত কত ছেলেমেয়ে বলিউডে পা দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে৷ বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে, যেখানে নেপোটিজম বা স্বজনপোষণের এরকম রমরমা, তোমার কি মনে হয় তাদের স্বপ্ন সফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে আদৌ?
আমার মতে, স্বপ্ন দেখা আর লড়াই করা এ’‌দুটো জিনিস বন্ধ করলে চলবে না। নেপোটিজম কোথায় নেই? জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে আছে। যদি নিজে অনুশীলনে কোনও ঢিলেমি না দিই তাহলে কখনও না কখনও কোনও একটা সুযোগ আমার পায়ে এসে ঠেকবেই। মাত্র চার হাজার টাকা নিয়ে এসেছিলাম। আজ অবধি আমাকে কলকাতা ফিরে যেতে হয়নি। কাজ পাচ্ছি। তাই আমি নিজের ক্ষেত্রে বললে, অনুশীলন বজায় রাখব, লড়াই জারি রাখব আর স্বপ্ন দেখাটা বন্ধ করব না।

● তোমার এর পরে কী পরিকল্পনা?‌ কীরকম কাজ আছে হাতে?‌ 
লকডাউনের আগে নেটফ্লিক্স ও অ্যামাজনের সঙ্গে দু’‌টো ওয়েব প্রজেক্টের কথা হয়েছিল। মুম্বই এখন ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে। আমার ধারণা কাজগুলো এবার গতি পাবে। আর পাশাপাশি কলকাতার কিছু প্রজেক্টেও সুযোগ এসেছে। দেখা যাক এখন কী হয়।

জনপ্রিয়

Back To Top