অলোকপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়: • বহুদিন সঙ্গীত পরিচালনা করার পর এই প্রথম সিনেমার পরিচালক। এবং প্রথম ছবি ‘‌কেদারা’‌ জিতে নিল স্পেশাল জুড়ি অ্যাওয়ার্ড। দ্বিতীয় ছবি শুরুর আগে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী  লাগছে?‌
•• আসলে, জাতীয় পুরস্কারের আসরে এই স্পেশাল জুড়ি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা ফিচার ফিল্মকে। তাই, এটা সত্যিই একটা বড় সম্মান। হ্যাঁ, অবশ্যই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল এই পুরস্কার। অন্তত, আমি যে ধরনের ছবি বানাতে চাই, সেই পথেই যে থাকতে পারব এই পুরস্কার সেই ভাবনাটায় অনেকটা জোর এনে দিল। পরিচালক হিসেবে অন্যদের কাছে অত নম্বর তো পাচ্ছিলাম না। ফলে, আমার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিল এই পুরস্কার।
• এই গ্রহণযোগ্যতাটা কাদের কাছে?‌ সমকালীন পরিচালকদের কাছে, নাকি দর্শকদের কাছে?‌
•• প্রথমত এবং প্রধানত দর্শকদের কাছে। আমার এই ছবি ফেস্টিভ্যালে দেখানো হলেও এখনও তো সিনেমা হলে রিলিজ করেনি। ফলে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার জন্য কুড়ি পার্সেন্ট বেসিক অডিয়েন্স বা সাধারণ দর্শক আমি পেয়ে গেলাম। আমার কাজ হবে আমার সিনেমা দিয়ে সেই দর্শকটাকে বাড়ানো। তবে, তার জন্যে আমি কোনও কমপ্রোমাইজ করব না। আমি সেই গল্পই বলব, যা আমার বলতে ইচ্ছে করবে।
• আপনার প্রযোজক নিশ্চয়ই খুশি প্রথমবারের পরিচালকের ওপর ভরসা করার জন্যে?‌
•• অবশ্যই। আমার ‘‌কেদারা’‌র প্রযোজক সমীরণ দাস আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন প্রথম মিটিং থেকেই। আমাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। তিনি এই সম্মান-‌প্রাপ্তিতে খুবই খুশি।
• পরবর্তী ছবির প্রযোজকও কি তিনিই?‌
•• না, আমার তৃতীয় ছবি উনি প্রযোজনা করবেন।
• দ্বিতীয় ছবি কি বাবা, মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে?‌ অপু?‌
•• ওটা একটু পিছিয়েছে। ওটাই তৃতীয় ছবি হবে।
• দ্বিতীয় ছবি কী?‌ কী বিষয়?‌
•• দ্বিতীয় ছবির নাম ‘‌আগন্তুক’‌। আজকালকার দিনে বহু সিনিয়র সিটিজেন এই শহরে একা থাকেন। তাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে। প্রতিবেশী বা অন্য আত্মীয়স্বজনরা তাদের বাড়তি মনে করে। মানবিক সম্পর্কই আমার ছবির কেন্দ্রে।
• কারা অভিনয় করছেন?‌
•• আবির, সোহিনী, পদ্মনাভ, বেনী, নীল এরা আছে।
• কবে শুটিং শুরু?‌
•• ২৪ আগস্ট থেকে।
• ‘‌কেদারা’‌ কবে মুক্তি পাবে?‌
•• নভেম্বরে।
• ‘‌কেদারা’‌র কেন্দ্রে আছে এক জমিদারের একটা চেয়ার। চেয়ার কি এখানে একটা চরিত্র হয়ে উঠেছে?‌
•• হ্যঁা, চেয়ার এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্র।
• প্রথম ছবিতেই কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় আপনার ছবির প্রধান অভিনেতা। এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক ও অভিনেতাকে প্রথম ছবিতেই ডিরেকশন দিতে কোনও দ্বিধা হয়নি?‌
•• আসলে কৌশিকদার সঙ্গে বহু বছর ধরে তাঁর ছবির মিউজিকের কাজ করেছি। সম্পর্কটাও নিবিড়। আর, এই চরিত্রটা কৌশিকদা ছাড়া হত না। কৌশিকদাকে ডিরেকশন দিতে গেলে প্রথম পরিচালকের একটু দ্বিধা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কৌশিকদা এতটাই কো-‌অপারেটিভ যে দ্বিধা-‌টিধা উধাও হয়ে গিয়েছিল। এবং প্রথম পরিচালক হিসেবে অভিনেতা কৌশিকদার কাছ থেকে যে মিউচুয়াল রেসপেক্ট পেয়েছি, সেটা আমাকে বাড়তি প্রেরণা দিয়েছে।
• নিজে সঙ্গীত পরিচালক, কিন্তু এই ছবির মিউজিকের দায়িত্ব দিলেন অরিজিৎ সিং কে। কেন?‌
•• সিনেমার পরিচালক হিসেবে আমি সব কাজটা একা করতে চাইনি। আর, এই ছবির জন্যে যে মিউজিক চাইছিলাম সেটা অরিজিৎ-‌ই পারবে। সেজন্যেই আমি ওকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। এবং অসাধারণ কাজ করেছে অরিজিৎ।
• অন্যদিকে অরিজিৎ সিংও তো ছবি পরিচালনা করছেন। সেখানে আপনি অভিনেতা।
•• হ্যঁা, অরিজিৎ-‌এর ‘‌সা’‌তে অভিনয় করেছি। চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও অরিজিৎ যে চমৎকার, সেটা ছবিটা দেখলে বোঝা যাবে।
• আপনার সিনেমার গল্প তো আপনার-‌ই। সেটা কি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই?‌
•• অনেকটা তো নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই। নিজের দেখা জগৎ থেকে মনে মনে অনেক গল্প তৈরি করি। সেগুলো সিনেমায় বলতে ইচ্ছা করত অনেকদিন থেকেই। মনের মধ্যে ছাই চাপা অনেক ইচ্ছে তো থাকে। সেটা থেকেই ছবির পরিচালক হলাম।
• একসময় ছিলেন চিরদীপ। নাম বদল করে ইন্দ্রদীপ হয়ে সঙ্গীত পরিচালনায় সাফল্য পেলেন। সঙ্গীত পরিচালক থেকে সিনেমা পরিচালকের ভূমিকায় এসেই জাতীয় পুরস্কার। নাম বা ভূমিকা বদল তাহলে সাফল্য দিয়েই যাচ্ছে?‌
•• (‌হাসতে হাসতে)‌ সেটাই হচ্ছে দেখছি। আসলে, মিউজিক করতে করতে ‘‌বোর’‌ হয়ে গিয়েছিলাম। অন্য একটা ভাষা খুঁজছিলাম নিজেকে প্রকাশের। তাই সিনেমার পরিচালক। ভেবেছিলাম, লাগলে তাক, না লাগলে তুক।
• তাহলে, তাক-‌ই লাগল?‌
•• তাই তো দেখছি।
• তাহলে, এখন কি আপনাকে সঙ্গীতের চেয়ে বেশি করে সিনেমার পরিচালক হিসেবে দেখতে পাওয়া যাবে?‌
•• সিনেমা পরিচালনার কাজটা নতুন প্রেমিকার মতো। আমি তো এমনিতে কম কথা বলি। সিনেমাটা আমার কাছে কথা বলার একটা মাধ্যম। তবে, মিউজিক আমার নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের মত। সেটা বাদ দিয়ে তো বাঁচা যাবে না। তবে সিনেমায় আমি নিজের মতো করে নিজের কথা বলব। এই জার্নিটা চলবেই। 

ছবি:‌ সুপ্রিয় নাগ

জনপ্রিয়

Back To Top