অলোকপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়: • ‘‌কেদারা’‌ মুক্তি পাচ্ছে। আমাদের শুভেচ্ছা।
•• অনেক ধন্যবাদ।
• সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপকে সবাই চেনে। কিন্তু চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে প্রথম ছবিতেই সবাইকে তিনি চমকে দিলেন জাতীয় পুরস্কার পেয়ে।
•• তা বেশ ভালই চমকেছে সবাই। আমি কী করতে পারি তার জন্যে?‌ আমি তো প্রথম ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার পাব ভাবিনি।
• কতগুলো হল-‌এ মুক্তি পাচ্ছে কেদারা?‌
•• আপাতত ২৫ টা।
• দ্বিতীয় ছবি ‘‌আগন্তুক’‌-‌এর শুটিং তো শেষ। এই ছবিটাও নিশ্চয়ই জাতীয় পুরস্কারের জন্যে পাঠাচ্ছেন?‌
•• এবারে পাঠানো যাবে না।
• সে কী?‌ প্রথম ছবি পুরস্কার পেল। দ্বিতীয় ছবি প্রতিযোগিতায় যাবে না?‌
•• পাঠানো যাবে না মানে, ছবির কাজ শেষ হবে না। এই ছবিতে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজে অনেক ঝামেলা আছে। সময় লাগবে।
• তৃতীয় ছবির কাজও তো শুরু করার কথা?‌
•• হ্যাঁ, জানুয়ারিতে শুটিং শুরু করব। ‘‌বিসমিল্লা’‌। আমার এই তৃতীয় ছবিও জাতীয় পুরস্কার পাবেই।
• সে কী?‌ এতটা আত্মবিশ্বাস?‌ এটা তো অহংকারের মতো শোনাচ্ছে?‌
•• শোনালে আর কী করব। কিন্তু আমার বিশ্বাসের কথাটা আমি বলব না?‌
• দ্বিতীয় ছবিটা তাহলে পাঠাবেন না?‌
•• পাঠাব। পরের বছর একসঙ্গে পাঠাব। তবে, ‘‌আগন্তুক’‌ ঠিক ফেস্টিভ্যাল সার্কিটের ছবি নয়। অনেকটা মার্কেট-‌ফ্রেন্ডলি।
• আগন্তুক-‌এ তো আবির, সোহিনী?‌
•• হ্যাঁ, ওরাই প্রধান চরিত্রে।
• আর ‘‌বিসমিল্লা’‌য়?‌
•• ঋদ্ধি (‌সেন)‌।
• আচ্ছা, ‘‌কেদারা’‌য় প্রধান অভিনেতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। এমন নামকরা একজন পরিচালককে পরিচালনা করতে অসুবিধা হয়নি?‌
•• কৌশিকদার সঙ্গে আমার বন্ডিংটা খুব জোরালো। কৌশিকদার অনেক ছবির সঙ্গীত পরিচালক আমি। আর, অভিনেতা হিসেবে কৌশিকদা অসাধারণ। এবং খুব বাধ্য অভিনেতা (‌হাসতে হাসতে)‌। ফলে, কোনও অসুবিধে হয়নি।
• আপনাদের চেহারাতেও মিল আছে।
•• হ্যাঁ, ইন্ডাস্ট্রিতে তো আমাদের বড়ভাই, ছোটভাই বলা হয়। আর, (‌হাসতে হাসতে)‌ চেহারার মিল আছে বলেই তো কৌশিকদাকে নিয়েছি।
• কেন, এই ছবি কি আত্মজীবনীমূলক নাকি?
•• আত্মজীবনী মূলক না হলেও, আমার নিজেরই গল্প তো।
• সব ছবিই কি নিজের গল্প নিয়েই করবেন?‌
•• হ্যাঁ, আমার প্রচুর গল্প। রোজ আমার মধ্যে একটা করে গল্প জন্ম নেয়। নিজের গল্প আগে শেষ হোক, তারপর পরের গল্পের দিকে তাকাব। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে মিশতে আমি রোজ গল্প খুঁজে পাই।
• সাধারণ মানুষের সঙ্গে এখন আর মেশার সময়, সুযোগ পান?‌ শুধু সেলিব্রিটিদের সঙ্গে রোজ সন্ধ্যায় আড্ডা দেন বলে শোনা যায়।
•• একসময় তথাকথিত সেলিব্রিটিদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। এখন আর দিইনা। বেশিরভাগ সময় এখন একা থাকি। চুপচাপ থাকি।
• সে কী?‌ মিউজিক ডিরেক্টরের কাজের জন্যে তো পরিচালকদের সঙ্গে নিয়মিত বসতেই হয়?‌
•• এখনতো আমার হাতে মিউজিক ডিরেকশনের কাজ তেমন নেই। শুধু রাজ চক্রবর্তীর একটা ছবি ‘‌ধর্মযুদ্ধ’‌-‌র মিউজিক করছি।
• আপনি চলচ্চিত্র পরিচালক হয়ে গেলেন বলেই কি অন্য পরিচালকরা আপনাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন?‌
•• হতে পারে। আবার এটা একটা কো-‌ইনসিডেন্সও হতে পারে। আমি জানি না। তবে, আমার হাতে আগে সবসময়েই ৫/‌৭টা ছবির মিউজিকের কাজ থাকত। এখন একটা।
• তাহলে, এখন পরিচালনাতেই বেশি মন দিচ্ছেন‌?‌
•• হ্যাঁ, এতে টাকাও বেশি।
• বছরে তাহলে দুটো করে ছবি করবেন-‌ই?‌
•• হ্যাঁ, সেটা তো করবই। আমার গল্পেরও শেষ নেই এবং প্রথম ছবিই জাতীয় পুরস্কার পাওয়ায় প্রযোজকেরও অভাব নেই।
• বড় প্রোডাকশন হাউস থেকে প্রস্তাব এসেছে?‌
•• হ্যাঁ, তা এসেছে। কিন্তু আমি তৃতীয় ছবিটা করব আমার প্রথম প্রযোজক ক্যালাইডোস্কোপের সঙ্গেই। দ্বিতীয় ছবিটা করছি সানডে এন্টারটেনমেন্টের সঙ্গে। ওদের সঙ্গে আগে থেকেই কথা হয়ে আছে। আর, আমি কথার দামকে বেশি গুরুত্ব দিই। এদের সঙ্গে কথা দেওয়া ছবিগুলো হয়ে গেলে নিশ্চয়ই বড় প্রযোজকের সঙ্গে ছবি করব।
• এই মুহূর্তে নতুন কী গল্প ঘুরছে মাথায় নতুন ছবির জন্যে?‌
•• একটা বাচ্চার সঙ্গে গাছের বন্ধুত্ব নিয়ে একটা গল্প ভেবেছি। সেই গাছটা একটা সন্ধের ভয়ঙ্কর ঝড়ে উড়ে গেল। তার বাবা, মা বাচ্চাটাকে সময় দিতে পারে না। তার যত গল্প, বন্ধুত্ব সব এই গাছটার সঙ্গে। সেই বাচ্চাটাও গাছের সঙ্গেই বেড়ে উঠছিল। দুজনেরই পরস্পরকে প্রয়োজন ছিল। 
• গল্পের একটু শুনে রবীন্দ্রনাথের বলাইয়ের কথা মনে পড়ে গেল। সেটাও তো গাছের সঙ্গে বলাইয়ের বন্ধুত্বের গল্প।
•• কিন্তু এই গল্পটা আমার। বললাম না, রোজ আমার মধ্যে একটা করে গল্প জন্ম নেয়। আজকের গ্রিন আর্থ, পরিবেশ সচেতনতা, সম-‌সময়, সব কিছুর কথা বলবে এই ছবি। এটা আসলে মানুষের ছবি এবং গাছেদেরও ছবি।
কথা বলতে বলতে মনে হল, আর একটা নতুন গল্পের ভেতরে ঢুকে পড়লেন ইন্দ্রদীপ। তাঁর যাত্রা শুভ হোক।

জনপ্রিয়

Back To Top