আজকালের প্রতিবেদন: ঠোঁটের কোণে নিষ্ঠুর হাসি, জ্বলন্ত দুই চোখ আর পেটানো চেহারা নিয়ে ‘‌পদ্মাবত’ ছবিতে‌ হাজির আলাউদ্দিন খিলজি। সঞ্জয় লীলা বনশালি তাঁকে ‘‌বর্বর’‌ চেহারাতেই এঁকেছেন। কিন্তু ইতিহাস তাঁকে বর্বর বলতে একেবারেই রাজি নয়। বরং অন্য মতামত দিচ্ছেন ঐতিহাসিকরা।ঐতিহাসিক রানা সাফভির মতে আলাউদ্দিন খিলজি আর যাই হোন, বর্বর ছিলেন না। তিনি নিজের সাম্রাজ্যে পারস্যের শাসনব্যবস্থা চালু করেছিলেন। যা ছিল প্রাচীনতম, সভ্য, এবং সেই সময়ের উন্নততম শাসনব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় সরকার ও জনগণের মধ্যে যে যোগাযোগ চালু ছিল, সেটাই আলাউদ্দিন চালু করেছিলেন দিল্লিতে।
১৬ শতাব্দীর সুফি কবি মালিক মুহম্মদ জয়সির ‘‌পদ্মাবত’‌ কাব্য অবলম্বনেই এই ছবি— দাবি করেছিলেন সঞ্জয় লীলা বনশালি। এই প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক অরুণিমা গোপীনাথ জানিয়েছেন, জয়সি এই কাব্য লিখেছিলেন আলাউদ্দিনের চিতোর আক্রমণের প্রায় ৩০০ বছর পরে। শুধু তাই নয়, এই কাব্য তিনি লিখেছিলেন অবধি ভাষায়। এই কাব্যে রাজস্থানি ভাষার কোনও চিহ্ন ছিল না।
অন্যদিকে আলাউদ্দিনের সমসাময়িক কবি আমির খসরুর লেখায় ১৩ শতাব্দীতে আলাউদ্দিনের আমলের যুদ্ধ, রাজ্য জয় ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে যে বিস্তারিত লেখা পাওয়া গেছে তাতেও বর্বর শাসকের চেহারায় আলাউদ্দিনকে দেখা যায় না। ইতিহাস বলছে, আলাউদ্দিন যুদ্ধবাজ ছিলেন, পর–রাজ্যলোভী ছিলেন, খিলজি সাম্রাজ্যের বিস্তারে তৎপর ছিলেন— এসবই ঠিক কথা। এবং সেই সব ক্ষেত্রে আলাউদ্দিন ছিলেন ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর। কিন্তু মহিলাদের প্রতি অসভ্য আচরণের কোনও নজির সেই নিষ্ঠুরতার মধ্যে ছিল না। বরং যেটুকু মনে হয়, প্রশাসক আলাউদ্দিন খিলজি মহিলাদের প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েছেন বরাবর। 
পদ্মাবত ছবিতে আলাউদ্দিন ঠিক যতখানি অসভ্য বা বর্বর, ঠিক ততটাই সভ্য রূপে দেখানো হয়েছে রতন সিং–‌কে। এই প্রসঙ্গে রানা সফভি–র মন্তব্য, ‘‌আসলে এই ছবির মুখ্য উদ্দেশ্য সম্ভবত ছিল আলাউদ্দিনের চরিত্রটি যতখানি সম্ভব কালো করে আঁকা।’‌ 
সফভি জানিয়েছেন, ‘‌ধর্মাচরণেও আলাউদ্দিন উদার ছিলেন। তিনি নিয়মিত নমাজ পড়তেন, বা খুব গোঁড়া ছিলেন, এমন কোনও তথ্যও পাওয়া যায়নি। আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুসলিম শাসকদের ভিলেন হিসেবে দেখানো হয়, যেখানে আসল ঐতিহাসিক সত্যের কোনও ছোঁয়া নেই। কিন্তু এইভাবে ইতিহাসের অবমাননা করা যায় না।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top