সৌগত চক্রবর্তী: ডার্ক সাইকোলজি বা অন্ধকারের মনস্তত্ব। সিনেমা পরিচালকদের প্রিয় বিষয়। এই বিষয় নিয়ে একের পর এক ছবি করে গেছেন অ্যালফ্রেড হিচকক, ডেভিড ফ্রোজেনবার্গ, মিলোস ফোরম্যান। এবার সেই ডার্ক সাইকোলজি আসছে বাংলা বড়পর্দায়। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এই ছবির নাম ‘‌গুড নাইট সিটি’‌। আর সেই ছবিতে অন্যতম মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। বললেন, ‘‌অন্ধকার মনস্তত্বের ওপর দাঁড়িয়ে থাকলেও এই ছবি কিন্তু থ্রিলার নয়। বেশ সিরিয়াস একটি ছবি।’‌ এই ছবিতে শাশ্বত অভিনয় করছেন এক পুলিস অফিসারের ভূমিকায়। চরিত্রের নাম ঋষি।
এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কমলেশ্বরের পরিচালনায় অভিনয় করছেন শাশ্বত। কিন্তু এই ছবিতেও তাঁর অভিনীত চরিত্র গ্ল্যামার বিহীন। সেই সংলাপ ও অভিব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এই চরিত্রে অভিনয় করছেন শাশ্বত। বললেন, ‘‌গ্ল্যামার আছে কি নেই, সেটা বড় কথা নয়। একজন অভিনেতা হিসেবে কঠিন চরিত্রই সবচেয়ে বড় পাওনা। ‘‌মেঘে ঢাকা তারা’‌র নীলকণ্ঠই এতদিন আমার কেরিয়ারে ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। ঋষি তার থেকে একটুও কম নয়।’‌
শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক চরিত্রে তাঁর অভিনয় মুগ্ধ করেছে দর্শককে। কখনও তিনি বব বিশ্বাস আবার কখনও ‘‌জগ্গা জাসুস’‌-‌এ রণবীর কাপুরের বাবা। এবার সেই শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় অভিনয় করবেন ইন্দো-‌ডেনিস ছবিতে। এই প্রথম একটি আন্তর্জাতিক ছবিতে অভিনয় করতে চলেছেন তিনি। বললেন, ‘‌ছবির নাম ইকবাল অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ান জুয়েল’‌। পরিচালক অলিভার জেলি। আসলে এটি জনপ্রিয় ‘‌ইকবাল’ সিরিজের তৃতীয় সংস্করণ। ছোটদের অ্যাডভেঞ্চারের ছবি। তবে এর বেশি কিছু এখন বলতে পারব না। আগে দিল্লিতে যাই। সেখানেই পরিচালকের সঙ্গে আমার বিস্তারিত কথা হবে।’
আগে ফেলুদা ছবিতে তোপসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয় করেছেন অরিন্দম শীলের পরিচালনায় শবর সিরিজের ছবিতে গোয়েন্দা অফিসার শবর দাশগুপ্তর চরিত্রে। অঞ্জন দত্তর পরিচালনায় ব্যোমকেশ ছবিতে অজিত ছিলেন তিনি। কিন্তু এবার ছবিটা একটু পাল্টেছে। চরিত্র একই আছে। কিন্তু শাশ্বতর সেই অজিত হয়ে ওঠা এবার অরিন্দম শীলের পরিচালনায়। আগামী জুন থেকে শুরু হবে এই ছবি ‘‌ব্যোমকেশ গোত্র’‌র শুটিং। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘‌রক্তের দাগ’‌ অবলম্বনে এই ছবিতে ব্যোমকেশের চরিত্রে অভিনয় করবেন আবির চট্টোপাধ্যায়। এর আগে অরিন্দম শীলের পরিচালনায় ব্যোমকেশ ছবিগুলিতে অজিতের ভূমিকা সামলাতেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। এ সম্পর্কে কী বলছেন শাশ্বত?‌ ‘‌ঋত্বিক অজিত হিসেবে অরিন্দমদার ছবিতে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সেই কারণে প্রথমে আমি এই চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হইনি। পরে অরিন্দমদা বলে আমাকে অজিত হিসেবে রেকমেন্ড করেছেন অঞ্জন দত্তই। শুনেছি ওঁদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া হয়েছে। বছরে একটা করে ব্যোমকেশ ছবি হবে, সে যেই করুণ না কেন। আর সেই ছবিতে আমিই অজিতের ভূমিকা সামলাব। তাই রাজি হয়ে গেলাম।’‌
কতরকম চরিত্রেই না ডানা মেলছেন শাশ্বত। একদিকে যেমন পুলিস অফিসার ঋষি আবার অন্যদিকে অজিত। আবার কখনও তিনি এক কবরখানার পাহারাদার ঈশ্বর। এই ছবির পরিচালক দেবপ্রতিম দাশগুপ্ত। যিনি তাজু নামেই বেশি পরিচিত। তাঁর ছবিতে এক কবরখানার পাহারাদার ঈশ্বরের চরিত্রে এখন অভিনয় করছেন শাশ্বত। ছবির নাম ‘‌ঈশ্বর:‌ এক মৃত্যু মিছিলের গল্প’‌। কেমন এই চরিত্র?‌ ‘‌আসলে জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে একটা সেতু তৈরি করেছে এই গল্প। ঈশ্বর মনে করে জীবনে ক্রমাগত ছুটতে ছুটতে মানুষ যখন ক্লান্ত হয়ে পরে তখন কবরখানায় এসে সে ঘুমিয়ে পড়ে। সে ঘুম বড় শান্তির। তাই তাদের যাতে ঘুম না ভাঙে সে বিষয়ে সচেতন থাকে ঈশ্বর। একদিন তাড়া খেয়ে পুর্ণিমা আসে এই কবরখানায়। আশ্রয় পায় ঈশ্বরের। তারপর কী হয় তাই নিয়ে এই ছবির গল্প।’‌
পাশাপাশি আছে আর এক চরিত্র। তিনি হীরালাল সেন। ভারতীয় সিনেমার পথিকৃৎ। ১৯০১ থেকে ১৯০৪-‌এর মধ্যে তিনি বেশ কিছু নাটককে মুভি ক্যামেরায় ধরেছিলেন। যার মধ্যে ছিল ‘‌ভ্রমর’‌, ‘‌হরিরাজ’‌, ‘‌বুদ্ধদেব’‌, ও ‘‌আলিবাবা ও চল্লিশ চোর’‌। এছাড়াও ১৯০৫ সালে তৈরি করেছিলেন ‘‌স্বদেশী মুভমেন্ট অ্যাট টাউন হল’‌। যাকে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক তথ্যচিত্র বলে মনে করা হয়। এবার এই হীরালাল সেনকে সিনেমায় ধরতে চলেছেন ‘‌এগারো’‌ পরিচালক অরুণ রায়। এই ছবিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন শাশ্বত। তবে শাশ্বত জানালেন, ‘‌আগামী জানুয়ারিতে শুরু হবে এই ছবির শুটিং। প্রথমিক কথাবার্তা হয়েছে। কোন চরিত্রে অভিনয় করছি তা এখনি বলতে পারব না।’‌ এছাড়াও শাশ্বত অভিনয় করবেন রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় ‘‌টংলিং’‌ ছবিতে। ‌

ছবি:‌ সুপ্রিয় নাগ

জনপ্রিয়

Back To Top