বললেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। সদ্যই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে সুশান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে তাঁর ছবি ‘‌দিল বেচারা’‌। স্বস্তিকার সঙ্গে কথা বললেন অলোকপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।

● ‌‘পাতাললোক’–এর পর এবার ডিজনি প্লাস হটস্টারে এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত ছবি ‘‌দিল বেচারা’‌–তেও স্বস্তিকা। আপনি কি মুম্বইয়ের হয়ে গেলেন?
●● একেবারেই নয়। ভাল কাজ করতে চাই। মুম্বইয়ে হলে মুম্বইয়ে, বাংলায় হলে বাংলায়। বাংলার বাইরে গিয়ে অনেকদিন ধরেই তো কাজ করতে চাইছি। এখন করছিও। এর ফলে কেরিয়ারের অন্য একটা দিকও খুলেছে। তবে কী হিন্দিতে, কী বাংলায়, বেছেই কাজ করতে চাই। যা ছবির অফার আসবে, তা–ই করব না। ছবি যেমন আমাকে বাছবে, আমিও ছবিকে বেছে নেব।
● ‘‌ডিটেক্টিভ ব্যোমকেশ বক্সী’র পরে কি মুম্বই থেকে আরও অফার এসেছে?
●● অনেক, অনেক অফার। কিন্তু মন, মাথা একসঙ্গে সায় না দিলে আমি ছবি করব না। প্রচুর কাজ করছি, এটা দেখানোর কোনও দরকার নেই আমার। মানুষের মনে রাখার মতো কাজ করতে চাই।
● ‘‌পাতাললোক’‌–এ নীরজ কবির মতো অসাধারণ অভিনেতার সঙ্গে কাজ করলেন। অভিজ্ঞতা কেমন?
●● অমন একজন অভিনেতা, কিন্তু সেই ব্যাগেজটা উনি বয়ে বেড়ান না। চরিত্রগুলো ঠিকমতো ফুটিয়ে তোলাই ওঁর লক্ষ্য। আর, একজন এমন ভাল অভিনেতার সঙ্গে কাজ করলে নিজের কাজটাকেও অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়া যায়। অভিনয় করে একা একা ফাটিয়ে দেওয়া যায় না। দর্শকের কাছে সেটার কোনও মূল্য থাকে না।
● ব্যোমকেশ বক্সীর পরে আবার সুশান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে ‘‌দিল বেচারা’‌ করলেন। কোনও পরিবর্তন দেখতে পেয়েছিলেন সুশান্তের মধ্যে?
●● সুশান্ত যখন ব্যোমকেশ করেন, তখনও কিন্তু সুপারস্টার ছিলেন না। ‘‌ধোনি’‌ তাঁকে নাম, যশ, প্রতিপত্তি দিয়েছে প্রচুর। তার পর অন্য ছবিতেও সুশান্ত নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সুপারস্টার হয়ে উঠেছেন। কিন্তু ‘‌দিল বেচারা’‌ করতে গিয়ে দেখেছি, ওই সব কিছুর কোনও ছায়া পড়েনি সুশান্তের মধ্যে। তবে অনেক কনফিডেন্ট লেগেছিল আগের চেয়ে। কিন্তু আগের মতোই প্রাণবন্ত এবং ভাল কাজ করার খিদেটা দেখেছি ওঁর মধ্যে।
● আচমকাই চলে গেলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। সবাই উত্তর খুঁজছেন।
●● এর উত্তর আমরা কোনও দিনই পাব না। ‘‌সত্যি’‌টা সঙ্গে নিয়েই চলে গেছেন সুশান্ত। আমরা শুধু শূন্যতা অনুভব করব, সুশান্তের শূন্যতা।
● আপনার বাবা সন্তু মুখোপাধ্যায় তো খুব অল্প দিনের অসুস্থতাতেই চলে গেলেন।
●● আমরা ভাবতেও পারিনি বাবা হঠাৎ এমন করে আচমকা ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে চলে যাবেন। ‘‌দিল বেচারা’‌র শুটিং করে এসে বাবাকে গল্প করেছি। এই ছবি করতে গিয়ে কতরকমের ক্যান্সার সম্পর্কে জেনেছি। ছবিতে সুশান্তের একরকম ক্যান্সার তো তার বন্ধুর অন্যরকম। বাবার সঙ্গে এত কথা হল ক্যান্সার নিয়ে। তখন কোনও আঁচই ছিল না বাবার ক্যান্সারের। যখন ধরা পড়ল, তখন ফোর্থ স্টেজ। অথচ বাবা খুব স্বাস্থ্য সচেতন ছিলেন। মা আগেই চলে গেছেন। বাবাও চলে গেলেন। আচমকা বিরাট শূন্যতা আমার জীবনে।
● কোনও বাংলা ছবির কথাবার্তা চলছে?
●● ‘‌কিয়া ও কসমস’‌–এর ডিরেক্টর সুদীপ্ত রায়ের একটা শর্ট ফিল্মের শুটিং করছি এখন। সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের একটা বাড়িতে। চার মাস পরে ক্যামেরার সামনে। উফ!‌ কী যে আনন্দ হচ্ছে।
● কী নাম ছবির?
●● এখনও ঠিক হয়নি।
● আর কে আছেন ছবিতে?
●● আর কেউ নেই। আমি একা।
● একক প্রদর্শনী?
●● (হাসতে হাসতে) হ্যাঁ, একক প্রদর্শনী। একজন গৃহবধূর লকডাউনে আটকে পড়ার গল্প।
● ফোনে তো দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু শোনা যাচ্ছে, খুব ছোট করে নাকি চুল কাটা হয়েছে?
●● ছোট করে নয়। ন্যাড়া হয়েছিলাম তো!‌ এখন আবার একটু একটু চুল গজিয়েছে। পুরোদমে শুটিং শুরু হওয়ার আগে আবার মাথাভর্তি চুল হয়ে যাবে। (হাসতে হাসতে) এখন তো মাথায় হাওয়া লাগানোর সময়।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top