ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরি ‌ 
পরিচালক

শব্দটা সম্ভবত ‘ভালনারেবল’। এটার বাংলা প্রতিশব্দ ‘দুর্বলতা’ নয় বোধহয়। হয়তো আঘাত থেকে নিজেকে সুরক্ষিত না রাখার প্রবণতা। একজন পুরুষ সহজে নিজের ভালনেরবল দিকটা দেখাতে পারে না, হয়ত তার সামাজিক ট্রেনিং-এর কারণেই। সেখানেই ইরফান অনেকের থেকে আলাদা। ব্যক্তিগতভাবে তিনি কী, সেটার কথা বলছি না। একেকটা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে তাঁর ভালনেরবল দিকটা যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে, প্রতিবার, সেটাই তাঁকে আলাদা করেছে। তাঁর আত্মাকে যেন ছুঁতে পারছি। সেটা খোলা, অনাবৃত, দৃষ্টিগ্রাহ্য। আর তাই বোধহয় তাঁর মহিলা ফ্যানের সংখ্যা এত বেশি। তাই এত মায়া তার মুখ জুড়ে। রহস্যময়। সেখানে সময়ের চিহ্ন লুকোনোর কোনও চেষ্টা নেই। আলাদা করে সুন্দরের কোনও প্র্যাকটিস নেই। অকপট। নেকেড। প্রতিটি চরিত্রে তাঁর ওই মুখের একটা বড় কৃতিত্ব রয়েছে। 
অভিনয় নিয়ে যাই বলব, তা হয়তো সবাই জানেন। কাউকে আজ অবধি বলতে শুনিনি, ‘আমার ইরফান খানের অভিনয় ভাল লাগে না’। আগেও অনেক ভাল অভিনেতা ছিলেন, পরেও আসবেন। কিন্তু ইরফানের সফলতা এখানেই যে ‘অভিনয় না করে অভিনয় করে যাওয়া’ এটাকে উনি মূল ধারায় নিয়ে এসেছিলেন। সেটা করতে হয়ত অনেকেই পারেন। কিন্তু হিন্দি ছবির মূলধারায় সেটাকে স্থাপন করাটা খুব সহজ না। এই সারল্যের পেছনে যে শ্রম থাকে সেটাকে লুকনো খুব মুস্কিল। সেটা ইরফান পেরেছিলেন। সেই অর্থে বলা যায় ইরফানের ইরফান হয়ে ওঠা তার উত্তরসুরিদের কাজটা অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। 
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছিলাম, সবাই বলছেন, মনে হচ্ছে যেন কাছের কেউ চলে গিয়েছেন। এটার একটা কারণ আমার মনে হয়, তিনি খুব সাধারণ বিশ্বাসযোগ্য একজন মানুষ। তার সাফল্য, লড়াই, ব্যর্থতা সবটাই ছোঁয়া যায়। এবং এই সবটা নিয়েই একটা অসাধারনের কল্পনা করা যায়। ইরফানের চলে যাওয়া যে এতটাই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে সমাজে তার কারন তিনি একজন ‘নতুন তারকা’। তারকা জীবনের এই ডেফিনিশন আমরা সদ্য শিখেছি। তাই তার প্রস্থান এত আকস্মিক, এত বিদারক লাগছে আমাদের।

সঙ্কলন:‌ তিস্তা রায় বর্মণ

জনপ্রিয়

Back To Top