অনিক দত্ত
পরিচালক 

‘‌ভূতের ভবিষ্যৎ’‌ কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে। ইরফানের ব্যবসার পার্টনার শৈলজার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। তাঁরা দু’‌জনে একসঙ্গে ছবি প্রযোজনা করতেন। তাঁর মাধ্যমেই জানতে পারি, ইরফানের স্ত্রী সুতপার ছবিটা ভাল লেগেছে। তিনিই আমাকে জানান, ইরফান অনেকদিন ধরে সিরিয়াস চরিত্রে অভিনয় করে ক্লান্ত। এবার একটু হাসাতে চান মানুষকে। ‘‌আশ্চর্য প্রদীপ’ নিয়ে কাজকর্ম তখন মোটে শুরু হয়েছে। আমি জানতে পারি, ছবিটার ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়েছেন ইরফান। তবে শেষটা ডার্ক হওয়ায় বোধহয় ওঁরা পিছিয়ে গেলেন। কিন্তু আমি তো অমনটাই চেয়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম ‘‌ভূতের ভবিষ্যৎ’‌ দেখে মানুষের মন ভাল হোক। কিন্তু এই ছবিটার উদ্দেশ্যই ছিল, মন খারাপ করানো। কী করি? হল না একসঙ্গে কাজ করা। 
কিন্তু তারপর বহুদিন ধরেই একটা কন্সেপ্ট মাথায় আসছিল। ‘‌সেলিম সিনেমাওয়ালা’‌ নাম দিয়েছিলাম। কলকাতার রিয়েল লাইফ চরিত্রের ওপর। ওটা আমি হিন্দিতেই করতে চেয়েছিলাম। সেলিমের চরিত্রে ইরফানকেই চেয়েছিলাম আমি। তখন যোগাযোগ হয়। ‘‌পিকু’‌-এর শুটিংয়ের জন্য তিনি কলকাতাতেই ছিলেন। আমি যাই। কথা হয়৷ আমি জানালাম যে আমার পুরো চিত্রনাট্যটা লেখা হয়নি। কিন্তু এই হল গিয়ে কনসেপ্টটা। আপনার ভাল লাগলে আমি এগবো। তিনি জানান, কনসেপ্টটা ভাল ওনার ভাল লেগেছে। চিত্রনাট্যটা শেষ করে ওনাকে যোগাযোগ করব এমনটাই ঠিক হয়। কিন্তু কপালে বোধহয় ছিল না একসঙ্গে কাজ করাটা। গল্পটার কোনও পছন্দসই শেষ আমি পাচ্ছিলাম না। দু’‌মাস পরে যোগাযোগ করে জানাই যে এখন কোনও জুতসই শেষ আমি পাইনি। পেলে আমি যোগাযোগ করব। কিন্তু আর যোগাযোগ করা হল না। এখন যোগাযোগ হওয়ার কোনও উপায়ও আর থাকল না। এখন মনে হচ্ছে, যদি কাজটা হতও, কলকাতার গরমে বস্তির মধ্যে শুট করাটা ওঁর শরীরে দিত না হয়তো। তাই কাজ না করার অনুশোচনা নেই। তবে হ্যাঁ, একজন এত বড় মাপের অভিনেতার সঙ্গে কাজ করলে সত্যিই একটা অভিজ্ঞতা হত আমার।    ‌‌

সঙ্কলন:‌ তিস্তা রায় বর্মণ

জনপ্রিয়

Back To Top