সৌগত চক্রবর্তী:  • শেষ পর্যন্ত নিবেদক অতনু রায়চৌধুরির ছবিতে কাজ করছেন।
•• হ্যাঁ, অনেকদিন ধরেই সেই ইচ্ছাটা ছিল। তবে এতদিনে তা বাস্তব হয়ে উঠল। ওঁদের টিমটা সত্যিই অসাধারণ। একদিকে যেমন ওঁদের বাংলা সিনেমার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা তেমনি আর একদিকে লীনাদি (‌গঙ্গোপাধ্যায়)‌ আর শৈবালদার (‌বন্দ্যোপাধ্যায়)‌-‌এর মতো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক। আমি তো নিশ্চিত, এই ছবি বাংলা ছবির দর্শকদের একটা নতুন দিশা দেবে। তবে অতনুদার সঙ্গে আলাপটা কিন্তু অনেকদিনের।
• কেমন করে সেই আলাপটা হয়েছিল?‌
•• সেটা ১৩ বছর আগেকার কথা। আমি তখন হাওড়ায় থাকি। সেই সময়েই একদিন শুনলাম অতনুদা নাকি তাঁর বাড়ি ভাড়া দেবেন। গিয়েছিলাম ওঁর সঙ্গে দেখা করতে। সেটাই প্রথম আলাপ। তবে উনি এতটাই বাড়িভাড়া চেয়েছিলেন যে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম। আর আজ ১৩ বছর পরে ওঁর ছবিতেই আমি কাজ করছি। সময়টা মানুষের সঙ্গে কী অদ্ভুত খেলা করে, তাই না?‌
• অতনু রায়চৌধুরি আর লীনা গঙ্গোপাধ্যায় দুজনেই একটু আগে বলছিলেন, এই চরিত্রটা একমাত্র দেবের সঙ্গেই যায়। ওঁকে আমরা রাজি করিয়েছি ছবিটার জন্যে। সত্যিই কি এরকম হয়েছে?‌
•• (‌হেসে)‌ কে যে কাকে রাজি করিয়েছে সেটা আমার কাছেও কিন্তু একটা রহস্য। তবে এটুকু বলতে পারি, এই ছবি করার সিদ্ধান্ত নিতে আমার সময় লেগেছে মাত্র দু-‌মিনিট। অতনুদা এসে আমাকে চিত্রনাট্য শুনিয়েছেন। তারপরেই রাজি হয়ে যাই আমি। এতটাই ভাল এই ছবির চিত্রনাট্য। শুনতে শুনতে কল্পনায় এমন কিছু ফ্রেম তৈরি হয়েছিল যা বাস্তবে করতে পারলে সত্যিই একটা অসম্ভব ভাল ছবি তৈরি হবে। সব কিছু বলতে বাধা আছে। এটুকু বলতে পারি,এই গল্প আমার, আপনার—সবার বাড়িতেই আছে। আমাদের সমাজের সবারই এই গল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে।
• এই প্রথম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করবেন। কেমন লাগছে?‌
•• ওঃ অসাধারণ। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তো লিভিং লেজেন্ড। অনেকদিন ধরেই ইচ্ছা ছিল সৌমিত্র স্যরের সঙ্গে কাজ করব। দীর্ঘদিন ধরেই ছবিতে সই করার সময়ই প্রযোজক বা পরিচালককে জিজ্ঞাসা করতাম ছবিতে সৌমিত্র স্যর থাকছেন তো?‌ প্রত্যেকবারই হতাশ হতে হয়েছে। এবারও অতনুদা আসতেই ওই একই প্রশ্ন করেছিলাম। সৌমিত্র স্যর?‌ অতনুদা বলেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তো আছেনই। ওঁর সঙ্গে তোমার কথাও আমরা ভেবেছি। ব্যস, আর কিছু বলার থাকে?‌ অভিনেতা হিসেবে আমার অনেকদিনের স্বপ্ন পূরণ হল এই ছবিতে।
• ছবিতে আপনার সঙ্গে অভিনয় করছেন আরও দুই শক্তিশালী অভিনেত্রী।
•• হ্যঁা, পাওলি আর অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। তার ওপর সৌমিত্র স্যর। আসলে আমার মতো গাধা অভিনেতার কাছে ওঁদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার একটা সুবিধে আছে। অনেক কিছু শেখা যায়। তাতে নিজের অভিনয়েরও একটা উন্নতি হয়। আমি জানি, এঁদের সঙ্গে অভিনয়ের পর অভিনেতা হিসেবে আমার নামের পাশে অন্তত আরও দুই পয়েন্ট যোগ হবে।
• এতখানি বিনয় কেন?‌
•• (‌হেসে)‌ আসলে নিজেকে যতক্ষণ গাধা অভিনেতা ভাবব, ততক্ষণ অভিনেতা হিসেবে উন্নতি করার একটা সুযোগ পাব। অভিনয় শেখার তো আর শেষ নেই। বিশ্বের তাবড় অভিনেতাদের জিজ্ঞাসা করলেও একই উত্তর ওঁরা দেবেন, আমরা এখনও শিখছি। একজন অভিনেতা যখনই ভেবে নেবেন অভিনেতা হিসেবে তিনি একশ শতাংশ সফল, তখনই তিনি তলিয়ে যাবেন। তাই সচেতন ভাবেই নিজেকে আন্ডাররেটেড রাখি।
• এই ছবির নাম ‘‌সাঁঝবাতি’‌ কেন?‌
•• এই ছবির চিত্রনাট্য আমাকে কেন্দ্র করেই। ছবির পুরোটা জুড়েই আমি। এরকম অথরব্যাক চরিত্র নিজের প্রযোজনার ছবিতে নিজের জন্যে একদমই রাখি না। ‘‌কবীর’‌-‌এ অথরব্যাক চরিত্র ছিল রুক্মিনীর। ‘‌হই চই আনলিমিটেড’‌ ছবিতে অথরব্যাক চরিত্র ছিল অপুদা (‌শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়)‌ ও খরাজদার (‌মুখোপাধ্যায়)‌। কাজেই ওঁরা প্রথমে আমার অভিনীত চরিত্রের নামেই ছবির নাম রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি রাজি হইনি। বলেছিলাম, ক্লাসিক কিছু নামকরণ করতে। তাই ‘‌সাঁঝবাতি’‌। নামটা শুনলেই কীরকম একটা ইমোশন তৈরি হয় মনের মধ্যে। একটা ছবি ভাসে—সন্ধ্যে হয়েছে। উঠোনের তুলসী মঞ্চে প্রদীপ নিয়ে গেছেন বধূ। শাঁখ বাজছে। গলায় আঁচল জড়িয়ে তুলসী মঞ্চে প্রণাম—এরকমটাতো আর দেখাই যায় না। তবে আর একটা প্লাস পয়েন্ট আছে?‌
• কীরকম?‌
•• সবাই বলবে, দেব আর ‘‌সাঁঝবাতি’‌?‌ কী করে এটা হয়?‌ কেমন ভাবেই বা এটা সম্ভব?‌ কাজেই এই ছবি নিয়ে একটা আলোচনা হবেই (‌হাসি)‌।
• এই যে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় বা শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজেদের প্রোডাকশন হাউস থাকা সত্বেও অতনু রায়চৌধুরির সঙ্গে কাজ করছেন বা আপনিও নিজের প্রোডাকশন হাউস থাকা সত্বেও ওঁদের সঙ্গে কাজ করছেন, এটা কেন?‌
•• বাংলা ছবির যদি পুরনো দিন ফিরিয়ে আনতেই হয় তবে এরকমটাই জরুরি। কোনও বিভাজন নয়, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে চেষ্টা করতে হবে বাংলা ছবির সুন্দর ভবিষ্যত তৈরির জন্যে। আমার ও ইচ্ছে আছে প্রযোজক হিসেবে অতনুদার সঙ্গে কাজ করার। আসলে আমাদের সবার কিছু কিছু প্লাসপয়েন্ট আছে, পজিটিভিটি আছে। সেই পজিটিভ দিকগুলো এক জায়গায় আনা উচিত। এই প্লাসপয়েন্ট গুলো যোগ করে গেলে সেটা প্লাস স্কোয়ার বা প্লাস কিউব হয়ে উঠবে। সেটাই এখন দরকার।
• এখন কোন কোন ছবির কাজ চলছে আপনার?‌
•• এই তো রাজা চন্দর ছবির শুটিং করে এলাম। আর মাত্র একটা গানের শ্যুট করা বাকি। বছরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হবে ‘‌হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী’‌। আর তারপরেই শুরু হবে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছবির (‌বিনয় বাদল দীনেশ)‌ কাজ। প্রচুর রিসার্চ ওয়ার্ক হয়েছে ছবিটা ঘিরে। বিগ বাজেটের ছবি। এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এরকম রিসার্চ ওয়ার্ক নিয়ে বাংলায় ছবি খুব বেশি হয়নি। প্রযোজক হিসেবে একই বছরে দুটো ছবি নামাচ্ছি। সবাই অবাক হয়েছে। বলছে কী করছো কি (‌হাসি)‌।
• কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের এই ছবিতে কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন আপনি?‌
•• এটা তো এখন বলব না। (‌হেসে)‌ অন্যের বিয়ের আসরে নিজের বিয়ের গল্প কেউ শোনায়?‌ সময় আসুক, তখন বিস্তারিতভাবে 
বলব।

ছবি:‌ সুপ্রিয় নাগ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top