সৌগত চক্রবর্তী: টান টান উত্তেজনায় ‘‌দাদাগিরি’‌র একটি এপিসোডের ফাইনাল রাউন্ড চলছে রাজারহাটের একটি স্টুডিওতে। সেখানে ‘‌দাদা’‌ সৌরভ গাঙ্গুলির মুখোমুখি কলকাতার তানিয়া ও জলপাইগুড়ির অনির্বাণ। ক’‌দিন আগেই বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড আর ইংল্যান্ডের ম্যাচে তৈরি হয়েছিল এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির। এখানেও প্রায় সেইরকম অবস্থা। শেষ প্রশ্ন তখন অনির্বাণের দিকে। যদি অনির্বাণ সঠিক উত্তর দিতে পারেন আর তানিয়া যদি চ্যালেঞ্জ না করেন তাহলে চ্যাম্পিয়ান হবেন অনির্বাণ। অন্যদিকে তানিয়া যদি অনির্বাণকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন তাহলে চ্যাম্পিয়ন হবে তানিয়া। আছে একটা তৃতীয় অপশনও। ধরা যাক অনির্বাণ পারলেন না সঠিক উত্তর দিতে। আর তানিয়া অনির্বানকে চ্যালেঞ্জ করেও ভুল উত্তর দিলেন। তাহলে?‌ তাহলেই টাই। এমন একটা টানটান পর্বের শুটিং হল সাংবাদিকদের সামনেই। ক্লাইম্যাক্সটা তোলা থাক দর্শক, পাঠকদের জন্যে।
এই পর্বের শুটিংয়ের পরেই সৌরভ গাঙ্গুলির মুখোমুখি হয়ে এই প্রশ্নটাই করি। এরকম পরিস্থিতি যদি আবার তৈরি হয়, যদি টাই হয়, তবে কীভাবে সমস্যার সমাধান হবে?‌ প্রশ্ন শুনে মুচকি হাসলেন সৌরভ। বললেন, ‘‌সেই সম্ভাবনা আছে। তার জন্য এর পরে থাকবে ‘‌সুপার ওভার’‌। প্রতিযোগীদের করা হবে ছয় রান আর চার রানের ছয়টি প্রশ্ন। তাতেই স্থির হবে কে চ্যাম্পিয়ন।’‌ আর তাতেও যদি টাই হয়?‌ সৌরভের উত্তর, ‘‌তাহলে দুজনকেই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে।’‌
এদিন দুটো এপিসোডের শুটিংয়ের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। বললেন, ‘‌এবারের দাদাগিরি দিন বদলের দাদাগিরি। কতরকম বয়সের কতরকম মানুষ আসেন এই দাদাগিরি-‌তে। তাঁদের দেখে, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের চিম্তা-‌ভাবনার পরিচয় পেয়ে অবাক হই। কতরকম তাঁদের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে মিশে আছে দিন বদলের ভাবনা। আর সেই দিন বদলের স্বপ্ন দেখে কেউ বা ব্যতিক্রমী পেশা বেছে নিচ্ছেন আবার কেউ বা স্বেচ্ছাশ্রমে নতুন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছেন। আমরা সেই সব মানুষকে সম্মান দিই। তাঁদের নিয়েই এবার দিন বদলের দাদাগিরি। এই যেমন এই পর্বের তানিয়া পেশায় একজন ‘‌ফায়ার ফাইটার’। এই পেশা আসলে পুরুষ প্রধান। কিন্তু সেই পেশাতেও এগিয়ে আসছেন তানিয়ার মত মহিলারা।‌’‌
এবার দাদাগিরিতে নতুন সংযোজন ‘‌ক্যাপটেন স্কোয়াড’‌। আছেন এই স্কোয়াডের ১২ জন সদস্য। তাঁদের ভূমিকা কী?‌ ‘‌ই মেলের মাধ্যমে অডিশন দিয়ে এঁদের নির্বাচন করা হয়। এঁরাও প্রতিযোগীদের প্রশ্ন করেন। তাঁদের হেল্প লাইন হিসেবেও কাজ করেন’‌, বললেন সৌরভ।
এবার ‘‌গুগলি’‌র সঙ্গী ‘‌দুসরা’‌। স্পিন বোলিং-‌এর আর এক মারাত্মক অস্ত্র। ‘‌গুগলি’‌র সঠিক উত্তর দিতে পারলে যেখানে ছয় রান সেখানে দুসরার উত্তর দিতে পারলে ১২ রান। আগেও জনপ্রিয় ছিল ‘‌গুগলি’‌। এবার কি ‘‌দুসরা’ সেই ‘‌গুগলি’‌র‌ জনপ্রিয়তায় ভাগ বসিয়েছে?‌ এখন পর্যন্ত যত এপিসোডের শুটিং হয়েছে তাতে এই প্রসঙ্গে সৌরভের মতামত কী?‌ সৌরভ বললেন, ‘‌আমার কিন্তু দুটোই সমান পছন্দ। তবে এখানে কিন্তু গুগলির জনপ্রিয়তায় একটু হলেও ভাগ বসিয়েছে ‘‌দুসরা’‌। আসলে এটা তো ভিডিও নির্ভর, তাই দর্শক ও প্রতিযোগীরা একটু বেশি মজা পাচ্ছেন।’‌
সৌরভের পাশে ততক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছেন ‘‌দাদাগিরি’র পরিচালক শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর টিম। সৌরভ বলে উঠলেন, ‘‌এই যে এঁদের দেখছেন, এঁদের জন্যই ‘‌দাদাগিরি’‌ ৮ বছর সাফল্যের সঙ্গে পথ চলছে। এঁদের কথা অবশ্যই বলবেন। এঁদের সঙ্গে আমার একটা ছবি চাই কিন্তু’‌। তারপরেই ঘুরে গেল প্রসঙ্গ। ‘‌দাদাগিরি’র আসর মানেই তো সেলিব্রিটিতে ছয়লাপ। এর আগে এসেছিলেন শাহরুখ খান, মিঠুন চক্রবর্তী, বিদ্যা বালন বা শচীন তেন্ডুলকরের মতো সেলিব্রিটিরা। সিজন ৮-‌এর আসরে কাকে পাচ্ছেন দর্শক ও প্রতিযোগীরা?‌ সৌরভ বললেন, ‘‌সে তো অনেক পরের কথা। এই তো সবে শুরু হল সিজন ৮-‌এর আসর। এখনও ছয় মাস চলবে। শচীন তেন্ডুলকররা এসেছিলেন ফাইনাল এপিসোডে। এবারও সেরকম কেউ আসবেন। আমরা চেষ্টা করছি বচ্চন স্যার (‌অমিতাভ বচ্চন)‌কে আনার। দেখা যাক কী হয়?‌’‌
সৌরভের এই কথা শেষ হতে না হতেই পরের প্রশ্ন, আপনি ‘‌কে বি সি’‌ দেখেন?‌ কোন রিয়্যালিটি‌ শো আপনার পছন্দ?‌‌ ‘‌টাইট শিডিউল তো। তাই সবসময় নিয়মিতভাবে দেখার সুযোগ পাই না। তবে সময় পেলে বসে পড়ি ‘‌কে বি সি’ দেখতে। আর একটা শো আমার খুব পছন্দের। সেটা ‘‌সা রে গা মা পা’‌। সময় পেলে সেটাও দেখি।’‌
বললেন, ‘‌মানুষের সঙ্গে দেখতে দেখতে কেটে গেল অনেকগুলো বছর। এই ‘‌দাদাগিরি’ সঞ্চালনা করা আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ। এই কাজটা করতে গিয়েই অসংখ্য মানুষের সান্নিধ্যে এসেছি। এক-‌একজন মানুষের মধ্যে আশ্চর্য গুণের পরিচয় পেয়েছি। তাঁদের অধ্যবসায় দেখেছি। তাঁদের আমি শ্রদ্ধা করি। এই তো বছর তিনেক আগের কথা। অডিশনে ফেল করেছিলেন এক প্রফেসর। তিনি একটা কলেজে পড়ান। একটা অত্যন্ত সিলি মিসটেক করেছিলেন। প্রশ্ন ছিল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কোথায়?‌ উনি উত্তর দিয়েছিলেন দিল্লিতে। পরে তিনি যখন কলেজে যেতেন, তাঁকে দেখেই ছাত্ররা বলে উঠত ‘‌ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল দিল্লিতে’‌। ভদ্রলোক কিন্তু কোনও কথা বলতেন না। পরপর তিন বছর চেষ্টা করার পর এবার তিনি অডিশন পাশ করে প্রতিযোগিতায় এসেছেন। এখন তাঁর ছাত্রদের দেখলেই বলে ওঠেন, দেখাচ্ছি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কোথায়!‌ এইভাবেই মানুষের এই উন্মাদনাকে সঙ্গে করে এগিয়ে যাবে ‘‌দাদাগিরি’‌। আমরাও অসংখ্য কালারফুল মানুষের সান্নিধ্যে আসতে পারব। তাঁদের সঙ্গে দর্শকের পরিচয় করিয়ে দিতে পারব।’‌‌‌

ছবি:‌ সুপ্রিয় নাগ
 

জনপ্রিয়

Back To Top