অদিতি রায়: সমরেশ বসুর ‘‌ছুটির ফাঁদে’‌ গল্পটা নিয়েই আমি ‌ছবি বানিয়েছি। আগে যে ছবিটা‌ হয়েছিল তার সঙ্গে আমার ছবির কোনও সম্পর্ক নেই গল্পটা ছাড়া। বললেন ‘‌হানিমুন’‌-‌এর পরিচালক প্রেমেন্দু বিকাশ চাকি। মুক্তির আগে ছবির টিমকে পাওয়া গিয়েছিল দক্ষিণ কলকাতার এক রেস্তোঁরায়। পরিচালক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ এবং সঙ্গীত পরিচালক স্যাভি। সেখানেই পরিচালকের প্রথম ছবির মধুচন্দ্রিমার গল্প শোনালেন তাঁরা। পরিচালক প্রেমেন্দুবিকাশকে বেশ আত্মবিশ্বাসী শোনাল, ‘ছুটির ফাঁদে‌’‌ ছবিটির সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনায় তিনি বিচলিত নন, কারণ ছবিটা যাঁরা দেখবেন তাঁদের বুঝতে অসুবিধে হবেনা যে সমরেশ বসুর গল্পটাকে যথাযথ অনুসরণ করেই বানানো হয়েছে ‘‌হানিমুন’‌। শুধু প্রেক্ষাপট এই সময়েরই। কারণ চাকরির চাপ, উর্ধ্বতনের চোখরাঙানি, এই বাস্তবতা তো এখনও বদলায়নি। এখনও তো কর্পোরেট যাঁতাকলে ছুটির অবকাশ মেলেনা সচারচর। হানিমুনও তো শেষ হয়ে যায়নি, বেড়াতে যাওয়ার জায়গা ঠিক করতে গিয়ে মন কষাকষিও শেষ হয়ে যায়নি। তাই এই গল্প এত প্রাসঙ্গিক। পরিচালকের মুখের কথা ছিনিয়ে নিয়ে বললেন রুদ্রনীল।
এক দম্পতির মধুচন্দ্রিমায় রুদ্রনীল এখানে কোন ভূমিকায়?‌ চরিত্রটির নাম ‘চিত্তরঞ্জন তরফদার‌’‌। কার তরফে চিত্তকে রঞ্জিত করতে তিনি উপস্থিত?‌ রঞ্জিত মল্লিকের তো নয় নিশ্চয়ই!‌ কারণ এই ছবিতে রঞ্জিতবাবু একজন জাঁদরেল ‘‌বস’ ‘পি কে ভট্টাচার্য‌’‌‌। অফিস কেটে হানিমুনে গিয়ে তাঁর খপ্পরেই তো পড়তে হবে সোহম-‌শুভশ্রীকে!‌ সেই খপ্পর থেকে নবদম্পতিকে উদ্ধারের দায়িত্বই নিয়েছেন চিত্তরঞ্জন ওরফে রুদ্রনীল।
এর আগে জি অরিজিন্যালসের জন্য ‘‌রাতের অতিথি’‌ পরিচালনা করেছিলেন ‘চিরদিনই তুমি যে আমার‌’‌ থেকে ‘বাই বাই ব্যাংকক‌’-‌এর মতো বিভিন্ন ঘরানার ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফার প্রেমেন্দুবিকাশ চাকি। এই প্রথম বড়পর্দার জন্য ছবি বানালেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বারবার মনে হত তিনি নিজে কেন পরিচালনা করছেন না। জানালেন রুদ্রনীল। ‘হানিমুন‌’‌-‌এর শুটিং করতে গিয়ে রুদ্রনীলের অনুভব, পরিচালকের স্বচ্ছ্ব একটা দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে বাংলা ছবি সম্পর্কে, বাঙালি দর্শকের স্পন্দনকে উপলব্ধি করেই একটি পরিচ্ছন্ন, মিষ্টি, মন ভাল করে দেওয়া ছবি বানিয়েছেন প্রেমেন্দুবিকাশ চাকি।
সান্তালিখোলার সামসিং চা বাগানেই ছবির মূল শুটিং হয়েছে। ডুয়ার্সের চোখজুড়ানো সৌন্দর্যের কাছে হার মেনে যেতে পারে ইউরোপের প্রকৃতি। কাজেই বিদেশে গিয়ে হাত-‌পা ছুঁড়ে লাফালাফি করার থেকে এই জায়গাটাকেও এক্সপ্লোর করতে পারবেন দর্শক। স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় রুদ্রনীল। সঙ্গে এও যোগ করলেন, যাঁরা ‘ছুটির ফাঁদে‌’‌ ১০ বারও দেখেছেন, তাঁদেরও মনে হবে বার দুয়েক ‘হানিমুন‌’‌টা দেখে ফেলি!‌
 মিষ্টি প্রেমের ছবি, ডুয়ার্সের মনোরম প্রকৃতি, গানের ভূমিকা যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তা তো বলাই বাহুল্য। তাই বাহুল্য-‌বর্জিত, ভণিতাহীন, নিখাদ বাঙালিয়ানাকে হাতিয়ার করেই সুরারোপ করেছেন, জানালেন স্বভাব-‌লাজুক তরুণ সঙ্গীত পরিচালক স্যাভি। ড্রিম-‌সিকোয়েন্সে তো যখন তখন গান ঢুকে যাওয়ার প্রবণতা বা স্বাধীনতা চিত্রনাট্যে হামেশাই দেখা যায়, এক্ষেত্রে সেটা একেবারেই নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী গান এসেছে, এবং সুর বা নেপথ্য-‌সঙ্গীতেও সেটা মাথায় রাখতে হয়েছিল। জানালেন স্যাভি।
সুরিন্দর ফিল্মস এবং গ্রিনটাচ এনটারটেইনমেন্টের যৌথ প্রযোজনায় ‘হানিমুন‌’‌ মুক্তি পেল শুক্রবার। অভিনয়ে রঞ্জিত মল্লিক, রুদ্রনীল ঘোষ, সোহম এবং শুভশ্রী। এই ‘‌হানিমুন’‌-‌এ গেলে আর ফিরতে ইচ্ছে নাও করতে পারে, হাসতে হাসতে বললেন পরিচালক প্রেমেন্দুবিকাশ চাকি।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top