‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: ‘‌পাপা, তোমায় বড় মিস করছি!‌’ ২৪ ফেব্রুয়ারি সাতসকালে ফোন পেয়েছিলেন বনি কাপুর। ফোনের ওপারে তাঁর স্ত্রী। বনিকে ওই নামেই ডাকতেন শ্রীদেবী। এপারে উচ্ছ্বসিত বনি বলেছিলেন, ‘‌আমিও তোমাকে বড্ড মিস করছি!‌’‌ ফোন পেয়ে এক লহমায় ১৯৯৪-‌এ পৌঁছে গিয়েছিলেন বনি। তখন সদ্য তাঁর প্রেমে পড়েছেন শ্রীদেবী। আর তাঁকে চমক দিতে না বলে–কয়ে বেঙ্গালুরু পাড়ি দিয়েছিলেন। এবারও তেমন করলে কেমন হয়!‌ ওইদিনই দুপুরে বিমান ধরে সোজা দুবাই। বড় মেয়ে জাহ্নবীও যেতে চাইছিলেন। একা যাতায়াতে অনভ্যস্ত মা নির্ঘাত পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলবেন, সেই ভয়ে। শেষমেশ যেতে পারেননি। এ পর্যন্ত বলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন চার সন্তানের বাবা, প্রৌঢ় বনি। মন দিয়ে বন্ধুর কথা শুনছিলেন চলচ্চিত্র সমালোচক কোমল নাহাতা। সেই রাতের ‘‌আসল’‌ ঘটনা জানালেন এবার বনিই। স্ত্রী শ্রীদেবীর কাটানো শেষ মুহূর্তগুলো প্র‌য়াত অভিনেত্রীর স্বামী, প্রযোজক বনির থেকে জেনে বিশদে ব্লগে জানিয়েছেন নাহতা। শেয়ার করেছেন টুইটারে। সদ্য স্ত্রীহারা বিধ্বস্ত বনি নাহতাকে জানিয়েছেন, মোহিতের বিয়ের পর কাপুর পরিবারের সবাই মু্ম্বই ফিরে গেলেও, থেকে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। জাহ্নবীর জন্য শপিং করবেন বলে। বনি যখন দুবাই বিমানবন্দর থেকে জুমেইরা এমিরেটসে পৌঁছোন, তখন সন্ধে ৬-‌২০। ডু্প্লিকেট চাবি দিয়ে স্ত্রীর স্যুইটে ঢোকেন। তাঁকে দেখে কিশোরী প্রেমিকার মতো উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন অভিনেত্রী। তবে শ্রীদেবী বুঝেছিলেন বনি তাঁকে নিতে আসবেন। দম্পতির কথা হয় আধঘণ্টা। স্ত্রীকে ডিনারে যাওয়ার আমন্ত্রণ দেন বনি। স্নান সেরে তৈরি হওয়ার সময় চান শ্রীদেবী। ততক্ষণ স্যুইটের লিভিং রুমে টিভি দেখছিলেন বনি। ১৫ মিনিট এভাবেই কেটে যায়। তারপর স্ত্রীকে তাড়া দিতে যান। ‘‌জান, জান’‌ বলে ডেকে ওঠেন। উত্তর মেলেনি। শৌচালয়ের দরজায় ধাক্কা দেন। সাড়া মেলেনি। উদ্বেগে দরজা ভেঙে ফেলেন। বাথটবে আপাদমস্তক ডুবেছিলেন শ্রীদেবী। কাছে গিয়ে বনি দেখেন সব শেষ। মেয়েদের আঁকড়ে থাকতেন, আগলে রাখতেন শ্রীদেবী। জাহ্নবী, খুশি ছিল তাঁর নয়নমণি। গতকাল ছিল বড় মেয়ে জাহ্নবীর জন্মদিন। এক আবেগঘন চিঠিতে মাকে স্মরণ করেছেন, পোস্ট করেছেন ইনস্টাগ্রামে। জাহ্নবী লিখেছেন, ‘‌এক আশ্চর্য শূন্যতা এসেছে। জানি ওই নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে। এত শূন্যতা সত্ত্বেও, তীব্রভাবে তোমার ভালবাসা টের পাচ্ছি মা। সব কষ্ট, যন্ত্রণা থেকে আমাকে আগলে রাখছো বুঝতে পারছি। যখনই চোখ বুজি, ভাল স্মৃতিগুলোই ভিড় করে।’‌ মাকে নিয়ে গর্বের শেষ ছিল না জাহ্নবীর। মা-‌ও তাঁকে নিয়ে একইভাবে গর্বিত হবেন, এই স্বপ্ন নিয়ে রোজ বাঁচবেন, লিখেছেন। একে মায়ের আকস্মিক মৃত্যু, তার ওপর তাঁর বাবাকে নিয়ে দোষী ঠাওরানোর চেষ্টা। এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যমের এই প্রয়াস নিয়ে দু’‌কথা লিখেছেন বনি-‌শ্রীদেবীর বড় মেয়ে। লিখেছেন, ‘‌চিরন্তন আমার বাবা-‌মায়ের ভালবাসা। আমার মায়ের জীবনের একটা মস্ত অংশজুড়ে ছিলেন আমার বাবা। দয়া করে তাই নিয়ে কাদা ছুঁড়বেন না। সম্মান করুন। আমার মা হিংসা, দ্বেষ জানতেন না। আজীবন মাথা উঁচু করে বেঁচেছেন। ভালবাসতে জানতেন। আপনারাও তিক্ততা ছেড়ে ভালবাসায় ফিরুন।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top