আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পরিনীতি চোপড়া একজন টেলিভিশন অভিনেতার সঙ্গে অভিনয় করতে চাননি। আর তাই জন্য ‘‌হাসি তো ফাসি’ ছবিতে নেওয়া যায়নি সুশান্তকে। তারপর সুশান্ত বিশ্বাসঘাতকতা করে ‘‌যশরাজ ফিল্মস’‌– এ কাজ করতে চলে যান। ‌
কেন সুশান্ত অনুরাগকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন? কেনই বা তাঁদের দু’‌জনের সুসম্পর্ক ছিল না?‌ ফায়ে ডি’‌সুজার সঙ্গে কথোপকথনে সেসব তথ্য খোলসা করলেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। অনুরাগের প্রযোজনা সংস্থা ‘‌ফ্যান্টম’ ‌‘‌হাসি তো ফাসি’– এর জন্য কাস্টিং শুরু করার পর প্রথমেই সুশান্তকে বেছে নিয়েছিলেন। তারপর পরিনীতি চোপড়ার কাছে যান অফার দেওয়ার জন্য। কিন্তু পরিনীতি স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন যে তিনি কোনও টেলিভিশন অভিনেতার বিপরীতে কাজ করতে চান না। অনুরাগ যুক্তি দিয়েছিলেন যে ‘‌যতদিনে ছবিটি মুক্তি পাবে ততদিনে সুশান্ত বলিউডে অনেকটা নাম করে যাবে। ‘‌কাই পো চে’ এবং ‘‌পিকে’ ছবিতে কাজ করছে।’‌ কিন্তু নায়িকা রাজি হননি। কিন্তু তখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এরইমধ্যে ‘‌যশরাজ ফিল্মস’‌ থেকে সুশান্তকে ডেকে বলা হয়, ‘‌তুমি ওই কাজটা ছেড়ে দিয়ে আমাদের নতুন ছবিতে কাজ করো।’ সুশান্ত ঝট করেই ‘‌যশরাজ ফিল্মস’‌– এর অফারটা নিয়ে নেন। এবং সেই পরিনীতার সঙ্গেই কাজ করেন ‘‌শুদ্ধ দেশি রোমান্স’ ছবিতে। তারপর আরও দু’‌টো তাদেরই সঙ্গে করেন। কিন্তু তখন বিষয়টা ততটাও খারাপ লাগেনি অনুরাগ বা ফ্যান্টমের বাকি পরিচালকদের। কারণ তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে ‘‌যশরাজ ফিল্মস’‌– এর ব্যানারে কাজ করাটা তাঁর কেরিয়ারের জন্য লাভজনক। কিন্তু ফের ২০১৬ সালে সুশান্ত এমনই কাজ করেন। কাস্টিং ডিরেক্টর ও পরিচালক মুকেশ ছাবরা সুশান্তকে গিয়ে জানান যে অনুরাগ এমন একজন অভিনেতা চাইছেন যিনি উত্তরপ্রদেশের একটি ছেলের চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। সুশান্ত তখন কিছুই বলেননি। তারপর ‘‌এমএস ধোনি’ মুক্তি পায়। তিনি অনেকটা জনপ্রিয়তা পান এই জগতে। ‌এবং তারপর ছবির বিষয়ে কথা বলার জন্যে একটা ফোনও করেননি অনুরাগকে। তারপর তাঁর মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে সুশান্তের ম্যানেজার সেই অনুরাগের কাছেই কাজ চাইতে যান। এবং সুশান্ত তাঁর ম্যানেজারকে বলেছিলেন, ‘‌আমার নাম নিও না। তাহলে সম্ভবত ফোন তুলবে না অনুরাগ।’‌ অনুরাগ ও সুশান্তের ম্যানেজারের মধ্যে কী কথা হয়েছিল সেটা আগেই অনুরাগ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু রয়ে গিয়েছিল অনেক প্রশ্ন। সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিলেন। শেষে অনুরাগ জানালেন, ‘‌সুশান্ত খারাপ ছিলেন না। কারওর সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেননি কোনওদিন। কিন্তু এই একটি স্বভাব ছিল তাঁর। সেটি হয়ত নিজেই পরিবর্তন করার চেষ্টা করছিলেন। তাই তাঁর ম্যানেজার আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এবং তাঁর মৃত্যুর পরেই বোঝা যায় যে তিনি এই পরিমাণ মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।‌‌   

জনপ্রিয়

Back To Top