লোপামুদ্রা ভৌমিক: ‘‌না–পাওয়া’‌ শব্দটার মধ্যেও প্রচ্ছন্ন উপস্থিতি ‘‌পাওয়া’‌র। ‘‌না’‌–কে নাকচ করলেই যে পাওয়ার আনন্দ। ঠিক যেমন কাল–করোনা আর লকডাউনের ভয় এবং একঘেয়েমির মধ্যেও চুপিসারে হাতছানি দিয়ে যাচ্ছে ‌সৃষ্টির সুখ। স্যোশাল মিডিয়া, ছোটপর্দা বা পত্রপত্রিকা জানান দিচ্ছে সেই সব কাহিনি। এখনও গল্প, কবিতা, ছবি বা সেলুলয়েড— সবেতেই ঘরবন্দি মানুষেরই জয়জয়কার। ভাইরাস পরাজিত। কারণ, লকডাউনকে সঙ্গী করে চার দেওয়ালের মধ্যেই গড়ে উঠছে অন্য ইতিবৃত্ত। যেমনটি করলেন বাংলা ব্যান্ড ‘‌শহর’‌–এর অনিন্দ্য বসু। লকডাউন আর করোনা–আবহ অনিন্দ্যকে দিল নতুন পরিচয়। পরিচালক। ঘরে বসে ক্রমশ হাঁফিয়ে উঠছিলেন। কী করি, কী করি ভাবতে ভাবতেই বানিয়ে ফেললেন ২৫ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের শর্টফিল্ম ‘‌ভাইরাস’‌।  তিনটি চরিত্র। একদা তারা ছিল কলেজে সহপাঠী। বর্তমানে দু’‌জন স্বামী–স্ত্রী। একজন থাকে আলাদা বাড়িতে। লকডাউন বদলে দিয়েছে তাদের জীবন। সেই বদলে–যাওয়া জীবনপথে হাঁটতে হাঁটতেই তা বাঁক নেয় থ্রিলারে। পুরো ছবিটাই তোলা হয়েছে মোবাইলে। তিন অভিনেতা–অভিনেত্রী সমর্পিতা, ঈশান এবং অণির্বাণও নিজের নিজের বাড়িতে বসেই শুটিং সেরেছেন। তারপর অনিন্দ্যর টেলিফোনিক নির্দেশ মেনে নিজের বাড়িতে বসেই এডিট করেছেন রূপককুমার সেন। ‘‌সব দিক থেকেই ব্যাপারটা ছিল চ্যালেঞ্জিং। এর আগে একাধিক সিনেমায় চিত্রনাট্য লিখলেও পরিচালনা এই প্রথম। তা–ও মোবাইলে। সঙ্গে গল্প, চিত্রনাট্যও। সুতরাং চাপ তো ছিলই। তবু এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে বড় ছবি তৈরির সাহস জোগাবে।’‌ জানালেন অনিন্দ্য। কিন্তু কীভাবে ‘‌ভাইরাস’‌ চাক্ষুষ করবেন দর্শক?‌ সেখানে ভরসা সোশ্যাল মিডিয়াই। বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথাবার্তা বলেছেন অনিন্দ্য। অনেকেই উৎসাহ দেখিয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও এই ছবি দেখানোর ব্যাপারে চেষ্টা করবেন পরিচালক।

জনপ্রিয়

Back To Top