আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ছ’ফুটের দীর্ঘ দেহ। সুতীক্ষ্ণ চাহনি। মুগ্ধ করা অভিনয়। একার কাঁধেই একটা ছবিকে বক্স অফিসের বৈতরণী পার করিয়ে দেওয়ার জাদুক্ষমতাধারী মানুষটি এবার সত্যিই ক্লান্ত? অবশেষে বিদায় জানাতে চাইছেন অর্ধশতাব্দী ধরে চলা নিজের নাম–যশ–খ‌্যাতির আলোয় মাখামাখি সেলুলয়েড জীবনটাকে? বলিউড ‘শাহেনশা’ অমিতাভ বচ্চন কি এবার অবসর নিতে চলেছেন?
উত্তর, হয়ত ‘হ্যাঁ’। কারণ, ইতিউতি ভেসে চলা জল্পনাকে অনেকটাই দূরে সরিয়ে রেখে বিগ বি নিজেই এই ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর ব্লগে। বলেছেন, তাঁর মন কাজ করতে চাইলেও শরীর জবাব দিচ্ছে। বলছে, অনেক হয়েছে, আর নয়।
দিনকয়েক আগেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন অমিতাভ। তার পর খানিকটা তড়িঘড়িই শেষ করেছেন সোনি টিভির বিখ‌্যাত রিয়েলিটি শো, ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’–র বাকি থাকা শুটিং। আবার ঠিক তার পরই যোগ দিয়েছেন পরিচালক অয়ন মুখোপাধ‌্যায়ের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছবির শুটিংয়ে। রণবীর কাপুর এবং আলিয়া ভাট অভিনীত এই ছবির শুটিং করতে গাড়িতে করে মানালি যেতে হয়েছে তাঁকে। আর সেখানে পৌঁছেই নিজের শরীরের দেওয়া ‘সিগন‌্যাল’ ধরতে পেরেছেন অমিতাভ। বুঝতে পেরেছেন, আর বেশি সময় তাঁর কাছে নেই। নিজের ব্লগে সে কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমার এবার অবসর নেওয়ার সময় হয়েছে। আমার মাথা এক কথা বলছে। কিন্তু শরীর অন‌্য কথা বলছে। এটা একটা বার্তা।’ তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই লেখার আগেই কিন্তু অমিতাভ ব্লগে মানালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে‌র বর্ণনা করেছিলেন। লিখেছিলেন, ‘চারদিক এত সতেজ, শীতের আমেজ রয়েছে। এখন ভোর পাঁচটা। চারপাশে পরিষ্কার নির্মল বাতাস, ১২ ঘণ্টার সফর করলাম গাড়িতে, কিন্তু আনন্দে কাটল। এই ছোট শহরের সহজ সরল আপ‌্যায়ন আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে। আমরা শহরবাসীর মতো সরল আর সৎ, কখনও হতে পারব না।’
১৯৬৯ সালে ‘সাত হিন্দুস্থানি’ ছবি দিয়ে অমিতাভের অভিনয় কেরিয়ার শুরু হয়। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে একাধিকবার অসুস্থ হয়েছেন তিনি। হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে। জটিল অস্ত্রোপচারও হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কখনও তাঁর মুখে অবসরের কথা শোনা যায়নি। এখনও সেই আগের মতোই আগ্রহ আর জীবনীশক্তি নিয়ে কাজ করেন সিনিয়র বচ্চন। সহকর্মীরাই বলেন যে, এই বয়সে এসেও অমিতাভের ‘এনার্জি’র সঙ্গে তাঁরা পাল্লা দিতে পারেন না। সেই ‘শাহেনশাহ’–র মুখেই অবসরের কথা! তাহলে কী এতদিন পর সত্যিই সেলুলয়েডকে বিদায় জানাতে চলেছেন বলিউডের ‘দ‌্য গ্রেটেস্ট শো–ম‌্যান’? উত্তর সময়ের হাতে। 

জনপ্রিয়

Back To Top