কৌতুকাভিনেতার তকমা গায়ে লেগে গেলে লোকে আর সিরিয়াস চরিত্রে নেন না। এটা কি বড় সমস্যা?‌
অম্বরীশ ভট্টাচার্য:‌ আমি এই সমস্যার মুখোমুখি হইনি। আমার প্রথম সিরিয়াল (‌‌রাজা–গজা)‌‌ হাস্যকৌতুক ছিল। তারপরে দু’‌একটা খুচরো অফার ছাড়া আমি কিন্তু মোটামুটি অন্য চরিত্র পেতে শুরু করি। এমনকী, নেতিবাচক চরিত্রেও সুযোগ পেয়েছি। রবি ঘোষের মতো ভার্সেটাইল জিনিয়াস অভিনেতাকে সাধারণ জনতা বাঘা বাইন হিসেবে চেনেন। কিন্তু উনি ছিলেন যাকে বলে একেবারে কমপ্লিট অ্যাক্টর। সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহকে পেয়েছিলেন রবি ঘোষ। সবার ভাগ্যে তো আর সেটা হয় না! 
 টেলিভিশনে ‘‌মহানায়ক’‌–এর ভাইয়ের চরিত্রে দারুণ মানিয়েছিল। অফারটা পেয়েছিলেন কীভাবে?‌ তরুণকুমারে ডুবে গেলেনই বা কবে?‌ 
অম্বরীশ:‌ ছোট থেকেই তরুণকুমারের অভিনয় দেখেছি। সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা অভিনয় করতেন। ‘‌মহানায়ক’‌–এর কাস্টিং ডিরেক্টর অভিনন্দন দত্ত অফার করেন চরিত্রটা। বোধহয় বুম্বাদা (‌‌প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়)‌‌ বলেছিলেন আমার কথা। যদিও আমাদের হাইট আলাদা। তবে বডি ল্যাঙ্গোয়েজে তরুণকুমারের সঙ্গে আমার প্রচুর মিল। আমার অভিনয় লোকের পছন্দ হয়েছে এবং স্বয়ং উত্তমকুমারের বাড়ি থেকে প্রশংসা পেয়েছি। তাছাড়া উত্তমকুমারের তিন নায়িকা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তীও প্রশংসা করেছেন। সেটা খুব বড় প্রাপ্তি। 
 দর্শকদের হাসানো কি সবচেয়ে কঠিন?‌
অম্বরীশ:‌‌ মানুষকে কাঁদানো অনেক সহজ। হাসাতে পরিশ্রম লাগে। এখনকার দিনে দাঁড়িয়ে চার্লি চ্যাপলিনকেও দু’‌বার ভাবতে হত মানুষকে কীভাবে হাসানো যায়! 
 ইন্ডাস্ট্রিতে এখন নাকি ‘‌ঠাকুরপো’‌ নামেই বেশি পরিচিত? কারও ‘‌উনি’‌ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না বলেই কি এমন?‌
অম্বরীশ:‌‌ মহানায়ক, গোয়েন্দা গিন্নি, পুণ্যিপুকুর— তিনটে মেজর সিরিয়ালে ‘‌ঠাকুরপো’‌র পার্ট করেছি। সেই জায়গা থেকেই পরিচিতিটা হয়ে গেছে। তাতে অসুবিধে নেই। কারণ ‘‌উনি’‌ হওয়ার থেকে ‘‌ঠাকুরপো’‌ হওয়া অনেক শান্তির। ‘‌ঠাকুরপো’‌ হলে বৌদিদের আদর পাওয়া যায়। উল্টে খরচাও করতে হয় না। 
 নায়ক মানেই সুদর্শন এবং পেটানো শরীর। আপনি গোলগাল বলেই কি আপনাকে নায়ক হিসেবে পরিচালকরা ভাবেন না?‌
অম্বরীশ:‌‌ হ্যাঁ, হতে পারে। কিন্তু পরিচালকদের ভাবনার খোরাক জোগানোর জন্য এখন আমার পক্ষে তো এই চেহারাটাকে পেটানো করা সম্ভব নয়। 
 কিছুদিন আগে একটা সিনেমা হয়েছিল বলিউডে। ‘‌দম লাগা কে হাইসা’‌। বিগ ফ্যাট ব্রাইড নিয়ে তো ছবি হয়। তা হলে বিগ ফ্যাট গ্রুমে ইন্ডাস্ট্রির অ্যালার্জি কেন?‌
অম্বরীশ:‌‌ ভূমি পেডনেকার, যিনি ‘‌দম লাগা কে হাইসা’–তে নায়িকা, তাঁকে কিন্তু পরের ছবিতেই আবার রোগা হতে হয়েছিল। আসলে আমাদের এখানে নায়ক–নায়িকাকে নিয়ে একটা সার্বিক চৌকো ভাবনা আছে। তবে বিগ ফ্যাট গ্রুমকে নিয়ে কেন কোনও ছবি হচ্ছে না, সেটা পরিচালকরাই ভাল বলতে পারবেন।
 নায়িকারা আপনাকে ফ্লোরে সিরিয়াসভাবে নেন?‌
অম্বরীশ:‌‌ নেন। ব্যক্তিগতভাবে মানুষটা আমি ভীষণ সিরিয়াস। সেটা নায়ক–নায়িকা উভয়ই জানেন। 
 কিছুদিন আগে খুব সিরিয়াস বিষয়ে আলোচনাসভায় কথা বলেছিলেন। টেলিভিশনে প্রতিদিনই তো পক্ষে–বিপক্ষে আসর বসে। ডাক আসে?‌ ব্যাপারটা যদি নিয়মে পরিণত হয়?‌
অম্বরীশ:‌‌ ডাক আসে। যাই। তবে সেটাকে কখনও নিয়মে পরিণত করতে দিই না। প্যানেলে গেলে এক পয়সাও পাওয়া যায় না! তাই নিয়মিত ডাক এলেও অনায়াসে রিজেক্ট করি (‌‌হাসি)‌‌। 
 কখনও ইচ্ছে করেছে টলিউড ছেড়ে বলিউডে যেতে?‌
অম্বরীশ:‌‌ বলিউডে টুকটাক কাজ করেছি তো। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গেও কাজ করেছি। তবে টানা কাজ করতে চাইনি। মাঝবয়সে এসে নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে গিয়ে হিন্দির মতো শক্ত ভাষায় কাজ করতে পারব না। মুম্বইয়ে স্ট্রাগল মারাত্মক। এই বয়সে স্ট্রাগল করা অসম্ভব। নতুন করে জীবনে অশান্তি বাড়িয়ে কী লাভ?‌ 
 ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ নাকি সিঙ্গল নেই। একের পর এক নায়িকারা বিয়ে করছেন। ছ্যাঁকা খাওয়ার ভয়ে কি ওপাঠ থেকে দূরে?‌
অম্বরীশ:‌‌ আমি বিয়েতে ভয় পাই। বন্ধু–বান্ধদের দেখেছি বিয়ে করা হবি!‌ পার্টি করার মতো। আমি পার্টি করতে ভয় পাই। বিয়ে করতে ভয় পাই। লঙ ড্রাইভে যেতেও ভয় পাই। যদি কখনও মনে হয়, বিয়ে না করে উপায় নেই তা হলে করব। দরজা খোলাই আছে। 
 ধরুন গুপি গাইন বাঘা বাইনের ভূতের রাজা এসে ‌গজাকে তিনটে বর দিতে চাইল। কী চাইবেন?‌
অম্বরীশ:‌‌ সত্যজিৎ রায় যে তিনটে বর দিয়েছিলেন, সেগুলোই চাইব। ওগুলোর থেকে ভাল ‌বর‌ আর নেই। হয় না।  
 ‘‌পড়ুয়া’‌ অপবাদটা আপনাকে দেওয়া যায়?‌
অম্বরীশ:‌‌ আমি পড়ুয়া–টড়ুয়া নই। সারাদিন বইয়ে মুখ গুঁজে রাখা টাইপও নই। তুলনায় গান শুনতে, গান নিয়ে থাকতে ভালবাসি। যখন থিয়েটার করতাম, তখন কেতকী দত্তের সঙ্গে নিয়মিত গান করেছি। এখনও থিয়েটারের গান করি। 
 যদি অভিনেতা না হতেন তাহলে কি চাকরি করতেন?‌
অম্বরীশ:‌‌ অভিনেতা না হলে ভয়ঙ্কর ঝামেলায় পড়তাম! ওই ১০টা–৫টার স্ট্রাগলটা পারতামই না। ওটা অভিনয়ের থেকে অনেক শক্ত কাজ। প্রতিদিন সকালে উঠে বাজার যাওয়া, বাড়ি এসে খাওয়া–দাওয়া করে অফিস যাওয়া, বৌ–বাচ্চা পালন করতে একেবারে অন্য লেভেলের ট্যালেন্ট লাগে। আমার সেটা নেই।

জনপ্রিয়

Back To Top