আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌গার্হ্যস্থ হিংসা’‌র অভিযোগ উঠেছে দীপাংশু আচার্য্যের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি গীতিকার হিসাবে বেশ নামডাক হয়েছে তাঁর। বিশেষত পরিচালক সৃজিত মুখার্জির ‘‌শাজাহান রিজেন্সি’‌ ছবির ‘‌কিচ্ছু চাইনি আমি আজীবন ভালবাসা ছাড়া’ গানটির পর। এছাড়াও সদ্য জনপ্রিয় হওয়া ‘‌টুম্পা’ গানটিতে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাঁকে। এসব ছাড়াও লেখক, কমেডিয়ান হিসেবে পরিচিত দীপাংশু। তাঁরই বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এল একাধিক অভিযোগ। 
রবিবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন দীপাংশুর ‘‌প্রাক্তন প্রেমিকা’‌ শ্রেয়সী চৌধুরী। তিনি জানান, সম্পর্কে জড়ানোর কিছুদিন পর থেকেই তাঁর ওপর ‌‌মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। শ্রেয়সীর বয়ান, ‘‌বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে অপদস্ত করা। আমার বাড়িতে এসে আমার জিনিসপত্র ভাঙচুর করা, থাপ্পড় মারা, কিল, চড়, ঘুঁষি। মুখ টিপে ধরা, গলা টিপে ধরা। লাথি মারা। আমার যোনিতে লাথি মেরেছে এই ছেলেটি। যতদিন কলকাতায় ছিলাম, আমার বাড়ি এসে চিৎকার, চ্যাঁচামিচি, হেনস্থা করে গেছে।’‌ 
একই অভিজ্ঞতার শিকার দীপাংশুর বর্তমান স্ত্রী শ্রীতমা ভট্টাচার্য। এখন আর একসঙ্গে থাকেন না তাঁরা। বিচ্ছেদের মামলা আদালতে বিচারাধীন, ফলত এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে তিনি বিশেষ কোনও মন্তব্য করতে পারেননি। যদিও ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘‌‘‌আইনি বিচ্ছেদ চলাকালীন অভিযুক্তের দ্বারা ক্রমাগত হেনস্থার শিকার হয়েছি। হিংসার কথা নিয়ে প্রশ্ন তোলাতেই ‘‌ডিভোর্স দেব না’‌ বলে হুমকি দেখানো এবং মিউচুয়াল ডিভোর্সের মামলায় অযথা দেরি করে দিনের পর দিন হেনস্থা করা হয়েছে আমাকে। ‘‌কোর্টে কেস কর, তারপর ডিভোর্স পাবি’‌, এইধরনের বিভিন্নরকম কথা বলে মানসিক, অর্থনৈতিক ও আইনি হেনস্থা করা হয়েছে।’‌’‌
অভিযোগ অস্বীকার না করলেও বয়ানে ‘‌রঙ চড়ানো’‌ হয়েছে বলেই মনে করেন দীপাংশু। ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি নিজেই লিখেছিলেন, ‘.‌.‌.‌মাঝেমধ্যেই আমার কারণে ঝগড়া এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেত, যেটা খুবই পাশবিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন আমি বা আমরা মদ খেয়ে আছি। ঝগড়ার সময়ে আমি ওঁর গায়ে হাত তুলেছি। ভয়ঙ্কর ভায়োলেন্স তৈরি করেছি।’‌ 
অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ দীপাংশুর দীর্ঘদিনের পরিচিত‌। ‘‌আজকাল ডিজিটাল’‌–কে নিজেই জানিয়েছেন সেকথা। গীতিকারের বিরুদ্ধে ‘‌গার্হ্যস্থ হিংসা’‌র অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘‌দীপাংশু ও তাঁর স্ত্রীয়ের মধ্যে যা ঘটেছে, তা একেবারে তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু যেটা বলার, যখন এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তখন তিনি (‌স্ত্রী শ্রীতমা)‌ চুপ ছিলেন কেন?‌‌ নাকি ভয় পেয়েছিলেন?‌’‌ 
এতদিন পরে কেন প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে,‌ সেই প্রশ্ন তুলে সায়নী বলেন, ‘‌সমাজের নীচুস্তরের বা গ্রামের মহিলারা অবলম্বন হারিয়ে ফেলার ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না। কিন্তু শ্রীতমা বা শ্রেয়সীরা তো প্রত্যেকে শিক্ষিত, স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন। সম্পর্কে জড়াতে তাঁদের তো কেউ জোর করেনি। আমার মনে হয়, এই অভিযোগগুলো আরও আগে উঠে এলে এটার প্রতি আমি আরও বেশি সলিডারিটি দেখাতে পারতাম। যেহেতু এখন লোকে দীপাংশুকে চিনছে, আমার ধারণা, শ্রীতমা বা শ্রেয়সীর মনে হয়েছে, এই সময়টাই উপযুক্ত।’‌
এই প্রসঙ্গেই অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র বলেন, ‘‌আমি যখন নেপোটিসম নিয়ে বলেছি, তখন আমাকেও বলা হয়েছে, এতদিন পরে কেন?‌ হয় সে তৈরি ছিল না বা সেই সময়টা তার জন্য উপযুক্ত ছিল না। ফলত বাইরে থেকে এইসব কথা বা ধরে নেওয়া বা মনে হওয়া চলতেই থাকবে। আমি এসব থেকে দূরে থাকতে চাই।’‌ 
অভিযোগকারিণী শ্রেয়সী চৌধুরী বলেন, ‘‌হঠাৎ করে দেখলাম, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে বিপ্লবের মুখ হয়ে উঠছেন দীপাংশুর মতোন একজন মানুষ। যাঁর ভেতরেই ফ্যাসিজমের চরিত্র লুকিয়ে রয়েছে। গোটা ঘটনার সূত্রপাত সেই জায়গা থেকেই। আর এই ঘটনা যে ১০ বছর আগে ঘটেছে, তা নয়। এখনও ঘটছে। এখনও শ্রীতমাকে হেনস্থা করে চলেছে।’‌ ‘‌অ্যাক্টিভিস্ট’ শতাব্দী দাস বলেন, ‘‌এই সুযোগে অভিযুক্ত প্যারডিকার ও কবি অনেক বিখ্যাত নামের সঙ্গে একাসনে বসে পড়লেন, এটা মজার ব্যাপার। কিন্তু লজ্জার ব্যাপার হল, অভিযোগকারিণীকে এতটাই অপমানিত হতে হয় অভিযোগ করার পর যে, তাঁকে বিস্তারিত লিখতে হয় অত্যাচারের পুরো কাহিনী। পুরাতন ক্ষত খুঁড়তে হয়। নাহলে ভিক্টিম–ব্লেমিং চলে। এবং লেখার পরেও ভিক্টিম–ব্লেমিং চলে। অত্যাচারের যে বর্ণনা পড়া গেল, তা ক্লাসিকাল এবিউজ সাইকল।’‌  

জনপ্রিয়

Back To Top