Aindrila: কেমোর ক্ষতটা ঢেকে দিও, দেখলেই অতীত মনে পড়ে! শেষ ফ্যাশন শ্যুটে ডিজাইনার রাইকিশোরীর কাছে আর্তি ঐন্দ্রিলার

আজকাল ওয়েবডেস্ক:   সাল ২০২০ আর সাল ২০২২।

 

আসমান-জমিন ফারাক ঐন্দ্রিলা শর্মার জীবনে। অতিমারি তো ছিলই। আর ছিল মারণব্যাধি ক্যান্সারের কামড়। সব মিলিয়ে সাময়িক নুইয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভেঙে পড়েননি। ভেঙে যে পড়েননি তার প্রমাণ, ২০২২-এর পুজোর আগে ঐন্দ্রিলার ব্যস্ততা। তাঁকে পুজোর শ্যুটে শেষ সাজিয়েছেন পোশাকশিল্পী রাইকিশোরী কৃষ্ণকলি।

কাজের কারণে মাত্র একটা দিন তাঁরা এক সঙ্গে কাটিয়েছিলেন। আজকাল ওয়েবডেস্কের কাছে সেই অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে গলা ধরে এসেছে তাঁর। রাইকিশোরীর দাবি, ‘‘মাত্র একটা দিনের কাজ। ঐন্দ্রিলাদি আর কোথাও নেই। কিন্তু মনে হচ্ছে, ওই একটি দিন যেন আমাদের জন্মান্তরের বাঁধনে বেঁধে দিয়েছে। আমার সঙ্গে মাটিতে বসে আড্ডা দিয়েছেন। খাবার ভাগ করে খেয়েছেন। স্টুডিয়োয় দুটো পোষ্য সারমেয় আছে। তাদের বুকে জড়িয়ে ধরে কী আদর!’’ বলতে বলতে একরাশ কষ্ট গলার কাছে দলা পাকিয়েছিল পোশাকশিল্পীর। একটু থেমে আবার বলেছেন, ‘‘দিদি একটাই অনুরোধ করেছিলেন। শাড়ি পরানোর পরে বুকের কেমোর ক্ষতটা রূপটানে ঢেকে দিও। ওটা দেখলেই অস্বস্তি হয়। অতীত সামনে এসে দাঁড়ায়।’’

রাইকিশোরীও পাল্টা প্রশ্ন রেখেছিলেন, ‘‘অত কেমো নিয়েছ। তোমার ব্যথা করত না?’’ প্রশ্ন শুনে নাকি ম্লান হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তার পর মৃদু স্বরে জানিয়েছিলেন, নিজের চিকিৎসা সম্বন্ধে কিছুই খেয়াল রাখতেন না তিনি। সব দায়িত্ব সব্যসাচী চৌধুরীর। তিনি যত্ন করে হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। যা চিকিৎসার প্রয়োজন সেটা করাতেন। ঐন্দ্রিলার কথায়, ‘‘সব্য না থাকলে আমি কোথাও নেই। কিচ্ছু নেই। ওকে ছেড়ে থাকতে পারি না। তাই আমি বেঁচে আছি।’’

রাইকিশোরীর আজও মন পড়ে, শ্যুট নিয়ে কয়েক দিন কথা বলেছিলেন তাঁরা। তার পর নির্দিষ্ট দিনে সবাইকে অবাক করে দিয়ে স্কুটি চালিয়ে নায়িকা হাজির! পোশাকশিল্পীর মতে, এত মাটির কাছাকাছি তিনি হাতগোনা কিছু মানুষকে দেখেছেন। রাইকিশোরীর সাজও খুব পছন্দ হয়েছিল তাঁর। কেমন সেজেছিলেন ‘জিয়ন কাঠি’র অভিনেত্রী? পোশাকশিল্পী বললেন, ‘‘একটাই লুক ছিল। অষ্টমীর দিন। দিদিকে তসরের শাড়ি বেছে দিয়েছিলাম। মাথায় জুঁইয়ের মালা। দিদির চেহারায় ভীষণ লক্ষ্মীশ্রী। তাই হাতে পদ্ম দিয়েছিলাম।’’ ঐন্দ্রিলা নাকি এই লুকে দারুণ খুশি। বিশেষ করে তসরের শাড়ি আর গামছার গয়নায়। বলেছিলেন, ‘‘বরাবরই ছিমছাম সাজতে ভালবাসি। কিন্তু গামছা দিয়েও যে গয়না হয়, কে জানত! আমাকে কেউ এত অন্য রকম কোনও দিন সাজায়নি। এ বছরের পুজোর শ্যুট আজীবন মনে থাকবে।’’

শ্যুট শেষে তাই পোশাকশিল্পীর কাছে আগাম বায়না, আগামী বছরেও ঐন্দ্রিলা তাঁর কাছেই সাজবেন। সব্যসাচীকে ডেকে এনে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন পোশাকশিল্পীর সঙ্গে। রাইকিশোরীর দাবি, ‘‘একবার কাজে মন বসে গেলে দিদি আর কোনও দিকে ফিরে তাকাতেন না। আমার শ্যুট আগে শেষ করে তবে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন।’’ শরীরে কোনও সমস্যা ছিল? পরিশ্রম করতে পারতেন ঐন্দ্রিলা? রাইকিশোরীর কথায়, ‘‘কোনও সমস্যা ছিল না। সবার মতোই সুস্থ, স্বাভাবিক। সারাক্ষণ চমমনে। উৎসাহে ফুটতেন। তবু নিয়ম মেনে চিকিৎসকের কাছে যেতে হত ঐন্দ্রিলাদিকে। ব্যস, ওটুকুই।’’

শ্যুট শেষ। রাইকিশোরীর মনখারাপ। ঐন্দ্রিলা কথা দিয়েছিলেন, ‘‘আসতে না পারি ফোন করব। কথা রেখেওছিলেন। হোঁদল রেস্তরাঁর উদ্বোধন। রাইকিশোরীর নিমন্ত্রণ। পুজোয় ফোনে খবরাখবর নেওয়া ছিলই। ভাইফোঁটায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আমায়। ‘বাড়িতে এসো, ফোঁটা নিয়ে যেও।’ কাজের চাপে যেতে পারিনি।’’ ঐন্দ্রিলার কথা উঠলেই তাই চোখ ভিজে ওঠে তাঁর। নিজের কাছে যেন নিজেই অপরাধী! অত বার করে ডেকেছিলেন ‘দিদি’ ঐন্দ্রিলা শর্মা। রাইকিশোরীর আফসোস, একটু সময় বের করে ফোঁটা নিয়ে এলে কি খুব ক্ষতি হত?

আকর্ষণীয় খবর