‌বাইশ গজের জীবন

সোমনাথ গুপ্ত: বাইশ গজ ঘিরে এখন অনেক বেশি নাটক। শুধু ক্রিকেটাররাই নন, সেখানে জড়িত বাণিজ্য। আমাদের দেশে ক্রিকেট-‌বাণিজ্যের বিরাট মহিমা। ক্রিকেটার ঘিরে ব্যস্ত এজেন্টরা। নজর রাখছে স্পনসর। এক বিশাল জগত। সেই জগতটাকে পরিচালক মিতালি ঘোষাল ধরতে চেয়েছেন তাঁর হিন্দি ছবি ‘‌টুয়োন্টি টু ইয়ার্ডস’‌-‌এ।
ছবির প্রথমার্ধ আবর্তিত হয়েছে স্পোর্টস এজেন্ট রণ সেনকে (‌বরুণ সবতি) ঘিরে।‌ তর-‌তর করে সাফল্যের সিঁড়ি-‌ভেঙে-‌চলা এই উদ্যমী এজেন্টের চলার পথটা তছনছ হয়ে যায় এক চক্রান্তে। ক্রিকেট সংক্রান্ত স্ক্যান্ডালে জর্জরিত রণ যখন প্রেম থেকেও মুখ ফিরিয়েছে, তখন এক শপিং মলে সে দেখতে পায় টিন-‌এজার সোমকে (‌অমর্ত্য রায়)‌, যে একজন প্রতিভাবান উঠতি ক্রিকেটার। হতাশায় ডুবে যাওয়া জীবনে সোমকে ধরে কি আলোর দিকে যেতে পারবে রণ?‌ কেন আর খেলতে চায় না সোম?‌ কেন আপত্তি সোমের দিদি তৃষ্ণার (‌চৈতি ঘোষাল)‌?‌
ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়। উঠে আসে খবরের কাগজ, সাংবাদিক, সংবাদ মাধ্যম, ক্রিকেট প্রশাসন।

এবং এক মনোবিদ ডা.‌ জাহিদ খান (‌রজিত কাপুর)‌।
একসঙ্গে অনেকগুলো বিষয়কে কেন্দ্র নিয়ে আসা হয়েছে। গল্প সূত্র যে ভাল সন্দেহ নেই। তার জন্যে মিতালি এবং সম্রাট যুগ্মভাবে বাহবা পাবেন। কিন্তু সবগুলো বিষয়কে ধরতে গেলে চিত্রনাট্য আরও মজবুত হওয়া দরকার ছিল। কিন্তু, তা সত্ত্বেও মিতালি বেশ দক্ষতার সঙ্গে নানান দিককে শেষ পর্যন্ত একটা নির্দিষ্ট অভিমুখে নিয়ে যেতে পেরেছেন। বজায় রাখতে পেরেছেন নাটকীয়তা।
রণ সেনের ভূমিকায় খুবই ভাল অভিনয় করেছেন বরুণ সবতি। সোমের ভূমিকায় অমর্ত্য এক নবীন ক্রিকেটারের জেদকে স্পষ্ট করেছেন দক্ষতার সঙ্গে। সোমের দিদির চরিত্রে চৈতি ঘোষালের অভিনয়ে গভীরতা স্পষ্ট। ডা.‌ জাহিদ খানের ভূমিকায় রজিত কাপুর অনবদ্য। তিন দক্ষ অভিনেতা মৃণাল মুখার্জি, কল্যাণ চ্যাটার্জি এবং রাজেশ শর্মা জাত চিনিয়েছেন। ক্রিকেট প্রশাসকের চরিত্রে দেবাশিস দত্ত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। অমিত সিং ও রঞ্জন পালিতের ক্যামেরা প্রশংসনীয়। অমর্ত্য রায় ও বোবো রাহুতের মিউজিক ভাল।
সব মিলিয়ে, নবীন পরিচালক মিতালি ঘোষাল প্রথম ছবিতেই স্পষ্ট করলেন তাঁর দক্ষতা। আশা করা যায়, তাঁর চলচ্চিত্র-‌যাত্রা দীর্ঘস্থায়ী হবে। ‌

আকর্ষণীয় খবর