আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘‌মিটার, প্রদোষ সি মিটার’। মানাচ্ছে না। পদবী আগে, তারপর গোটা নাম। এর কপিরাইট বহুদিন আগেই ‘‌০০৭’–এর দখলে চলে গিয়েছে। ফেলুদা, ব্যোমকেশ, শার্লক হোমস, জেমস বন্ড (‌যদিও বন্ড গুপ্তচর)– সবার স্টাইল আলাদা। ঘেটে ঘ’‌ করলে তার নাম ফেলুদার জায়গায় ফালুদা হয়ে যাবে। ট্রেলার দেখে এই ভয়টাই হচ্ছে। কোথাও গিয়ে ওই সাদা কালো স্কেচের ফেলুদাটা হারিয়ে না যায়। কারণ বাঙালি হ্যাংওভার থেকে সহজে বেরতে পারে না। তাতে পরিচালক সৃজিত মুখার্জির দোষ নেই। কারণ, স্বয়ং লেখক তাঁর চরিত্রকে সেলুলয়েডে যেভাবে নিয়ে এসেছিলেন, তাকে টেক্কা দেওয়া অথবা শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে ‘‌রিক্রিয়েট’ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঙালি দর্শকের আরও কত প্রজন্ম যে তা ভুলতে পারবে না কে জানে।‌ বিশেষ করে সত্যজিৎ–সৌমিত্র জুটির জায়গায় অন্য কাউকে বসানোর সময়ে বুকে পাথরের ভার টের পেতে থাকে তারা। তার ওপরে কয়েকদিন আগে জুটির দ্বিতীয় নক্ষত্রপতন হয়ে গিয়েছে। এখনও ফেলুদা বলতে সৌমিত্রর চোখদু’‌টি মনে পড়ে। মনে পড়ে অবিশ্বাস্য অভিনেতা সন্তোষ দত্ত, সিদ্ধার্থ চ্যাটার্জি, হারিন চট্টোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত, কামু মুখার্জির কথা। আর সত্যজিতের সুরের বদলে জয় সরকারের সিন্থেটিক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সঙ্গে ফেলু ত্রয়ীকে দেখাটা একটু কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে দর্শকের কাছে। তার ওপরে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রের সত্তা ছিনিয়ে নিয়েছেন পরিচালক। বাঘ। সিজিআইয়ের ফলে কার্টুন বাঘে পরিণত হয়েছে সে। ট্রেলার দেখে দর্শকেরা যা যা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তার মধ্যে প্রথম এটি। আর দ্বিতীয় হল, বড় বড় করে লেখা, ‘‌রিটেন বাই সৃজিত মুখার্জি’। যদিও ‘‌বেসড অন আ স্টোরি বাই সত্যজিৎ রায়’ লেখা রয়েছে, কিন্তু না, তাতে আগের বাক্যটি ভুলতে পারছেন না কেউ।‌ সেই নিয়ে জোর তর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। স্ক্রিনশট যুদ্ধ চলছে এখন। সমালোচকদের বক্তব্য, এভাবে ‘‌রিটেন’ শব্দটি ব্যবহার করা উচিত হয়নি। আর সৃজিতের বক্তব্য, ‘স্ক্রিনপ্লে অ্যান্ড‌ ডায়ালগ’ অর্থাৎ ‘‌চিত্রনাট্য ও সংলাপ’‌‌–এর জায়গায় কেবল ‘রিটেন‌’ লেখা যায়। তাতে মানে বদলায় না। লেখককে কোথাও ছোট করা হয় না। তার উত্তরে ফের সমালোচকেরা ভুরি ভুরি উদাহরণ নিয়ে হাজির, কোন পরিচালক কোন শব্দের ব্যবহার করেছেন। তার পাল্টা ফের সৃজিত। কিন্তু এসবের মাঝে ‘‌আড্ডাটাইমস্‌’–এর ‘‌ফেলুদা ফেরত’–এর ট্রেলারটিতে ‘‌রিটেন’ শব্দটি তুলে দিয়ে ‘স্ক্রিনপ্লে অ্যান্ড‌ ডায়ালগ’ বসানো হয়েছে। কিন্তু তারপরেও পরিচালক তাঁর বক্তব্যেই দৃঢ়। এবং যুদ্ধ চলছে।‌‌‌‌ বইয়ের মলাট পড়ে ভেতরের লেখা বিচার করা উচিত না। হক কথা। কিন্তু কেবল মলাট তো বিচার করাই যায়। কিন্তু তাতেও সিরিজটি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত এত জোর দিয়ে কিছুই বলা যায় না। হয়তো, বাঙালি টোটা রায়চৌধুরী ও সৃজিত মুখার্জির জুটিকে ভালভাবেই গ্রহণ করবে। তবে একথা অনস্বীকার্য যে টোটা রায়চৌধুরী, অনির্বাণ চক্রবর্তী, কল্পন মিত্র, ধৃতিমান চ্যাটার্জি, কুশল চ্যাটার্জি, সমদর্শী দত্ত, পৌলমী দাস অভিনীত ‘‌ছিন্নমস্তার অভিশাপ’‌–এর ট্রেলার দেখার ধূম পড়ে গিয়েছে বাংলায়। তা সে মিশ্র প্রতিক্রিয়াই হোক না কেন। এরপরে ‘‌যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডু’‌–এর ট্রেলারের জন্য অপেক্ষা বাঙালির।‌

জনপ্রিয়

Back To Top