সাগরিকা দত্তচৌধুরি

বাংলায় করোনায় সুস্থতার হার অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় যথেষ্ট ভাল। একজন কোভিড রোগীকে দ্রুত সুস্থ করতে স্বাস্থ্য দপ্তরের পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালের ভূমিকাও কোনও অংশে কম নয়। প্রতিটি হাসপাতালের কোভিড টিমের চিকিৎসকরাও রোগী পরিষেবায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। কোনও কোভিড রোগীর অবস্থা সামান্য অবনতি হলে দ্রুত তঁদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছে সব হাসপাতাল। চিকিৎসায় যাতে কোনওরকম দেরি না হয় তার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তর সর্বক্ষণ চিকিৎসকদের পাশে থেকে একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে অন্যদিকে তাঁদের মনোবলও বাড়াচ্ছে।
এম আর বাঙুর হাসপাতালের সুপার ডাঃ শিশির নস্কর বলেন, ‘‌চিকিৎসার প্রোটোকল বিশেষ কিছু আলাদা নেই। মূলত রোগীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রোগীর শারীরিক সমস্যা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছি। যাতে সব রোগী নজরে থাকে। রোগীর নাম লিখে কার কী সমস্যা তা নথিভুক্ত করে রাখা হচ্ছে। কোনও রোগীর অবস্থা সামান্য খারাপ হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’‌ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, ‘‌রোগটি আমাদের কাছে অপরিচিত। আর নতুন কিছু ব্যবস্থা শুরু করতে গেলে প্রথম দিকে কম–বেশি একটু সমস্যা হয়। তারপর আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়।’‌ কলকাতা মেডিক্যালে মেডিসিনের প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক সঞ্জয় চ্যাটার্জি টানা ৭–৮ ঘণ্টা কোভিড ওয়ার্ডে ডিউটি করছেন।
বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের ইনচার্জ ডাঃ ধূর্জটি ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌নতুন কিছু শুরু করতে গেলে প্রথম দিকে অনেক অসুবিধা থাকে। স্বাস্থ্য ভবনের সহযোগিতা সবসময়ই রয়েছে। আগের থেকে এখন লোকবল বেড়েছে। এখন আমরা অনেকটাই গুছিয়ে উঠতে পেরেছি। এখন সুস্থ হওয়ার হার সমস্ত হাসপাতালেই আগের তুলনায় বেড়েছে। কমিয়ে আনা গেছে মৃত্যুহারও। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবার অভিজ্ঞতা বাড়ছে। আরও কী করলে রোগীকে দ্রুত সুস্থ করতে পারব, সেটা নিয়ে সবসময়ই আমরা ভাবছি। আইসিএমআরের গাইডলাইন ছাড়াও স্বাস্থ্য দপ্তরেরও তৈরি চিকিৎসা প্রোটোকল ও নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এখানে চলছে প্লাজমা থেরাপি। আরও বেশ কয়েকজন রোগীকে এই থেরাপি দেওয়া হবে।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top