আজকালের প্রতিবেদন: করোনাকে জয় করে একসঙ্গে ৬০ জন রোগী কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন সোমবার। কারও কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে। কেউ আবার উচ্চ রক্তচাপ, শুগারের শিকার। কেউ ভুগছেন হার্টের সমস্যায়। তো কেউ বিরল রক্তের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। কারও বয়স ৪৭ তো কারও আবার ৫২। কারও আবার ৬০ বছর বয়স। রয়েছেন ৮২ বছরের প্রকাশ রাম, ৭২ বছরের বীণাপাণি দাশ। তাঁরাও ভুগছেন প্রেশার, শুগারে। ৩৫ বছরের এক যুবকের কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছিল কয়েক মাস আগে। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, ডায়াবেটিক ফুট রোগে পায়ের আলসার নিয়েও করোনা রোগী ভর্তি ছিলেন। সকলেই মারণ ভাইরাস কোভিড ১৯–‌এর শিকার হয়েছিলেন। অধিকাংশেরই নানা রকম কো–মর্বিডিটি ছিল। চার জন সিআইএসএফ জওয়ান রয়েছেন। তা সত্ত্বেও এঁরা করোনার সঙ্গে লড়াই করে গেছেন। কঠিন যুদ্ধে তাঁরা আজ জয়ী। সেই জয়ের আনন্দ এদিন তাঁরা ভাগ করে নিলেন। হাসপাতাল থেকে ছুটির সময় তাঁরা সবাই পরিষেবা, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সব করোনাজয়ীর হাতে ফুল, স্বাস্থ্যকর খাদ্য হাতে দেন  হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান, মন্ত্রী ডাঃ নির্মল মাজি। সবাইকে তিনি অভিনন্দন জানান।
ডাঃ নির্মল মাজি বলেন, ‘‌আমরা কাজ করে যাই। ফলের প্রত্যাশা করি না। সমালোচনা নিয়ে আমরা ভাবি না। দায়িত্ব নিয়ে মানুষের পাশে থেকে সেবা করে যাই।  মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রাজ্যের মানুষকে দিশা দিয়েছিলেন এখানে কোভিড হাসপাতাল হবে বলে। এখানে ৫০০ শয্যার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে পরিষেবা দিচ্ছি। অনেক দুরারোগ্য রোগীও ছিলেন যাঁদের কোভিড ১৯–‌এর চিকিৎসা চলছিল। অনেক বয়স্ক–‌সহ অ্যাপলাস্টিক অ্যানিমিয়ার রোগীও রয়েছেন। সবাইকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠাতে পারলাম। এখানেই আমাদের লড়াইয়ের জয়।’‌  
বেলেঘাটা আইডি, এমআর বাঙুরের পর সরকারি স্তরে কলকাতা মেডিক্যাল কৃতিত্বের স্থান দখল করে নিল।  হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে এক রোগীকে ঝাড়খণ্ডে পাঠানো হয়। মোমিনপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, বারুইপুর, হাওড়া, শ্রীরামপুর, বরানগর, কাঁকুড়গাছি, বারাসত, বেলঘরিয়া, সোদপুর–‌সহ একাধিক জায়গার রোগীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। করোনা  হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে গিয়েছিল কলকাতা মেডিক্যাল।
হাসপাতালের সুপার ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, ‘চিকিৎসক, কর্মী থেকে শুরু করে গোটা হাসপাতালের কর্মীরা যেভাবে করোনা আক্রান্তদের বাঁচানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।’‌  

জনপ্রিয়

Back To Top