রিনা ভট্টাচার্য: করোনার প্রকোপ বাড়ার কারণে রাজ্যের সমস্ত কন্টেনমেন্ট জোন এবং তার চারপাশ এলাকায় আবার কঠোর লকডাউন।
৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার, মানে আগামিকাল বিকেল ৫টা থেকে এই লকডাউন বলবত করা হবে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এক নির্দেশিকায় এ কথা জানিয়েছেন। এই নির্দেশিকা সব জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভা, নগরপাল অনুজ শর্মাকে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে অঞ্চলগুলিতে লকডাউন কঠোরভাবে জারি করা হবে সেই অঞ্চলে সমস্ত সরকারি–‌বেসরকারি অফিস, পরিবহণ, বাজার, ব্যবসা–বাণিজ্য সংক্রান্ত সমস্ত সংস্থা বন্ধ থাকবে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া সমস্ত দোকান বন্ধ থাকবে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্য সমস্ত ধরনের পরিষেবা বন্ধ থাকবে। ধর্মীয়–সহ সমস্ত ধরনের অনুষ্ঠান ও জমায়েত কঠোরভাবে বন্ধ থাকবে। কোন কোন এলাকা কন্টেনমেন্ট জোন হবে তা মাইকে প্রচার করে জানিয়ে দেবে স্থানীয় প্রশাসন।
এই লকডাউন কতদিনের জন্য বলবত করা হচ্ছে, তা নির্দেশিকায় উল্লেখ নেই। সূত্রের খবর, সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে অন্তত ১৪ দিন এই কঠোর লকডাউন জারি থাকবে।
এদিন কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে করোনা আক্রান্ত হয়েও মাস্ক ছাড়াই বাড়ির বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কন্টেনমেন্ট এলাকার বাসিন্দারা বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। করোনা আক্রান্তের পরিবারের সদস্যদের অন্তত ১৪ দিন নিজেদের বাড়ির মধ্যে থাকা উচিত। এই সময়ের পর নমুনা পরীক্ষা করে সংক্রমণ না থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই বাড়ির বাইরে বেরোনো উচিত। কিন্তু অনেকেই এই নিয়ম মানছেন না। তাই পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়েছে, যাতে এই নিয়ম কঠোরভাবে মানা হয়।
কন্টেনমেন্ট জোনের বাসিন্দাদের সরকারি অথবা বেসরকারি কোনও অফিসেই আসার প্রয়োজন নেই। তাদের হাজিরার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্থানীয় প্রশাসন বাড়িতে পৌঁছে দেবে। যে সব এলাকায় লকডাউন কার্যকর করা হচ্ছে সে সব এলাকায় বাইরে থেকে কোনও মানুষ আসতে পারবেন না। ওই এলাকা থেকে কেউ বাইরে যেতেও পারবেন না। কলকাতার ক্ষেত্রে কোন কোন এলাকা কন্টেনমেন্ট জোন হবে তা কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশ আলোচনা করে ঠিক করে নেবে। জেলার ক্ষেত্রে জেলাশাসক এবং পুলিশ কমিশনার বা পুলিশ সুপার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। কোন কোন এলাকা কন্টেনমেন্ট জোন এবং কোন কোন এলাকা বাফার অর্থাৎ কন্টেনমেন্ট জোনের সংলগ্ন এলাকা হল, তা রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট ‘‌এগিয়ে বাংলা’‌য় দিয়ে দিতে হবে।
কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে এর আগে রাজ্য সরকার ‘‌এ’‌, ‘‌বি’‌, ‘‌সি’ তিনটি ভাগে ভাগ করে দিয়েছিল। করোনা সংক্রমিত এলাকা ছিল ‘‌এ’‌। তার সংলগ্ন এলাকা বাফার জোন হিসেবে ‘‌বি’‌ বলা হয়েছিল। তার বাইরের এলাকা ছিল ‘‌সি’‌, অর্থাৎ ক্লিয়ার জোন। ‘‌সি’‌ চিহ্নিত এলাকায় অফিস, দোকান সব কিছু খোলা রাখার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। বাফার জোনেও যান–চলাচল, দোকান খোলার ক্ষেত্রে ছাড়া দেওয়া হয়েছিল। 

 

পরবর্তী ক্ষেত্রে কোনও বাড়ি বা আবাসনের কোনও বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত হলে শুধু সেই বাড়ি বা আবাসনটিকেই কন্টেনমেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। আশপাশের বাড়ি বা এলাকায় কোনওরকম বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছিল না। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় পুরো এলাকাটি জুড়েই বিধিনিষেধ আরোপ করা হল।
নবান্ন সূত্রে খবর, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার ও শিলিগুড়িতে ক্রমশ করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন থেকে প্রত্যেককে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হলেও তা অনেকেই মানছেন না। বাজার–হাট, বাস কোথাও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা হচ্ছে না। সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার এটা একটা বড় কারণ বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন। তাই রাজ্য প্রশাসনের কাছে জেলাশাসকেরা কঠোর লকডাউনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top