মোহনবাগান–‌ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ দেখতে যুবভারতীতে ছিলেন ৬৭ হাজার দর্শক। টেলিভিশনে দেখলাম বেশ কয়েক লক্ষ ফুটবলপ্রেমিক। ম্যাচের ফল ০–‌০। গোলকে বলা হয় ফুটবলের নুন। গোল ছাড়া ফুটবল আলুনিই। তবে, এমন কিছু ম্যাচও হয়েছে, গোল না হলেও তুল্যমূল্য লড়াই হয়েছে, দু’‌‌দল দর্শনীয় ফুটবল খেলেছে, নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন গোলকিপার। কিন্তু, ১ সেপ্টেম্বরে ম্যাচে পাওয়া গেল, ০, শূন্য। বলা হত, বড় ম্যাচ। বিদেশি ফুটবলের ধাঁচে এখন বলা হচ্ছে কলকাতা ডার্বি। ফুটবলের মান যতই নীচের দিকে গড়াতে থাকুক, ডার্বি নামে ডাকতে অসুবিধে কোথায়!‌ প্রথমে ২২ জন ফুটবলার মাঠে নামলেন, তাঁর মধ্যে বাঙালি ৪ জন। আইএসএল নাকি ভারতীয় ফুটবলপ্রেমিকদের দারুণ ফুটবল দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। রাবিশ!‌ দেশের প্রধান ফুটবলাররা থাকেন, তাঁদের জন্য একটু আগ্রহ থাকে। প্রচার হয়েছিল, দুরন্ত বিদেশিদের এনে চমকে দেওয়া হবে। বাস্তবে, অবসর–‌নেওয়া, বাতিল কয়েকজনকে আনা হয়। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের টিম দেখুন। চিমা, ব্যারেটো, মজিদ, এমেকা, ওডাফা, ডগলাসদের দেখা যেত। এখন কারা?‌ দু’‌দলের প্রায় সব বিদেশি স্পেনের। এঁরা নিজের দেশে দ্বিতীয় ডিভিশন থেকেও বাতিল। কিছু রোজগারের জন্য আসেন। নাম মনে রাখা কঠিন, দরকারই বা কী!‌ স্পেনের এতজন, প্রচার, যেন লা লিগার এল ক্লাসিকো। ষাট, সত্তর, আশির দশকেও যে–‌বাঙালি ফুটবলাররা ছিলেন, তাঁদের নখের যুগ্যি নন এই বিদেশিরা। তবু, যুবভারতীতে ৬৭ হাজার দর্শক। উৎসাহ, উদ্দীপনার পারদ তোলার জন্য ধারাভাষ্যে আপ্রাণ চেষ্টা করলেন মানস ভট্টাচার্য, পল্লব বসুমল্লিকরা। কিন্তু, এত বাজে ম্যাচ হলে, ওঁরা কতটা পারবেন?‌ বাঙালি ফুটবলার নেই। ভাল বিদেশি নেই। গোল নেই। ০–‌০। সর্বার্থেই শূন্য।‌

জনপ্রিয়

Back To Top