ভারত সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ায় অনেকে উৎসাহী থাকেননি। ইংল্যান্ডে ভারতের ম্যাচ দেখার জন্য যাঁরা অনেক আগে টিকিট কিনেছিলেন, মাথা চাপড়েছেন। তবু, ভারত নেই, তবু ফাইনালে লর্ডসে বেশ কিছু ভারতীয় ছিলেন, টেলিভিশনেই দেখলাম। ক্রিকেটের টানে হাজির এবং হতাশ হননি। ভারত কেন হেরে গেল, ধোনিকে কেন ৪ বা ৫ নম্বরে নামানো হল না নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, কেনই বা ৪ ম্যাচে ১৪ উইকেট পাওয়া মহম্মদ সামিকে টিমে নেওয়া হল না, প্রশ্ন উঠছে, তর্ক–‌বিতর্ক চলবে বহুদিন। চলুক। আমরা ফাইনাল ম্যাচটার কথা বরং ভাবি, আসুন। ইংল্যান্ডের এই টিমটা গত চার বছর ধরেই দুরন্ত খেলছে। এমন ব্যাটিং, এমন বোলিং, এমন ফিল্ডিং— সব মিলিয়ে এত ভাল দল বিশ্বকাপে ছিল না। টুর্নামেন্ট চলার মাঝে ছন্দ হারিয়ে ছিটকে যাওয়ার মুখে এসেছিল ইওয়িন মর্গানের দল।  কিন্তু যেভাবে লড়াই করে ফিরে এসে সেমিফাইনালে গেছে, তারপর হেলায় হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে, সেলাম না জানিয়ে উপায় নেই। আর নিউজিল্যান্ড। গ্ল্যামার কম। তারকা কম। সীমিত শক্তি নিয়েও লড়াই করে উঠেছে। ফাইনালে যাঁরাই জিতুন, নতুন চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে বিশ্ববাসী, পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। আঃ, কী ফাইনাল!‌ নিউজিল্যান্ড ২৪১, ইংল্যান্ড ২৪১। এই প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে সুপার ওভার। ইংল্যান্ড ১৫, নিউজিল্যান্ড ১৫। আর কত কাছাকাছি থাকতে পারে দুটো দল?‌ বেশি বাউন্ডারির সূত্রে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। গোটা টুর্নামেন্টে জেসন রয়, বেয়ারস্টোরা দারুণ খেলছিলেন। ফাইনালে আরও জ্বলে উঠলেন বেন স্টোকস, বাটলারও। ফাস্ট বোলারদের নিয়ে কেন উইলিয়ামসদের দুর্ধর্ষ লড়াই। জিতল ইংল্যান্ড। জিতল নিউজিল্যান্ডও। জয়ী ক্রিকেট। এবং ভারত–‌হীন ফাইনাল টেলিভিশনে দেখলেন অসংখ্য ভারতীয় দর্শক। জয় নয়?‌

জনপ্রিয়

Back To Top