একটা কথা বারবার বলতে হয়, পছন্দ করি বা না–‌করি, নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ন্যূনতম ভব্যসভ্য হবেন, ন্যূনতম সৌজন্যের কাছাকাছি যাবেন, চাই। যতটা ‘‌এক্সপায়ারি ডেট’‌ রয়েছে। সোনিয়া গান্ধী সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘‌সেই বিধবা, যার অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা ঢুকেছে।’‌ এবার, ঝাড়খণ্ডে নির্বাচনী সভায় গিয়ে বললেন, ‘‌রাহুল আমার বদনাম করে চলেছেন। বরং নিজের বাবার কথা ভাবুন। পারিষদরা বলতেন ‘‌মি.‌ ক্লিন’‌।‌ কিন্তু মারা গেছেন ভ্রষ্টাচারী নাম্বার ওয়ান হিসেবে।’‌ বোফর্স মামলা ছিল ৬৪ কোটির। রাফাল ৫৪ হাজার কোটির। বোফর্স–‌এ রাজীব গান্ধী জড়িত ছিলেনই, জোর দিয়ে বলা কঠিন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে। কেন্দ্রীয় সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেনি। তখন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। আর, নরেন্দ্র মোদি ভেবে দেখুন, ১৯৮৯–‌এ বোফর্স ইস্যুতে রাজীব অপসারিত হওয়ার পর ভি পি সিং সরকার টিকল না। অন্তর্বর্তী নির্বাচন হল ১৯৯১ সালে। মাঝপথে নিহত রাজীব। সেই ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছিল কংগ্রেস। রাজীবকে ‘‌ভ্রষ্টাচারী নাম্বার ওয়ান’‌ ভাবেননি দেশবাসী। উগ্র হামলায় নিহত রাজীব, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব, তাঁকে এমন কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করা যায়, যদি ন্যূনতম সৌজন্য থাকে?‌ অক্ষয়কুমারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‌দিদি আমাকে বছরে দু–‌একবার পাঞ্জাবি, মিষ্টি পাঠান।’‌ অন্তত ২০০ জনকে পাঠান। এই স্বাভাবিক সৌজন্যকে কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেন না। চূড়ান্ত অসৌজন্য। ‘‌ফণী’‌ বাংলায় ঢুকল খড়্গপুর দিয়ে, সেখানে সারা রাত জাগলেন মমতা। মোদি বলছেন, ‘‌দু–‌বার ফোন করে পাইনি।’‌ কোথায় ফোন এসেছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে?‌ নবান্নে!‌ নির্বাচন চলার সময়ে নবান্নে বসে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী, ভেবেছিলেন মোদি?‌ প্রচারে বললেন। সৌজন্য?‌ কলাইকুন্ডায় রাজ্যের অফিসারদের ডাকলেন মোদি, এসেছিলেন প্রচারে। মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে রাজ্যের বৈঠক?‌ অসভ্যতা নয়?‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top