সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা নিয়ে অবিরাম কথা বলার লোকের অভাব নেই। অপকারিতা?‌ কথা কম। অন্যায়ভাবে আক্রান্ত যঁারা, তঁারাও সরব ফেসবুকে। এইভাবে ব্যাপারটা আরও জমে যায়। মমতা ব্যানার্জি বলেন, ফেসবুক ভাল, কিন্তু কারও কারও হাতে ওটা ফেকবুক। আমরা প্রায় প্রতিদিন উদাহরণ পাই। বসিরহাটে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা হয়েছিল ‘‌ফেকবুক’‌ দিয়েই। দোষীরা চিহ্নিত হয়েছে, মামলা হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শাস্তি হবে কি না, কেউ জানে না। একজনের ছবিতে অন্যজনের মুখ বসিয়ে, একটা ঘটনার ছবিকে অন্য ঘটনার ছবি হিসেবে চালিয়ে, সামাজিক অপরাধ চলতেই থাকে। উত্তরপ্রদেশে পুলিসি অত্যাচারের ঘটনার ছবিকে মেদিনীপুরের বলে প্রচার করে দেওয়া হল। যিনি করলেন, তঁার রাজনৈতিক অভিসন্ধি পরিষ্কার। ধরা পড়ার পর বক্তব্য, একটু মজা করেছিলাম, আর কিছু নয়!‌ এমন মজা বন্ধ করার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা মাঝে মাঝে বলা হয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দিক থেকে। না। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফেকবুকের সঙ্গেই আছে ‘‌ফেলবুক’‌। কিছু মানুষের অনেক কিছু করার ইচ্ছা ছিল, যোগ্যতার অভাবে হয়ে ওঠেনি। ফেল। এবং হাতে অনন্ত সময়। এই ব্যর্থবাবুরা হাবিজাবি ফেলবুক, ইয়ে, ফেসবুক করেই চলেন। কুকথা থাকতেই হবে। ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেই হবে। ফেলবাবুদের মধ্যে একতা আছে। একজনের বাজে কথা আরেকজন ছড়িয়ে দেন। প্রথম জন আবার দ্বিতীয় জনের বাজে কথা ছড়ানো–‌ছেটানোর দায়িত্ব নেন। যঁাদের আক্রমণ করা হচ্ছে, যঁাদের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে হাস্যকর কটাক্ষ, তঁাদের মধ্যে অনেকে ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দেন না। কেউ কেউ স্পর্শকাতর। কষ্ট পান। নিজেদের কাজের বৃত্ত থেকে ছিটকে যান। ভদ্রলোক, পাল্টা কাদা ছেটানোর অভ্যেস নেই। কী আর করবেন, কষ্ট পান। আমাদের দুটো কথা। এক, ফেলবুক একটা অসুখ, অসুস্থদের ক্ষমা করে দিন। দুই, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার যাতে না হয়, কর্তৃপক্ষ কিছু করে দেখান এবার।‌

জনপ্রিয়

Back To Top