গণতন্ত্রের বড় স্তম্ভ অবশ্যই আদালত। কিছু ক্ষেত্রে রায় সমর্থনযোগ্য মনে হয় না, গ্রহণযোগ্য মনে হয় না, কিন্তু ভারতের মানুষের শেষ ভরসার জায়গা সুপ্রিম কোর্ট। ৭৩ বছরে বেশ কয়েকটি রায়কে বলা যায় ঐতিহাসিক। নিশ্চিতভাবে মাইল ফলক। বিচারব্যবস্থাকে, সর্বোচ্চ স্তরেও, প্রভাবিত করার প্রথম চেষ্টা করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। একাংশ নত হয়েছিল। কিন্তু এমন হয়নি যে, ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সাধারণভাবে একটা উদাহরণ মনে পড়ে। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ৩৬৫ ধারার অপপ্রয়োগ করে অনেক রাজ্যের সরকারকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বোম্মাই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় সেই পথ বন্ধ করে দিল। কেন্দ্র যতই হুঙ্কার দিক, নির্বাচিত রাজ্য সরকারকে, যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, ভেঙে দেওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক একটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের রায় বিস্মিত করেছে। কোনও পোক্ত প্রমাণ ছিল না, উল্টে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার কথা মেনেও, সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত স্থানে রামমন্দির গড়ার নির্দেশ দিল। সমালোচনার জায়গা প্রচুর, তবু ভারতবাসী মেনে নিয়েছেন। সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালতের দুই বিচারপতির মন্তব্য গণতন্ত্রের স্তম্ভকে শক্তিশালী করেছে। বিচারপতি চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি দীপক গুপ্ত পরিষ্কার বলেছেন, অহিংস আন্দোলন করার অধিকার অস্বীকার করা যায় না। সরকারের বিরুদ্ধে বললেই তাকে দেশদ্রোহী বলা যায় না। পাশাপাশি, একটি ভয়ঙ্কর উদাহরণ। দিল্লিতে আন্তর্জাতিক আইন সম্মেলনে বিচারপতি অরুণ মিশ্র যা বললেন, তা বিস্ময়কর। বললেন, ‘‌প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জিনিয়াস, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বীকৃত এমন নেতা, যিনি আদর্শ।’ সরকারের পক্ষে অস্বস্তিকর মামলায় এই বিচারপতি কী করবেন, ভাবলে চিন্তা হয়। স্তম্ভে কি ফাটল ধরেছে?‌ ‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top