কিছু খবর ছাপতে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়, কর্ণাটকের কাণ্ডকারখানা তেমনই একটা। দেশের সবচেয়ে উন্নত, দুনিয়ার সঙ্গে প্রযুক্তিতে পাল্লা দেওয়া রাজ্যের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা পাওনা ছিল না। কিন্তু রামকৃষ্ণ হেগড়ে, বীরাপ্পা মইলিদের সময় থেকে বিতর্ক কর্ণাটকের পিছু ছাড়েনি। বিপুল সমৃদ্ধি, বিপুল অর্থ, আর যত অর্থ তত অনর্থ। কংগ্রেসের এসএম কৃষ্ণ (‌যিনি এখন বিজেপি–‌তে ভিড়েছেন)‌ শেষবার টানা পাঁচ বছর সরকার চালাতে পেরেছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে অনিশ্চয়তা, যার মূলে অন্য দল ভাঙিয়ে বিজেপি–‌র রাজ্য দখলের চেষ্টা। সেবার বিজেপি জিতেছিল ৭৯ আসন, কংগ্রেস ৬৫, জেডিএস ৫৮। কংগ্রেসের ধরম সিং, কন্নাডিগা না হয়েও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন দেবগৌড়াদের সমর্থনে। কংগ্রেস দেবগৌড়াকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছিল, সম্ভবত তারই প্রতিদান। ২০ মাস টিকেছিল ধরম, কাজ কিছুই করতে পারেননি। তার পরের ২০ মাস কুমারস্বামীর সরকার, বিজেপি–‌র সমর্থনে। রাষ্ট্রপতি শাসনের পর্ব পেরিয়ে ইয়েদিয়ুরাপ্পার ৭ দিনের সরকার। আবার ভোট। ২০০৮ সালে বিজেপি ১১০, কংগ্রেস ৮০, জেডিএস ২৮। ইয়েদির দ্বিতীয় দফা। সরকার চলল ৩৮ মাস, পড়ল দুর্নীতি আর দলাদলিতে। সদানন্দ গৌড়া এরপর ১১ মাস, জগদীশ শেট্টার ১০ মাস। রাজ্যের মানুষ ততদিনে বিজেপি–‌কে চিনে নিয়েছেন। ২০১৩ সালে কংগ্রেস ১২২, বিজেপি ৪০ আর জেডিএস ৪০। গ্রামীণ এলাকায় চমৎকার কাজ করেছিলেন সিদ্দারামাইয়া। তাই ২০১৮ সালে মোদি নিজে প্রচার করেও কংগ্রেসকে ৭৮ আসনের নীচে নামাতে পারেনি। এবার লোকসভা নির্বাচনে কর্ণাটক কিন্তু দেবগৌড়া পরিবারকেই শাস্তি দিয়েছে। দেবগৌড়া হেরেছেন, তাঁর নাতি নিখিল কুমারস্বামী হেরেছেন। সংসদের গেছেন আর এক নাতি প্রোজ্জ্বল রেবন্না। এদিকে কুমারস্বামী, তাঁর স্ত্রী অনীতা আর ভাই রেবন্না আছেন বিধানসভায়। এই পরিবারের একাধিপত্যের বিরোধিতা করেই সিদ্দারামাইয়া জেডিএস ছেড়েছিলেন। আর নয়। ভোট হোক। উড়ান–‌ রিসর্টের কুৎসিত রাজনীতি শেষ হোক, চিরতরে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top