যাঁরা মনে করেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাবনাচিন্তার কোনও সম্পর্ক নেই, তাঁরা ভুল ভাবেন। ধুরন্ধর উদ্যোগপতি, এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, না ভাবলে চলে?‌ অভিবাসীদের তাড়ানোর কথা ভাবেন, মেক্সিকো সীমান্তে দুর্ভেদ্য দেওয়াল বানানোর (‌মেক্সিকোরই খরচে!‌)‌‌ কথা ভাবেন, উত্তর কোরিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবেন। ফ্লোরিডার স্কুলে বন্দুকবাজের হামলায় বাচ্চাদের মৃত্যু ঘটার পরও তিনি ভেবেছেন। ভেবে, সমাধানের পথ খুঁজে পেয়েছেন। বললেন, সব স্কুলের শিক্ষকদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হোক। পুলিস পৌঁছনোর আগেই নিরাপত্তারক্ষীরা সক্রিয় হওয়ার আগেই ঘটে যাচ্ছে বন্দুকবাজি। শিক্ষক–শিক্ষিকারা পারেন সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে। সুতরাং, ওঁরা সবাই বন্দুক রাখুন।  সরকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা তো করবেই, শিক্ষকদের এজন্য বোনাসও দেবে। আমেরিকার শিক্ষামহল স্তম্ভিত। এই নাকি সমাধানের পথ!‌ ফ্লোরিডার ঘাতক মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল, জানা গেছে। জঙ্গি হানা নয়, ব্যক্তিগত প্রতিশোধের জন্য নয়, স্রেফ মানসিক ভারসাম্যহীনতাই দায়ী। তো, এমন ব্যক্তির হাতে শক্তিশালী বন্দুক থাকে কেন?‌ থাকবে, আমেরিকায়। ওবামা চেষ্টা করেছিলেন, প্রাক্তন আরও দুই প্রেসিডেন্ট চেষ্টা করেছিলেন, চাইলেই বন্দুক হাতে পাওয়া আটকাতে পারেননি। ওবামা চেয়েছিলেন, হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যাতে একটু কঠিন, একটু সময়সাপেক্ষ হয়। পারেননি, কারণ, আমেরিকায় গান লবি অত্যন্ত শক্তিমান। বন্দুক ব্যবসায়ীরা নির্বাচনেও প্রচুর অর্থ খরচ করেন। দোকানে গেলাম আর টাকা দিয়ে বন্দুক বগলে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম, এই ব্যবস্থা বদলানো যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যেই এই গান লবির মদতদাতা। ব্যবসায়ীকে ব্যবসায়ী না দেখিলে কে দেখিবে!‌ সারা পৃথিবীকে গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও সভ্যতার শিক্ষা দিতে চায় আমেরিকা। সেই দেশের শিক্ষকরা এখন গালে হাত দিয়ে ভাবছেন, দেশের কর্ণধারদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা কে দেবে?‌

জনপ্রিয়

Back To Top