পুলওয়ামায় জওয়ানদের ওপর জঙ্গি হানা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিল। বলেছিল, কেন জওয়ানদের সুরক্ষিত না করেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে?‌ বলেছিল, কেন আকাশপথে নিয়ে যাওয়া হয়নি?‌ বলেছিল, কেন গোয়েন্দা দপ্তর আগাম কিছু জানতে পারেনি?‌ এমনকী সেই হামলায় প্রাণ দিয়েছেন এমন জওয়ানের স্ত্রীও সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন। কেউ আবার বলেছেন, এমন একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা নিয়ে বিজেপি সরকার রাজনীতি করতে চাইছে। ভোটে ব্যবহার করতে চাইছে। এই কথায় অনেকেই আপত্তি করেছিল। বিজেপি নেতারা বলেছিলেন, ‌একথা দেশবিরোধী কথা। এরপর হল বালাকোটে বিমানহানা। চারদিকে প্রচার হল, ৩৫০ জঙ্গি খতম। অনেকে বলল, ‘আহা!‌ কী আনন্দ!‌’‌ এবারও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলল‌। কোথায় বোমা পড়েছে?‌ কে নিহত হয়েছে?‌ প্রমাণ কোথায়?‌ বিজেপি ভোটের জন্য মিথ্যে প্রচার করছে না তো?‌ আবার বিজেপি এবং বশংবদরা ‘‌রে রে’‌ করে তেড়ে এল। এই মারে কী সেই মারে। এবার প্রশ্ন তুলল খ্যাতনামা সব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। বলল, ৩০০ জঙ্গি মারবার দাবি একবারে মিথ্যে। মারা যায়নি একজনও। এই প্রসঙ্গ চাপা দিতে বায়ুসেনার বীর জওয়ানকে নিয়ে বিজেপি এবং তার বশংবদরা শুরু করল প্রচার। তখনও আপত্তি উঠল। দেশকে, দেশপ্রেমকে, সেনাবাহিনীকে নিয়ে ভোটের প্রচারে নেমেছে বিজেপি। দেশের মান সম্মান গরিমাকে দলের স্বার্থে বিক্রি করে দিচ্ছে। সব দুর্নীতি, অবিচারকে ধামাচাপা দিতে মিথ্যে যুদ্ধ এবং মিথ্যে যুদ্ধজয়ের খেলায় নেমেছে বিজেপি। তখনও ‘‌রে রে’ করে মারতে এসেছিল ভুয়ো দেশপ্রেমী। সম্প্রতি‌ ভারতীয় সেনাবাহিনীর পোশাক পরে ভোটের মিছিল করলেন বিজেপি–‌র সাংসদ মনোজ তিওয়ারি। তিনি মোটরবাইকে দিল্লি শহরে ঘুরে বেড়িয়েছেন, বলেছেন বালাকোট অভিযানের জন্যই বিজেপি–‌কে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা উচিত। তাহলে কী প্রমাণ হল?‌ ভোটের জন্যই বাজানো হয়েছিল মিথ্যে যু্দ্ধের দামামা। যারা দেশকে এইভাবে অপমান করে, বিশ্বের কাছে ছোট করে, তাদের শাস্তি দেশবাসীই দেবে।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top