ইস্পাত আর সিমেন্টের উৎপাদন অর্থনীতির স্বাস্থ্যের সূচক। সাম্প্রতিক খবর, দেশের ৩০টি ইস্পাত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তার কারণ গাড়ির বিক্রি তলানিতে ঠেকেছে। ভারতের গাড়ির বাজারের ৬৫ শতাংশ মারুতির দখলে, তাদের কারখানা মাত্র একটি শিফটে কাজ করছে। জামশেদপুরে টাটা মোটরসের অনুসারী শিল্পগুলি বন্ধ হওয়ার মুখে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গাড়ির ডিলারশিপ, ছঁাটাই হচ্ছেন কর্মীরা। একটি শিল্পে মন্দার ধাক্কা অন্য শিল্পের গায়ে লাগে। এই ভয়ঙ্কর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এল অ্যান্ড টি–‌র কর্তা নাইক। সরকারি সংস্থার পীড়নেই যে আত্মহত্যায় বাধ্য হচ্ছেন, সে কথা তো নিজেই লিখে গেছেন ক্যাফে কফি ডে–‌র কর্ণধার সিদ্ধার্থ। সমস্যা হল, নরেন্দ্র মোদি দেশের অর্থ‌নীতিকে ১৯৯১ সালের মন্দার থেকেও খারাপ দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। তার কারণ হয়তো বিপুল গরিষ্ঠতা, মোদির মনে হচ্ছে তিনি সব জানেন। বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার বাতাবরণ তৈরি করার বদলে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত এক ভয়ঙ্কর ব্যবস্থা তৈরি করেছেন তিনি। সংস্কারের অন্যতম সূচক কর কমানো, এখানে কর বাড়ানো হচ্ছে, বসছে সারচার্জ ‌আর সেস। জিএসটি কর ব্যবস্থার সরলীকরণে ব্যর্থ, নোটবাতিলের পর ছোট ব্যবসা কচুকাটা হয়ে গেছে। সরকারি ব্যাঙ্কগুলি ঋণ দিয়ে ব্যবসায় প্রাণ–‌সঞ্চার করতে পারত, কিন্তু তাদেরই নাভিশ্বাস উঠছে। মোদি সরকার প্রথমে অনুৎপাদক সম্পদের কথা মানতেই চায়নি, পরে সাড়ে তিন লক্ষ কোটি মূলধন দিয়েছে সরকারি ব্যাঙ্কে। ব্যাপারটা আর কিছুই নয়, খাতায়–‌কলমে সরকারের টাকায় সম্পদ দেখানো। নরেন্দ্র মোদি উনিশের ভোটে জিতেছেন তঁার রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জোরে, অর্থনীতির ক্ষেত্রে তঁার ব্যর্থতাকে মানুষ উপেক্ষা করেছেন, আরও সময় দিতে চেয়েছেন। কিন্তু ক্রমশ মোদি আমলা–নির্ভর হয়ে পড়ছেন, অর্থনৈতিক মন্দা সামলাতে না পেরে কাশ্মীর তাস খেলা ছাড়া তঁার কাছে আর কোনও উপায় বোধহয় ছিল না।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top