হলিউড বুলেভার্ড–‌এর খুব কাছেই একটি ছোট্ট বাড়িতে দুনিয়ার প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল–‌এর জন্ম। এক বিশালবপু মার্কিন সাহেব কম্পিউটারের সামনে বসে সম্পাদনা করছেন, পোস্ট করছেন। ‘‌দ্য আমেরিকান রিপোর্টার’‌–‌এর ক‌‌র্মী সংখ্যা মাত্র দুই। ওই সাহেবের সহকারী এক মেক্সিকান কিশোর, লেখাপড়া বড়জোর অষ্টম মানের, সাংবাদিকদের পাঠানো খবর গুছিয়ে রাখছে, শব্দপিছু এক পেনি, তারও হিসেব রাখছে, আবার সাহেবের খিদমতও খাটছে। গোটা লস এঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট, অভিবাসীরাই তো চালাচ্ছেন। লস এঞ্জেলেসে ৪০ লক্ষ মানুষের বাস, ২২৪টি ভাষায় মানুষ কথা বলেন। কোরিয়া টাউন, চায়না টাউন, লিটল ইথিওপিয়া, লিটল টোকিও— কী নেই!‌ মেক্সিকানরা ৩১.‌৯ শতাংশ, এল সালভাডোরের মানুষ ৬ শতাংশ, গুয়াতেমালার প্রায় ৪ শতাংশ। ফিলিপিনো আছে, কোরিয়ান, চীনা আছে। হিস্পাহানিরা সংখ্যাগুরু হয়ে গেছে বলে উদ্বেগ থাকলেও ধর ধর মার মার নেই। ফ্রান্সকে এবার এমবাপেরা বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন, জিদানরা ছিলেন, তিগানাও ছিলেন। ফ্রান্স নীরবে ফুটবল তথা খেলাধুলোর ব্যাটন তুলে দিয়েছে শরণার্থীদের হাতে। বুঝতে হবে, শরণার্থীরা আসেন পেটের দায়ে, কোনও পঞ্জিকরণই অপেক্ষাকৃত সম্পন্ন দেশে মানুষের ঢুকে পড়া ঠেকাতে পারে না। সবাই জানেন, জাতিদাঙ্গা বা দেশভাগের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ পাকিস্তানের পাঞ্জাব থেকে ভারতে এসেছেন, বস্তুত দিল্লি শহরটাকে তঁারাই গড়ে তুলেছেন। লক্ষ লক্ষ শ্রীলঙ্কার তামিলকে আশ্রয় দিয়েছে তামিলনাড়ু। গেল গেল রব ওঠেনি। যত গোলমাল নাকি অসমে, বাংলায়। ধর্মের ভিত্তিতে সাফাই। সাফাই ভাষার ভিত্তিতেও। অথচ রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট বলছে, উন্নয়নের নামে স্বাধীন ভারতে বছরে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষকে ভিটে হারাতে হয়। এঁদের ৪০ শতাংশ আদিবাসী, ৪০ শতাংশ দলিত। স্বাধীনতার পর থেকে উচ্ছেদ হওয়া ৭ কোটি মানুষের ২৫ শতাংশেরও পুনর্বাসন জোটেনি। বোঝাই যাচ্ছে, অসমের ওই ৪০ লক্ষ মানুষের জন্য রাষ্ট্র কিছুই করবে না। করার ইচ্ছেও নেই।‌

জনপ্রিয়

Back To Top