রাজীব ঘোষ: ২০১৮ সালের বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের সময় অন্য রাজ্য থেকে বাইক এনে মিছিল করেছিল রাজ্য বিজেপি। বাংলায় অশান্তি– অসভ্যতা আমদানির সেই সংস্কৃতি আর সহযোগিতার মনোভাব দেখে অশোক দাশগুপ্ত তাঁর ‘‌নেপথ্য ভাষণ’‌ লিখেছিলেন কড়া ভাষায়। শেষ করেছিলেন এইভাবে:‌ ‘‌বাজপেয়ী–‌আদবানিরা অনেক ভেবেচিন্তে দলের নাম রেখেছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টি, বিজেপি। মোদি–‌শাহ জামানায়, সময় এসেছে নামটা পাল্টানোর। নাম হোক, খালেদা জিয়া কিছু মনে করবেন না, বিএনপি। ভারতীয় নিকৃষ্ট পার্টি।’‌ ২০১৮–‌র ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত, এতদিনে বোধহয় মনে মনে অনকেই ‘‌বিএনপি’‌ নামটা লুফে নিতে রাজি। 
বইমেলার সময়টায় অপেক্ষায় থাকি ‘‌নেপথ্য ভাষণ’‌ বইটার জন্য, নতুন পড়ার জন্য নয়, ফিরে পড়ার জন্য। অঙ্ক কষে ফেলার পর উত্তরমালায় দেওয়া সংখ্যাটি মিলে যাওয়ার মতো অনির্বচনীয় আনন্দ খুঁজে পাওয়ার জন্যও বটে। 
যেমন ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ‘‌নেপথ্য ভাষণ’‌ শেষ হয়েছিল এইভাবে:‌ ‘‌প্রতিষ্ঠানবিরো‌ধী ক্ষোভ বেরিয়ে আসবে। বাঁচার তাগিদে সাম্প্রদায়িক প্রচারে সরব হবেন নরেন্দ্র মোদি। ছোট–‌মেজ নেতারাও আকাশ ফাটাবেন। হেরে গেলে, হতাশায় প্রবল আর্তনাদও শোনা যাবে। তিনি আছেন নীরবে, যাবেন সরবে।’‌
আর বামপন্থীদের জন্য ১৩ মে ২০১৮ প্রকাশিত রচনার শেষ অংশটি:‌ ‘‌মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে গিয়ে, কংগ্রেসের সঙ্গে জোটেই মুক্তি ভাবতে গিয়ে, এই বাংলাতেও বিজেপি–‌কে উল্লেখযোগ্য শক্তি হয়ে ওঠার সহায়ক হয়ে উঠল সিপিএম। যেন, তোরা যে যা বলিস ভাই, আমাদের তৃতীয় স্থানটাই চাই!‌’‌
শেষ আর একটা উদ্ধৃতি। ৩ জুন ২০১৮ প্রকাশিত রচনায়:‌ ‘‌২০১৪ সালে এক ঝাঁক স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মোদি। স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। জাদু দেখাচ্ছিলেন জাদুকর মোদি, জাদুটাই আর নেই, জাদুকর কী করে থাকবেন। জাদু ভ্যানিশ। উনিশে ফিনিশ।’‌ 
উত্তরমালায় মিলিয়ে নেব আমরা, আর কিছুদিন বাকি!‌

জনপ্রিয়

Back To Top