ঠান্ডা হয়ে থাকা নিউজিল্যান্ড শিবিরে একশো ডিগ্রির উত্তাপ

দেবাশিস দত্ত: ফাঁপরে পড়ে গিয়েছেন বিরাট কোহলিরা। ইশান্ত শর্মার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবেন, নাকি তরতাজা মহম্মদ সিরাজ? এই বিতর্কটা কিন্তু পরবর্তী তিন-চার দিন আরও গতি পাবে। যত বেশি ঘনীভুত হবে, তত বেশি তৈরি হবে বিতর্কের ঝাঁঝ।
উল্টোদিকে ঠান্ডার দেশের কিউই শিবিরে হঠাৎ করেই দেখা যাচ্ছে একশো ডিগ্রিরও বেশি উত্তাপ। ফুটতে শুরু করেছেন কেন উইলিয়ামসনরা। হাতের চোটের জন্য একটি টেস্ট ম্যাচ  দিলেন কিউই অধিনায়ক, যাতে করে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামতে পারেন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ ক্রিকেটের ফাইনাল। দিলীপ বেঙ্গসরকার বলে দিয়েছেন, ম্যাচ প্র্যাকটিস না করে এত বড় একটা ম্যাচ খেলতে নামাটা উনি সমর্থন করছেন না। প্রথম এগারো বেছে নেওয়া নিয়ে, কমবেশি হলেও বিরাটদের শিবিরে ফিসফিসানি চলছে। চলবেও ১৮ জুন সকাল পর্যন্ত। সেখানে  নিউজিল্যান্ড শিবিরে এ জাতীয় কোনও সমস্যা নেই। ওঁরা শুধু জানেন, বল নড়লেই ভারতীয় ব্যাটিং-এর কঙ্কালটা বেরিয়ে পড়ে। অর্থাৎ গতির সঙ্গে বল যদি বাঁক খাওয়াতে পারা যায়, তা হলেই কিন্তু বিখ্যাত ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ-কে ধাক্কা দেওয়া সম্ভব।
এরই মাঝে প্রাক্তন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক গ্লেন টচার্নারক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, মুভিং বলে বিরাট কোহলি সুবিধা করতে পারবেন না। ঠোঁটকাটা, জিওফ্রে বয়কটের মতোই স্পষ্টবক্তা। আপাদমস্তক সৎ মানুষ হিসাবে চিহ্নিত। তাই বিরাট কোহলির দুর্বলতার দিকে দুম করে একটা ঢিল মেরে বসেছেন। এবং নিউজিল্যান্ডের বোলিং কোচ জুরগেনসেন আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে বলেছেন, ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার জোরে বোলারের চেয়ে ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদিরা কোনও অংশে কম যান না। (পাগলের প্রলাপ ছাড়া, এ মুহূর্তে আমরা কিছু বলছি না। তবে এত বড় একটা কথা বলে দেওয়া নিয়ে জুতসই জবাব দেওয়ার ইচ্ছে থাকছে। যদি এই চার জোরে বোলারের দাপটে ভারত সাদাম্পটনে জিততে না-ও পারে, তা হলেও কিন্তু জুরগেনসেনকে সমর্থন করতে পারব না।)
শুরুতে লিখেছিলাম, কিউই শিবিরে ক্রমশ উত্তাপ বাড়ছে। টেনশনের পর্দাকে দূরে সরিয়ে রেখে উইলিয়ামসনরা যে কোনও মূল্যে সাদাম্পটন টেস্টে জিততে চাইছেন। তাই এমনিতে যাঁদের আচরণ সংযত, ভদ্র, তাঁরা গত ১০-১৫ দিন ধরে উত্তেজিত হয়ে রয়েছেন বিরাটবাহিনীকে হারানোর জন্য। প্রস্তুতির পর্ব সেরে ফেলেছেন উইলিয়ামসনরা ঠিকঠাক। যা কিনা গির্জায় প্রার্থনা করার মতোই ভক্তি এবং ন্যায়নিষ্ঠায় পূর্ণ। চলছে দক্ষতায় শান দেওয়ার পালা। অস্ট্রেলীয় স্টিভ ওয়া, রিকি পন্টিং, গ্লেন ম্যাকগ্রাথদের মতো যুদ্ধ শুরুর আগে বাক্যবাণ ছু্ড়ে দিচ্ছে না কিউই শিবির। এমনকি রিচার্ড হ্যাডলিও এমন মন্তব্য করেছেন যা জেনে মহাশক্তিধর ভারতীয় বোর্ড রেগে যাবে না। এই মুহূর্তে দুনিয়ায় কতজন ক্রীড়াবিদ আর অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে মন্তব্য করেন? খুব কম! ব্যতিক্রম হিসাবে আছেন হাতেগোনা কয়েকজন ক্রীড়াবিদ। তাঁরা নিজের স্বার্থের চেয়ে জনতার স্বার্থ বেশি দেখেন। তাই চাঁচাছোলা মন্তব্য পাওয়া যায় ইদানিং খুব কম। সব প্রচারমাধ্যমে এখন চলছে সেলিব্রিটিদের ফুলবেলপাতা হাতে নিয়ে মন্তব্য করার প্রতিযোগিতা। পাছে লোকে রেগে যায়…
এই পরিস্থিতিতে ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলা টেস্ট ম্যাচে হাওয়া নিউজিল্যান্ডের অনুকূলে বেশ খানিকটা। ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জটা হল স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটার মতো। ভারতীয় সমর্থকরা আশা করছেন ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়াকে যেভাবে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিলেন অজিঙ্ক রাহানেরা, তেমন আরও একটা ঘটুক সাদাম্পটনে, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। (আগেই জানিয়ে রাখছি, এই টেস্ট ম্যাচের শেষে জো রুটের ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত যে পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলবে সেখানে বিরাটদের হারার কোনও সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া বাগড়া না দিলে ভারত ৪-০ ব্যবধানে জিততেও পারে।)