সম্প্রতি আজকাল পত্রিকার  ‘‌প্রিয় সম্পাদক’‌ বিভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বাংলায় বিজেপি‌–‌র জয়ের জন্য বামপন্থীদের সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‌‘‌খাল কেটে কুমির আনার কাজটি এবার সুচারুভাবে করলেন বঙ্গ বামপন্থীরা। গোটা নির্বাচন প্রচার জুড়ে সিপিএম পার্টির প্রচার পুস্তিকা ও মিটিং মিছিলে শোনা যাচ্ছিল মোদি নয়, মমতার বিরুদ্ধে হুঙ্কার।’‌ চিঠিতে আরও বলা হয়েছে,‘‌বামপন্থীরা যখন বুঝতে পারলেন যে মমতাকে টলানো তাঁদের কম্মো নয়, তখন থেকেই তঁারা রাস্তা নিলেন, বিজেপি মমতার গদি টলিয়ে দিক, তারপর আমরা দেবদূতের মতো নেমে এসে রাজ্যপাট বুঝে নেব।’‌ এই বক্তব্য পত্রলেখকের যেমন নিজস্ব তেমন আরও অনেকেরই। পত্রলেখকের মতো অনেকেই এখন মনে করছে, তবে কি সত্যি বামেরা নিজের ক্রুশ বয়ে বেড়াবে? ভবিষ্যতে কী হবে ভবিষ্যৎ বলবে। তবে বামপন্থার যে মৃত্যু হয় না, তা যুগে যুগে প্রমাণিত। সে ফিনিক্স পাখির মতো। ভস্ম থেকেও উঠে আসে। আর্দশের চেহারা বদলাতে পারে, চরিত্র বদলায় না। আশঙ্কার কথা এখানেই। তথাকথিত ‘‌বঙ্গ বামেরা’‌ কি আদর্শের চরিত্র বদলাতে চাইছে?‌ ৩৪ ব‌ছরের ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার জ্বালা মেটাতে এই ভয়ঙ্কর বিচ্যুতি?‌ নজর কাড়ছে ভোট উত্তর পর্বটি। দিকে দিকে বিজেপি–‌র উল্লাসে সবথেকে বেশি খুশি ‘‌বামপন্থীরা’‌?‌ তৃণমূলের ওপর বিজেপি–‌র হামলায় তারা মাতোয়ারা। একটাই কথা,‘‌তৃণমূল তো আগে যাক।’ এই যাওয়ার খেলায় কে অ‌স্ত্র হাতে নিয়েছে সেদিকে খেয়াল নেই। সেই অস্ত্র কোনদিকে মুখ ঘোরাবে সে খেয়াল নেই। ত্রিপুরায় কত রক্ত ঝরছে সে খেয়াল নেই। কেরলে কত বড় ধস নামল সে চিন্তা নেই। গোটা দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে কেন বাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল সে ভাবনা নেই। এসব জায়গায় তো তৃণমূল নেই। তাহলে?‌ এই বঙ্গে না হয় অত্যাচারিত হয়ে, ক্রোধে, হিংসেতে, কেউ কেউ চেষ্টা করে নেতা–‌নেত্রীর কাছে ঘেঁষতে না পেরে, বিজেপি–‌কে ভোট দিয়েছে। মেনে নেওয়া গেল সেকথা। কিন্তু তারপর?‌ এখনও উল্লাস কেন?‌ আজকালের পত্রলেখক বোধহয় একটু ভুল করেছেন। ভুল করছেন অনেকেই। এদের বেশিরভাগই প্রকৃত ‘‌বামপন্থী’‌ নয়। ফলে ক্রুশ তারা কোনওদিনই বইবে না। এরা নানা ভাবে শুধু সুবিধেই নিয়েছে। নিয়ে ‘‌বামপন্থী’‌ সেজেছে। এই নকল ‘‌বামপন্থী’‌রা কালের নিয়মেই বিলীন হবে। সাম্প্রদায়িক শক্তি সেই কাজেই নেমেছে। ইতিমধ্যে সফলও হয়েছে অনেকটা। 

জনপ্রিয়

Back To Top