২০১১ সালের নির্বাচনে হারের দায় নিজেই নিয়েছিলেন তিনি। বাম সরকারের বিদায়ের জন্য দায়ী অনেকেই, অনেক স্তরেই, কিন্তু তিনি দায় এড়িয়ে যাননি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েও পার্টির কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কোনও সংশয় ছিল না, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেও দলের প্রধান জননেতা থেকে গেছেন তিনিই। পার্টি কর্মীদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কমেনি। তিন বছর আগেও ব্রিগেডে তাঁর জন্যই বরাদ্দ ছিল সবচেয়ে বেশি হর্ষধ্বনি। কিন্তু, ক্রমশ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন। সিওপিডি। পাশাপাশি, চোখের সমস্যা। এখন ঠিকমতো কাগজ পড়তে পারেন না, টেলিভিশন দেখাও সম্ভব নয়। দু–‌একটা বই পড়ার চেষ্টা করেন দুর্মর টানে, থাকে ম্যাগনিফাইং গ্লাস। কতক্ষণই বা সম্ভব। এই অবস্থাতেও মুখে বলে গেছেন, প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বই ‘নাৎসি জার্মানির উত্থান ও পতন’‌। দায়বদ্ধতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাড়িতে গিয়ে আন্তরিক অনুরোধ করেন, ভাল চিকিৎসার ব্যবস্থায় যেন রাজি হন প্রাক্তন। একটু ভাল বাসস্থানের কথাও বলেন। বুদ্ধদেব রাজি হননি। শুধু মমতাকে বলেন, ‘‌আরএসএস–‌কে আটকাতে হবে, বিজেপি যেন বাড়তে না পারে!‌’‌ ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে অবিচল। ৩ ফেব্রুয়ারি স্রেফ মনের জোরে পৌঁছলেন ব্রিগেডে। চিকিৎসকরা গাড়ি থেকে নামার অনুমতি দিলেন না, গুরুতর সিওপিডি–‌তে আক্রান্ত কাউকে ধুলোর আঁচ পেতে দেওয়া যায় না। সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডার। তাঁর নাম শুনেই শ্রোতাদের তুমুল হর্ষধ্বনি। দুদিন আগে দলের মুখপত্রে লিখেছেন ব্রিগেড নিয়ে। বলেছেন, তার থেকে লেখা। তাতে দিদি–‌মোদি তত্ত্ব অনুপস্থিত। মূল বক্তব্য ভয়ঙ্কর বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে। তিনি দায়বদ্ধ।‌

জনপ্রিয়

Back To Top