কোনও একটা বিষয় নিয়ে সংসদের অধিবেশন ভন্ডুল হয়ে চলবে, আলোচনা–‌বিতর্ক বন্ধ থাকবে, সমর্থন করা যায় না। সাম্প্রতিক ইস্যু ছিল, নির্বাচনী প্রচারে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে নরেন্দ্র মোদির ভিত্তিহীন, কদর্য আক্রমণ। গুজরাটে কংগ্রেসকে জিতিয়ে আহমেদ প্যাটেলকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর পাকিস্তান–‌পুষ্ট চক্রান্ত নাকি হয়েছিল মণিশঙ্কর আয়ারের বাড়িতে, ছিলেন মনমোহন সিং ও হামিদ আনসারিও। মিথ্যাটা যখন সামনে চলে এল, বিজেপি খানিক বেকায়দায়। অবশ্য, কাজের কাজ তো হয়ে গেছে। কংগ্রেস অনড়, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ক্ষমা চাইতে হবে। সংসদ চালানোর জন্য শাসক দল বসল কংগ্রেসের সঙ্গে। একটা রফাসূত্র বেরোল। সরকারের পক্ষে অরুণ জেটলি রাজ্যসভায় বললেন, ‘‌প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতিকে হেয় করার কোনও প্রশ্ন নেই। দেশের প্রতি মনমোহন সিং ও হামিদ আনসারির দায়বদ্ধতা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে।’‌ আপাতত মিটে গেল। কত বড় অসত্যাচার, ভেবে দেখুন। নাটকীয় ভঙ্গিতে মোদি ভয়ঙ্কর অভিযোগ তুলেছিলেন। কারা কারা ছিলেন বৈঠকে, একে একে নাম করেছিলেন। প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী, পাক রাষ্ট্রদূত, ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান.‌.‌.‌। মনমোহনের নাম বলার সময় গলা খাদে নামাতে গিয়ে ভেঙে ফেলেছিলেন। এবং বলেন, ‘‌বুঝুন, পাকিস্তানের সঙ্গে এই চক্রান্ত। বুঝে ভোট দিন।’‌ মোদি নিজে ক্ষমা চাইলেন না, জেটলি মিথ্যা বললেন। সংসদ চালু রাখতেই মেনে নিল কংগ্রেস, এরকমই হয়ে থাকে। রফার সূত্রেই কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ বললেন, ‘‌মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে কটু কথা যদি কংগ্রেসের কেউ বলে থাকেন, তা অনুমোদন করে না দল।’‌ মণিশঙ্কর আয়ারের ‘‌নীচ’‌ মন্তব্য যে কংগ্রেস অনুমোদন করে না, তা নতুন করে বলতে হবে?‌ তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মণিশঙ্করকে সাসপেন্ড করেছিলেন রাহুল গান্ধী। রফা, আমরা এটা বলব, তোমরা ওটা বলো। শোধবোধ। শান্তি। সংসদীয় গণতন্ত্রে এমন কত হাস্যকর ঘটনাই যে ঘটে চলে!‌

জনপ্রিয়

Back To Top