আই লিগ–‌এ মোহনবাগান–‌ইস্টবেঙ্গল ফিরতি ম্যাচের পর কিছু ভাল কথা বলা যায় অবশ্যই। ক্রিকেটের রমরমার মধ্যেও ফুটবল ঘিরে কলকাতায় ইতিবাচক উন্মাদনা। পঞ্চান্ন হাজার দর্শক প্রবল উদ্দীপনা নিয়ে হাজির। লড়াইয়ের পরিবেশ। একটা দল জিতল, অন্য দল হারল, কিন্তু বাঙালির ফুটবল প্রেমের জয় নিয়ে সংশয় থাকল না। মোহনবাগানের একটা ‘‌গোল’‌ নাকচ হল। বলা হচ্ছে অফসাইড, কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞেরও মতে, ভুল সিদ্ধান্ত। গোলটা হয়ে গেলে তখন ম্যাচের ফল দাঁড়াত ১–‌১। তারপর কোনদিকে মোড় নিত, কী হত, বলা যায় না। তবু, মোহনবাগান দর্শকরা ক্ষোভে ফেটে পড়লেন না। মনোভাব, রেফারি যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ঠিক হওয়াই স্বাভাবিক। ভুল হলেও মেনে নিতে হবে। টিমের ফিজিও উত্তেজিত হয়ে তর্ক করছিলেন রেফারি ও লাইনসম্যানের সঙ্গে, তাঁকে সরিয়ে নিয়ে গেলেন মোহনবাগানের সহ–‌সম্পাদক সৃঞ্জয় বসু। খেলার পর কোচ, কর্মকর্তারা কোনও বিতর্কে জড়ালেন না। অনেক ভাল লাগার মধ্যেও দুঃখিত হওয়ার মতো বিষয় আছে। যে বড় ম্যাচ নিয়ে বাঙালির এত উদ্দীপনা, তাতে বাঙালি ফুটবলার কোথায়?‌ ইস্টবেঙ্গলে বাঙালি ফুটবলার নেই বললেই হয়। মোহনবাগানে আছেন কয়েকজন, কিন্তু গোলকিপার শিলটন পাল ছাড়া তাঁদের আর কেউ প্রথম দলে থাকলেন না। অরিজিৎ বাগুই, আজহারউদ্দিন মল্লিকরা কি এতই অযোগ্য?‌ আবার ভাল লাগায় ফিরি। শিশির ঘোষ, কিছুটা দীপেন্দু বিশ্বাস, তারপর বাঙালি স্ট্রাইকার নেই। গত কয়েক বছরে ম্যাচের পরদিন প্রথম পাতায় ছবি গোলদাতা বিদেশি ফুটবলারদের। বাইচুং ভুটিয়ার পর আবার একজন ভারতীয় ফরোয়ার্ড উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন। জবি জাস্টিন। গোল করলেন, করালেন। পায়াস, বিজয়ন, আনচেরির পর কেরল থেকে আসা আরেক তারকা। হয়ে উঠুন ভারতীয় দলের তারকা।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top