কেরলের বিজয়ন। এক বিজয়ন কিংবদন্তি ফুটবলার। গত ৪০ বছরের অন্যতম সেরা ভারতীয় ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃত। আমরা বলছি, আরেক বিজয়নের কথা। পিনারাই বিজয়ন। মুখ্যমন্ত্রী। সিপিএম–‌এর জাঁদরেল নেতা। সুদক্ষ সংগঠক। যদিও বেশি ‘‌নাম’‌ ছড়িয়েছে ভিএস অচ্যুতানন্দনের বিরোধী হিসেবে। ইএমএস নাম্বুদিরিপাদের পর ভিএস–‌ই সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই প্রবীণ নেতাকে অনেক বছর ধরে কোণঠাসা করায় অক্লান্ত থেকেছেন বিজয়ন। গত ভোটেও, প্রবীণ নেতাকে প্রচারে সর্বতোভাবে কাজে লাগিয়েছে সিপিএম। রাজ্যবাসী ভেবেছিলেন যে, ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন ভিএস, নাহলে তাঁকে দেওয়া হবে সম্মানজনক পদ। শোনা গিয়েছিল, পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি যুক্ত থাকবেন সরকারের সঙ্গে। তা হয়নি। বিজয়ন একটু সম্মানও দেননি। অচ্যুতানন্দন কিন্তু দলের বিরুদ্ধে একটা কথাও উচ্চারণ করেননি। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের অনেক কাজ রাজ্যবাসীকে বিস্মিত করেছে। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার কথা বলি। শবরীমালা মন্দিরে দশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়সি মেয়েদের প্রবেশাধিকারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। রায় অমান্য করে পথে নামে আরএসএস। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ প্রত্যক্ষভাবে উসকানি দিয়ে এলেন। বামপন্থীরা নীতিগত বিরোধিতায় ছিলেন। কিন্তু, পরে দেখা গেল, মুখ্যমন্ত্রীর বিপরীত অবস্থান। এবার বললেন, সংশ্লিষ্ট মহিলাদের সুরক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্ব নেবে না সরকার। গেরুয়া বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ। দুই, বামপন্থীরা নীতিগতভাবে ইউএপিএ–‌র বিরুদ্ধে। ‘‌মাওবাদী’‌ বলে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। সিপিএম নেতারা বিজয়নকে সতর্কবার্তা দিলেন। তারপর ছাত্রফ্রন্টের দু’‌জনকেও গ্রেপ্তার, নিতান্ত অস্পষ্ট অভিযোগে। শরিকরা ক্ষুব্ধ। দলেও প্রতিবাদ। সিপিএম পলিটব্যুরো বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, পথ পাল্টাতে হবে বিজয়নকে। তিনি কাউকে সঙ্গে পাননি, কারাতকেও। বিজয়নকে হয়তো গিলতে হবে। কিন্তু এক বামপন্থী নেতার এই বিচ্যুতি আমাদের স্তম্ভিত করে।

জনপ্রিয়

Back To Top