মিথ্যাচার চলছেই। ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যা। ভয়াল ভাইরাসের বিরুদ্ধে যখন লড়াই চলছে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সামনে দঁাড়িয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বিরোধীদের ভূমিকা জঘন্য। পরিযায়ী শ্রমিকরা ফেরার পর, এমনিতেও, চাই অনেক কোয়ারেন্টিন সেন্টার। ‘‌আমাদের পাড়ায় করতে দেব না’‌ গোছের মনোভাব ক্ষতি করছে। কোভিড বাতাস–‌বাহিত নয়, তবু মিথ্যা রটানো হয়েছে। কিছু এলাকায় স্থানীয় মানুষকে প্ররোচিত করেছেন বিরোধীরা।
পরিযায়ী প্রসঙ্গেই কত মিথ্যা, ভাবুন। মমতা অনেক আগেই বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ করা হোক। কেন্দ্র মানেনি, বাংলায় প্রথম দফার সংক্রমণ বিদেশ–‌ফেরত সংযোগেই। ৪ ঘণ্টার নোটিসে প্রধানমন্ত্রী লকডাউন ঘোষণা করে বলেন—‘‌যে যেখানে আছেন থাকুন’‌। ব্যবস্থা হল না। সব রাজ্য যেন পরিযায়ীদের দেখভাল করে, মুখ্যমন্ত্রীদের অনুরোধ জানালেন মমতা। কেন্দ্র কোনও রাজ্যের পাশে দঁাড়ায়নি। লকডাউন যদি ৭ দিনের নোটিস দিয়ে হত, সেই সময়ে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে ফেরানো হত পরিযায়ী শ্রমিকদের, সমস্যা হত না। তারপর, হঠাৎ সিদ্ধান্ত, রাজ্যে রাজ্যে শ্রমিক স্পেশ্যাল। গাদাগাদি করে ফেরত পাঠানো হল। পরিযায়ীদের দেখভালের ব্যবস্থা হয়েছে বাংলায়। ‘‌স্নেহের পরশ’‌ প্রকল্প। ১০০ দিনের কাজ। জেলায় জেলায় ফেরানো। কোয়ারেন্টিন সেন্টার। সংক্রমণ যে–‌সব রাজ্যে প্রবল, সেখান থেকে ফিরলে বাংলায় সংক্রমণ বাড়তে পারে, উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছিলেন মমতা। মিথ্যা রটাল বিজেপি, মমতা পরিযায়ীদের ফেরাতে চাইছেন না!‌ গত ১৫ দিনে বাংলায় যত সংক্রমণ হয়েছে, তার ৬০ শতাংশই পরিযায়ী শ্রমিক। ওঁদের দোষ নেই, দোষ অবিবেচক কেন্দ্রের। উৎকণ্ঠা অমূলক ছিল না, মানবেন তো বিজেপি–‌সহ বিরোধী নেতারা?‌
মিথ্যা টেলিভিশনে বক্তব্যে, সোশ্যাল মিডিয়ায়। আমাদের দেখা আছে। বসিরহাটে যখন দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা হয়েছিল, ফেসবুকে বানানো ছবি ছড়িয়েছিল অন্য রাজ্যের, অপকর্মটি করেছিলেন ভিন রাজ্যের এক বিজেপি নেত্রী, যিনি ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন। মনে আছে, মেদিনীপুরের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছিল, পুলিস অফিসার বীভৎসভাবে পেটাচ্ছেন। সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া হয়। ছবিটি গুজরাটের দু’‌বছর আগের। সম্প্রতি, তেলেনিপাড়ায় দাঙ্গা বাধানোর অপচেষ্টা হল। মিথ্যা প্রচার। ছবিটা পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নিগ্রহের। এই সঙ্কটে, উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি চলমান ছবি টেলিভিশনেও দেখা গেল। এক প্রৌঢ় বলছেন, ‘‌খেতে পাচ্ছি না, মুখ্যমন্ত্রী কিছু দিন‌।’‌ পরে সেই ভদ্রলোক জানালেন, তিনি যাত্রাশিল্পী, পাড়ার বিজেপি কর্মীরা বলেছিল, এরকম একটা দৃশ্যে অভিনয় করে দেখান। ছবি তুলে ছড়ানো হয়েছিল। .‌.‌.‌তালিকা বিশাল।
কলকাতায়, রটানো হল সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিজেপি নেতারা বলতেও থাকলেন, করোনায় মৃত হাজার হাজার মানুষের দাহ গোপনে করা হচ্ছে ধাপায়। প্রথমত, সংখ্যা কম। দ্বিতীয়ত, কোভিডের শিকার মানুষের দাহ ধাপায়, তা সরকার ও পুরসভাই জানিয়েছিল। গড়িয়া শ্মশানে কয়েকটি মৃতদেহকে আঁকশি দিয়ে টেনে নেওয়া হচ্ছে, ছবি ভাইরাল। মৃতের প্রতি অসম্মান। দায়িত্বে ছিল এক ঠিকাদার সংস্থা। ব্যবস্থা নিয়েছে কঠোর পুরসভা। স্থানীয়দের মধ্যে কারা ছড়াল এই মিথ্যা, যে, দেহগুলো কোভিডে মৃতদের?‌ উত্তর কঠিন নয়। টুইটে কুম্ভীরাশ্রু ঢেলে রাজ্যপালও বিষাক্ত প্রচার করলেন। এনআরএস–‌এর মর্গ থেকে দুর্ঘটনায় হত দাবিদারহীন কয়েকজনের দেহ পোড়ানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এমনিতে ধাপায় হয়। যেহেতু ধাপায় এখন কোভিডে মৃত মানুষদের দাহ হচ্ছে, পাঠানো হয়েছিল গড়িয়ায়। সৎকার–‌কর্মীরা অনিচ্ছুক, ভয় পাচ্ছেন, বুঝিয়ে–‌শুনিয়ে, উৎসাহ দিয়ে কাজ করাচ্ছেন পুরসভার প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। কঠিন সঙ্কটের দিনে যঁারা মিথ্যার বিষ ছড়ালেন, তঁাদের ক্ষমা করবেন?‌ লড়ছে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রশাসন, লড়ছে পুরসভা, লড়ছেন ডাক্তার, নার্স, পুলিশ কর্মীরা। তঁাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা ক্ষমার যোগ্য?‌ আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা কি শাস্তিযোগ্য নয়?‌ আসল শাস্তি দেবেন না মানুষ?
এই কুৎসিত মিথ্যাচার আর কতদিন?‌ অন্তত ২০২১ পর্যন্ত। পেট ভরাতে চাইছে বিজেপি (‌সাধ্যমতো অন্য বিরোধীরা)‌, ভোটের পেট। চাষবাস ভাল। কিন্তু মিথ্যার চাষ?‌ বিষের চাষ?‌ মনে রাখুন, চলবে বিধানসভা ভোট‌ পর্যন্ত। বঙ্গবাসীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ওঁরা কী করবেন, ওঁদের ব্যাপার। আমাদের কাজ একটাই, মিথ্যার জাল ছিন্ন করে বাংলাকে নিরাপদ হাতে রাখা।

জনপ্রিয়

Back To Top