২৬ জানুয়ারি, দিল্লিতে সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে নানা রাজ্যের ট্যাবলো ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করে। এবার বাংলার ট্যাবলোকে জায়গা দিল না কেন্দ্রীয় সরকার। ২০১৪ সালে ট্যাবলো ছিল ছৌ নাচ নিয়ে, ২০১৭ সালে বাউল সঙ্গীত নিয়ে। দু’‌বারই সেরা বিবেচিত হয় এ রাজ্যই। ২০১৬ সালে বাদ। বিষয় ছিল কন্যাশ্রী। বিজেপি–‌র এক মুখপাত্র ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, কন্যাশ্রী নিয়ে প্রচারটাই আসলে ভুল। কেন্দ্রের ‘‌বেটি বঁচাও বেটি পড়াও’‌ প্রকল্পের অনুকরণ, কৃতিত্ব প্রচারের লক্ষ্যে ‘‌কন্যাশ্রী’‌ নাম দিয়ে চালাতে চাইছে বাংলা। প্রথমত, দুই প্রকল্পে অনেক তফাত আছে। দ্বিতীয়ত, ব্যাপ্তির দিক দিয়ে কোনও তুলনায় হয় না। ওই বছর ‘‌বেটি বঁচাও বেটি পড়াও’‌ প্রকল্পে গোটা দেশের জন্য কেন্দ্রের বরাদ্দ ছিল ১০০ কোটি টাকা। আর কন্যাশ্রী প্রকল্পে বাংলাতেই রাজ্য সরকারের বরাদ্দ তখন ১২০০ কোটি টাকা। কেন্দ্রের প্রকল্প নিতান্তই প্রতীকী, বাংলা প্রকল্প মাপে বড়, প্রভাবেও বড়। এই প্রকল্পের জন্যই রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে বাংলা। এবার যথারীতি রাজ্য প্রস্তাবিত ট্যাবলো নিয়ে বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রের কাছে পেশ করেছিল। কেন্দ্রেরই দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। কিন্তু, তার পর আর উচ্চবাচ্য নেই। দু’‌মাস চলে গেল, কোনও খবর নেই। সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান এক মাস পরেই। জানার ইচ্ছা হতেই পারে, বিষয় কী ছিল বাংলার ট্যাবলোর?‌ ‘‌ঐক্যই সম্প্রীতি’‌। বুঝতে আর অসুবিধে থাকল না, বিষয়টাই দিল্লি বাহাদুরের ভাল লাগেনি। সম্প্রীতি নিয়ে ট্যাবলো, মানা যায়?‌ সম্প্রীতির প্রতিজ্ঞা ও প্রচার, মানা যায়?‌ সুতরাং, বাদ। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার ২৬ জানুয়ারি কলকাতায় রাজ্য সরকার আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ট্যাবলোই থাকবে সবার আগে। যথাযথ প্রতিবাদ।‌

জনপ্রিয়

Back To Top