প্রচারের ঢাক বাজছিল বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই। ঠাকুরনগরে মোদি আসছেন, মতুয়াদের জন্য অনেক বড় বড় ঘোষণা করে যাবেন। বিজেপি শিবির থেকে প্রচারটা ক্রমশ উচ্চগ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ২ ফেব্রুয়ারি এলেন, ১৮ মিনিট বললেন, চলে গেলেন দুর্গাপুরে। ভোট অন অ্যাকাউন্টস হওয়ার কথা, তার বদলে কার্যত পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছে তাঁর সরকার। এক আশ্চর্য বাজেট, যাতে দেদার খরচের কথা বলা আছে, কিন্তু টাকা আসবে কোথা থেকে— বলা নেই। মিথ্যা ও ভুলে ভরা বাজেটে তিনটি বিষয়ে একটি কথাও নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান!‌ সেই বাজেটেরই গোল গোল প্রকল্পের কথা ঠাকুরনগরে বলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। এমন বাজেট কখনও হয়নি, চড়া গলায় বললেন। ৫ বছরের মেয়াদে নির্দিষ্ট ৫টা বাজেট আগেই পেশ করা হয়ে গিয়েছে। এক মেয়াদে ৬টা পূর্ণাঙ্গ বাজেট!‌ বাংলার রেল প্রকল্পে কিছু নেই। সে জন্য অবশ্য লজ্জা নেই, ৫৬ ইঞ্চি বক্তৃতা দিলেন গলার জোরে। কিন্তু, আসল কথাটায় কী হল?‌ মতুয়াদের জন্য ঘোষণা, যা নিয়ে এত প্রত্যাশা?‌ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মতুয়াদের প্রিয় নেত্রী। যতবার ঠাকুরনগরে গিয়েছেন, নতুন কিছু ঘোষণা করেছেন এবং কাজটা করেও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝুলি শূন্য, আছে শুধু বুলি!‌ এমন একটাও কথা বললেন না, যাতে প্রত্যাশায় ভরপুর শ্রোতারা খুশি হতে পারেন। হ্যাঁ, একটা কথা বলেছেন। তাঁর সরকার নাগরিকত্ব বিল পাশ করাতে চাইছে। ঘটনা, অসমে যাঁদের নাম নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের অনেকেই মতুয়া সম্প্রদায়ের। মতুয়া মহাসঙ্ঘের সভানেত্রী, সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর পরিষ্কার বলে দিয়েছেন। নাগরিকত্বের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু বললেন না মোদি। অপমান করে গেলেন মতুয়া আবেগকে।

জনপ্রিয়

Back To Top