বিচার ব্যবস্থার ওপর নিশ্চয় প্রবল আস্থা আছে। সুপ্রিম কোর্ট সর্বোচ্চ বিচারালয়, আস্থা থাকবে না কেন?‌ শেষ ভরসা বিচারালয়। বিচারপতিরা, নিম্ন আদালতে বিচারকরা অনেক ক্ষেত্রে সমাজবান্ধব রায় দেন। গণতন্ত্রের অপরিহার্য স্তম্ভের প্রতি দেশবাসীর আস্থা ছিল। আছে, থাকবে। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ সম্পর্কে মন্দ কথা বলা ঠিক নয়। বললে, বিচারব্যবস্থার প্রতি হয়তো আস্থা টলে যেতে পারে। আমরা সেই পথে যেতে চাই না। তবু, কখনও কখনও সময় হাজির হয়, যখন সমালোচনা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিচারপতির উদ্দেশ্য সম্পর্কে কটাক্ষ করা যায় না, যে–‌কোনও রায়ের সমালোচনা করা যায়। রাফাল, রামমন্দির মামলার রায়ের বিরুদ্ধে প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। বিশেষত রামমন্দির মামলার রায়ের ক্ষেত্রে। অসমে ভয়ঙ্কর ‘‌এনআরসি’‌ যাতে কঠোরভাবে রূপায়িত হয়, রঞ্জন গগৈ প্রভূত পরিমাণে সক্রিয় থেকেছেন। রাফাল মামলায় অরুণ শৌরি এবং যশবন্ত সিনহা প্রচুর নথি দিয়েছিলেন, যা অনেকের মতে বিশ্বাসযোগ্য। রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ যে–‌রায় দিয়েছেন, তাতে মোদি সরকার অভিযোগমুক্ত। কেন বেশি দাম দিয়ে কেনা হয়েছিল, কেন দেশীয় সহযোগী হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যাল–‌কে উপেক্ষা করে অনিল আম্বানির সবে তৈরি হওয়া কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছিল, প্রশ্ন। রামমন্দির মামলার রায়ে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কথা স্বীকৃত, কিন্তু সেখানে মন্দির তৈরির সিদ্ধান্ত। ব্যক্তিগত আক্রমণ করব না। সম্প্রতি যা ঘটল, উল্লেখ জরুরি। অবসর নেওয়ার চার মাস পর তাঁকে রাষ্ট্রপতি–‌মনোনীত রাজ্যসভার সদস্য ঘোষণা করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এক প্রাক্তন বিচারপতি বলেছিলেন, অবসরের পর কোনও বিচারপতির সরকারি পদে আসা বিচারব্যবস্থার গায়ে বড় ক্ষত। যিনি বলেছিলেন, তাঁর নাম রঞ্জন গগৈ।‌

জনপ্রিয়

Back To Top