‌‌নব ইতিহাস

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বললেন, কাশ্মীরের ইতিহাস নতুন করে লেখানো হবে। যা আছে, তা ভুল। ইতিহাস ‘‌পাল্টে’‌ দেওয়ার অকাজ আগেই শুরু হয়েছে। রামায়ণকে পুরাণের বদলে ইতিহাস বলে দেখানো ভাবা যায়?‌ মোদি–‌শাহর সরকার, যোগী আদিত্যনাথের সরকার অযোধ্যায় রামচন্দ্রকে নিয়ে, তাঁর জীবন নিয়ে, ‘‌ঐতিহাসিক’‌ সংগ্রহশালা করছে!‌ কাশ্মীরের ইতিহাস অমিতজি জানেন?‌ ‘‌নতুন ইতিহাস’‌ লিখতে বা লেখাতে গেলে, জানা তো দরকার। রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি জনগণের আন্দোলন শুরু হয় ১৯৩০ সালে, শেখ আবদুল্লার নেতৃত্বে। ধর্মীয় অনুষঙ্গ ছিল না। জননেতা শেখ আবদুল্লা লড়াই করেই প্রবাদপ্রতিম হয়ে ওঠেন। দেশ ভাগের পর, তিনি নিখাদ ভারতপন্থীই থেকেছেন। সঙ্গে কাশ্মীরিয়ৎ। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের হয়ে দুরন্ত সওয়াল করেছেন। সেই ‘‌ইতিহাস’‌ মুছে দেওয়া যাবে?‌ শেখ আবদুল্লার পুত্র ফারুখ আবদুল্লা আগাগোড়া ভারতপ্রেমিক। অমিত শাহদের মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, তিনি বাজপেয়ী মন্ত্রিসভায় ছিলেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠস্বর স্পষ্ট। পাল্টে দেবেন?‌ মেহবুবা মুফতিকেও আটক করা হয়েছে, ‘‌বিপজ্জনক’‌ হিসেবে। কিছু মাস আগেই যে–‌সরকার ছিল রাজ্যে, সেখানে মেহবুবার পিডিপি–‌র শরিক ছিল বিজেপি!‌ অমিত শাহ বলছেন, প্যাটেল চাননি, জওহরলাল নেহরুর একক সিদ্ধান্তেই ১৯৪৮–‌এ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামিয়েছেন। মিথ্যা। ছিল মন্ত্রিসভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। এবং সেই সরকারে ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। ৩৭০ ধারার ক্ষেত্রেও কোনও আপত্তি করেননি শ্যামাপ্রসাদ। ইতিহাস। মহারাজা হরি সিং প্রথমে ভারতে ঢুকতে রাজি হননি। প্যাটেলের চাপে নয়, শেখ আবদুল্লার চাপেই সই করেছিলেন চুক্তিতে। অমিতজি, যাযাবর ছদ্মনামে বিখ্যাত বিনয় মুখোপাধ্যায়ের ‘‌ঝিলম নদীর তীরে’‌ বইটি পড়ে নিন। বীরশ্রেষ্ঠ ব্রিগেডিয়ার ওসমানের কথায় উজ্জ্বল। পাল্টে দেবেন?‌