বালাকোটের ঘটনার পর ভারতীয় সেনাকে নিয়ে রাজনীতির ঝড় উঠেছিল। অভিযোগ ওঠে, দেশের শাসকদল দেশের সেনাবাহিনীকে প্রচারের কাজে ব্যবহার করছে। তাদের ঢাল বানিয়েছে। সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করেছে বিরোধীদের পর্যুদস্ত করতে। দেশের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনীর কর্তব্যকে দলের এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কৃতিত্ব হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলেছে। এই অভিযোগ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সিন্ধান্ত নেয়, ভোটের প্রচারে কোনওভাবেই সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ আনা যাবে না। এই নিয়ম মানা হল না। গাজিয়াবাদে ভোটের প্রচারে দেশের সেনাবাহিনীকে ‘‌মোদি কা সেনা’‌ বললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এ শুধু নিয়ম ভাঙা নয়, সেনাবাহিনী এবং দেশকে অপমান করাও বটে। বিরোধীরা তুললেন জোর আপত্তি। প্রতিবাদ করলেন একাধিক প্রাক্তন সেনাকর্তা। বিধিভঙ্গের দায়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে শো–‌কজ করল নির্বাচন কমিশন। জবাব গেল। সংবাদে প্রকাশ, সেই জবাবে নাকি খুশি হল না কমিশন। সবাই ভেবেছিল, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশন  বুঝিয়ে দেবে, এই ধরনের গুরুতর ঘটনা তারা শক্ত হাতে সামলাতে জানে। কিন্তু কার্যত পর্বতের মূষিক প্রসব হল। যোগী আদিত্যনাথ নরম ভৎর্সনায় অপরাধমুক্ত হলেন!‌ সহজভাবে বলতে গেলে, কমিশন একটু বকে দিয়েছে মাত্র। বিরোধীরা এই ‘‌শাস্তি’‌র  সমালোচনা করছেন।  ঠিক করছেন না। কমিশন বরং বেশি করে ফেলেছে। সবার জন্য বকুনি একরকম নয়। ভাল ছেলেদের বকতেও হয় না। চোখ পাকালেই হয়। যার রাজ্যে গোমাংস থাকার অভিযোগে পিটিয়ে মারবার মতো ঘটনা ঘটে, তিনি ‘‌ভাল ছেলে’‌ নন?‌ উনি তো ‘‌মোদির সেনা’‌ বলেছেন, ভারতবর্ষকে তো ‘‌মোদিবর্ষ’‌ বলেননি, ভারতবাসীকে তো ‘‌মোদিবাসী’ বলেননি। তাহলে কেন এত আপত্তি‌?‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top