‌হাতের মুঠোয়

প্রধানমন্ত্রী তথা তাঁর সরকারের হাতে দেশচালনার দায়িত্ব–‌ক্ষমতা থাকবে, প্রত্যাশিত। গণতান্ত্রিক সরকার হলে বিরোধীদের সঙ্গে কথা হওয়া উচিত, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের। প্রধানমন্ত্রীর। নরেন্দ্র মোদির পঁচিশটা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের তীব্র আপত্তি থাকতে পারে, ঔচিত্য নিয়ে তীব্র অভিযোগ থাকতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে কিছু বলার থাকে না। সমস্যা হল, মোদিজি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজেও নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন। সিবিআই। এমনিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অধীন। কিন্তু, ন্যূনতম স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করবে সর্বোচ্চ তদন্ত সংস্থা, শাসকের কথায় একশোয় একশো চলবে না, বেছে বেছে বিরোধী পক্ষের লোকেদের অপদস্থ করবে না, মানুষ আশা করেন। এসব তো হয়েছেই গত পাঁচ বছরে, সিবিআই–‌এর অভ্যন্তরীণ ব্যাপারেও নাক গলানো হয়েছে। অসভ্যতার চূড়ান্ত, সিবিআই অধিকর্তাকে মধ্যরাতের অপারেশনে সরিয়ে দিয়েছেন, ঘনিষ্ঠ অফিসারকে বসিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, সে জন্য অবশ্য তিরস্কৃতও হতে হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আরবিআই। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বশাসিত কাঠামোকেও ধ্বংস করা হয়েছে। বিরক্ত গভর্নর উর্জিত প্যাটেল অসময়ে সরে গেছেন। জানা গেল, নোটবন্দি নিয়ে কিছু প্রশ্ন ছিল বোর্ডের সদস্যদের, প্রধানমন্ত্রী কিন্তু ঘোষণা করে দেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন (‌যা বাধ্যতামূলক)‌ আসার আগেই। নির্বাচন কমিশন। পাঁচ রাজ্যে ভোটের দিন ঘোষণার জন্য দুপুর ১২টায় সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশন। ঠিক ছিল, তার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে প্রধানমন্ত্রীর গুচ্ছ প্রকল্প উদ্বোধনের অনুষ্ঠান। দেরি হল মোদিজির এবং সাংবাদিক বৈঠক অনেক পিছিয়ে গেল। লোকসভা ভোটের ঘোষণা ৫–‌৬ মার্চের মধ্যেই হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল, হল ১০ মার্চ, রবিবার। প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প উদ্বোধন (‌১৫৭, পুরনো বেশ কিছু এবং কয়েকটির সম্ভাবনাই নেই)‌ শেষ হল ৪টে ২৬ মিনিটে। সাংবাদিক বৈঠক ৫টায়। আর কত?‌‌‌‌