সংবাদে প্রকাশ, স্কুলে এবার থেকে পড়ানো হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবনকথা। তাঁর জীবনের ‘‌লড়াই’‌, ‘‌উত্থান পতন’, দেশকে ‘‌এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যম’‌ জানবে শিশুমন। অতি উত্তম উদ্যোগ। এই শুভ কাজের মূল উদোক্তা মহারাষ্ট্র সরকার। মাননীয় প্রধানন্ত্রীর জীবন সম্পর্কে সেই রাজ্যের ছো‌টদের জানবার যে ‘‌অদম্য কৌতূহল’‌ তা মেটাতে বিপুল আয়োজন শুরু হয়েছে। মোট চার ভাষায় বই তৈরি হচ্ছে। মারাঠি, হিন্দি, ইংরেজি ও গুজরাটি। রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর প্রায় দেড় লক্ষ মোদি জীবন চরিত কিনতে চলেছে। বিলি হবে বিনি পয়সায়। আহা!‌ যেসব‌ ‌বইয়ের প্রকাশক ইতিমধ্যে ‘‌মোদিকথা’‌ ছেপে ফেলেছেন তাঁরা নিশ্চয় খুশিতে ডগমগ। তবে মহারাষ্ট্র সরকারের বোধবুদ্ধি আছে। মাননীয় মোদিজির জীবনীর পাশাপাশি তারা অন্য মনীষীদের জীবন পড়ানোর কথাও ভেবেছেন। আছেন মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, বি আর আম্বেদকার, এপিজে আবদুল কালাম। নিন্দুকেরা চট করে  বলতে পারবে না, সেকি!‌ সব বাদ দিয়ে শুধু নরেন্দ্র মোদি!‌ যদিও নিন্দুক বড় কঠিন ‘‌বস্তু’‌। এর মধ্যেই তাঁরা বলতে শুরু করে দিয়েছেন। বলছেন, আসলে মোদিজিকে ‘‌মনীষী’‌ প্রমাণ করবার জন্যই অন্য ‘‌বড়’দের সঙ্গে এক সারিতে বসানো হল। ছোটরা যাতে জানতে পারে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একজন বিরাট মাপের মানুষ। মহাত্মা গান্ধীও যা উনিও তাই। বরং ওজনে খানিকটা বেশিই বলা যেতে পারে। নইলে মহারাষ্ট্র সরকার ‘‌গান্ধীর জীবনকথা’‌র (‌‌৪৩৩৪টি)‌ থেকে ‘‌মোদির জীবনকথা’‌ (‌‌১,৪৯,৯৫৪টি)‌ বেশি কিনতে চলেছে কেন?‌ তা হলে বড় কে?‌ আমাদের আশা রইল, কিছুদিনের মধ্যে নোটেও গান্ধীজির বদলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখের ছবি পাব। আশা, সেই নোট চট করে বাতিল হবে না।

জনপ্রিয়

Back To Top