গুরুদাস দাশগুপ্ত প্রয়াত হলেন। গত কয়েক বছর সক্রিয় ছিলেন না। বসে থাকার বা বসে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না। অসুস্থতাই কারণ। অনাড়ম্বর জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন। বলা যায়, সাধারণ জীবনযাপনকেই বেছে নিয়েছিলেন। দীর্ঘ দিনের সাংসদ, জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ, চাইলে একটু ভালভাবে থাকতেই পারতেন। চেতলায় যে–‌আবাসনে থাকতেন, তিন তলায়, লিফট ছিল না। অশীতিপর নেতা চেষ্টাও করেননি। সাংসদ হিসেবে দিল্লির ভিটলভাই প্যাটেল হাউসে যে–‌ফ্ল্যাট তাঁর নামে বরাদ্দ ছিল, যাঁরা গেছেন তাঁরা জানেন, বাহুল্যের, স্বাচ্ছন্দ্যের কোনও ছাপ ছিল না। রাজনীতির সঙ্গে জীবনকে মিশিয়ে দিয়েছিলেন গুরুদাস দাশগুপ্ত। ছাত্র ফেডারেশনের অগ্রগণ্য নেতা। ছাত্র আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা রাজনৈতিক শত্রুরাও স্বীকার করেন। না করে উপায় নেই। মত প্রকাশে কোনও দ্বিধা ছিল না। একটা সেমিনারের কথা মনে পড়ে। প্রণব মুখার্জি, চন্দ্রশেখরের মতো বড় নেতারা উপস্থিত। আলোচ্য, রাজ্যপাল পদটা থাকা উচিত কি না। চন্দ্রশেখর সরাসরি বলেছিলেন, রাজ্যপাল থাকা দরকার। প্রণব মুখার্জি বলেন, রাজ্যপাল পদের অপব্যবহার হয়েছে, হতে পারে। নির্বাচিত রাজ্য সরকারের ওপর খবরদারিও সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু, কিছু কারণে রাজ্যপাল পদটা থাকা উচিত। বিরোধী পক্ষে কার্যত একাই গুরুদাসবাবু পাল্টা বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করলেন। বিতর্কের পর, শ্রোতাদের মত নিয়ে দেখা গেল, প্রায় সমান–‌সমান। এবং, যখন বলছিলেন নিজের কথা, অন্যদের আক্রমণ করেননি, আক্রমণ করেছেন মূল বিষয়ে, অজস্র উদাহরণ–‌সহ। মনে আছে, মৌলালি যুবকেন্দ্রে তাঁর একটা বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্যোতি বসু। স্পষ্ট বলেন, এমন নেতা দেশের সম্পদ। কমিউনিস্ট পার্টির বিভাজনের পরেও, তিক্ততা সত্ত্বেও, যোগ্য গুরুদাসকে যথাযথ সম্মান দিয়েছিলেন জ্যোতিবাবু। বামপন্থী নেতা, দক্ষ সাংসদ, সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় শ্রমিক নেতা হিসেবে। সরকার পাল্টেছে, তাঁর শ্রমিক–‌দরদি অবস্থান পাল্টায়নি। সৎ, নিষ্ঠাবান, জনদরদি নেতার প্রয়াণে শোকাহত সচেতন মানুষ।  ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top