বিহারের বেগুসরাই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সিপিআই প্রার্থী কানহাইয়া কুমার লোকসভায় যেতে পারবেন কিনা, বলা কঠিন। কাজটা সহজ নয়। যদি বিজেপি–‌বিরোধীদের সর্বসম্মত প্রার্থী হতেন, সম্ভাবনা ছিল উজ্জ্বল। এতটাও বলা যায়, জয় প্রায় নিশ্চিত ছিল। বেগুসরাইয়ে পঞ্চাশ বছর ধরেই সিপিআই–‌এর প্রভাব। কখনও কখনও কমেছে, কিন্তু কমবেশি ২ লক্ষ ভোট দুঃসময়েও পেয়েছে দল। সেই বেগুসরাইয়ের ভূমিপুত্র কানহাইয়া। দরিদ্র পরিবার, মেধার জোরে ভর্তি হতে পেরেছেন জেএনইউ–‌এ। এতদিনে পিএইচডি হয়ে গিয়েছেন। সারা ভারত তাঁর নাম জেনেছিল জেএনইউ–‌এ সঙ্ঘ পরিবারের হামলার বিরুদ্ধে প্রগতিশীল ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের সূত্রে। তাঁর ভাষণ বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হয়ে ঝড় তোলে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি হলেও, ক্যাম্পাসের বাইরে বিশেষ পরিচিতি ছিল না তাঁর। সেই সান্ধ্য বিস্ফোরণের পর দেশের নানা জায়গায় ডাক পড়ে কানহাইয়ার, গেরুয়া হামলার বিরুদ্ধে বলার জন্য। গত তিন বছরে ৭৬২টি সভায় শোনা গেছে তাঁর দৃপ্ত ভাষণ। তেজস্বী যাদব বেগুসরাই কেন্দ্র ছাড়তে রাজি হলেন না। বিহারের নবীন 
নেতা হিসেবে প্রতিপক্ষ ভাবলেন?‌ হাস্যকর। লোকসভা ভোটে লড়ার জন্য অন্তত ৭০ লক্ষ টাকা দরকার। তাঁর সামর্থ্য নেই, দলেরও না। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুদান চাইলেন তরুণ নেতা। ৭০ লক্ষ এসেও গিয়েছে। কেউ দিয়েছেন ১০ হাজার, কেউ ১০ টাকা। তিনি লড়ছেন। প্রতিপক্ষ কুখ্যাত বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং। কানহাইয়া ব্যক্তিগত আক্রমণে নেই, বলছেন সঙ্ঘ পরিবারের রাজনীতির বিরুদ্ধে। বলছেন সাধারণ মানুষের ‘‌মন কি বাত’‌।‌ আরজেডি–‌র বিরুদ্ধে কার্যত নীরব। কেন?‌ কানহাইয়া কুমার বলছেন, নির্বাচন একটি রাজনৈতিক সংগ্রাম। দেশের সর্বনাশ যারা ডেকে আনছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই বলে যাবেন। ফল নিয়ে ভেবে বিরোধীদের আক্রমণ করবেন না। যেন টাটকা বাতাস।

জনপ্রিয়

Back To Top